২০২৫ সালের শুরু থেকেই মার্কিন শেয়ারবাজারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে, আর সেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দুটি নির্দিষ্ট স্টক যেগুলোকে মার্কিন সরকার সরাসরি সমর্থন দিচ্ছে। একদিকে রয়েছে NVIDIA (এনভিডিয়া), যারা দীর্ঘদিন ধরে গ্রাফিক্স প্রসেসিং ইউনিট (GPU) নির্মাতা হিসেবে বিশ্ববাজারে শীর্ষে অবস্থান করছে এবং এখন AI বিপ্লবের সবচেয়ে বড় চালক হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে রয়েছে Palantir Technologies (প্যালান্টিয়ার টেকনোলজিস), যারা সরকারি সংস্থা এবং প্রতিরক্ষা খাতের সঙ্গে কাজ করে বড় ডেটা অ্যানালিটিক্স এবং AI সমাধান প্রদান করছে। এই দুই প্রতিষ্ঠানের প্রতি মার্কিন সরকারের বাড়তি আস্থা শুধু তাদের বাজারমূল্য বাড়াচ্ছে না, বরং বিশ্ব অর্থনীতিতেও নতুন ধারা তৈরি করছে।

18 August 2025 | Pic: Collected
NVIDIA দীর্ঘদিন ধরে AI চিপস নির্মাণে প্রাধান্য বিস্তার করেছে। এর GPU বা গ্রাফিক্স প্রসেসিং প্রযুক্তি এখন কেবল গেমিং নয়, বরং AI মডেল ট্রেনিং, ডিপ লার্নিং, রোবোটিক্স এবং সুপারকম্পিউটিং-এর জন্য অপরিহার্য। বর্তমানে বড় বড় টেক কোম্পানি থেকে শুরু করে সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো পর্যন্ত NVIDIA-র চিপস ব্যবহার করছে। এর ফলে এই কোম্পানিটি বিশ্বব্যাপী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ক্ষেত্রে অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। মার্কিন সরকার সম্প্রতি বিভিন্ন প্রতিরক্ষা ও গবেষণা প্রকল্পে NVIDIA-র হার্ডওয়্যার ব্যবহারের ওপর জোর দিচ্ছে, যা কোম্পানিটির আয়ের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করছে।
অন্যদিকে Palantir মূলত ডেটা অ্যানালিটিক্স এবং AI-ভিত্তিক সমাধানে দক্ষ। এর প্ল্যাটফর্ম Gotham এবং Foundry এখন মার্কিন প্রতিরক্ষা, গোয়েন্দা সংস্থা এবং স্বাস্থ্যখাতসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়। Palantir কেবল ডেটা সংগ্রহই করে না, বরং তা বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে। উদাহরণস্বরূপ, যুদ্ধক্ষেত্রের কৌশল নির্ধারণ, স্বাস্থ্যসেবার জটিল তথ্য প্রক্রিয়াকরণ কিংবা সাইবার নিরাপত্তা — এসব ক্ষেত্রে Palantir কার্যকর ভূমিকা রাখছে। মার্কিন সরকার সরাসরি এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বহু কোটি ডলারের চুক্তি করেছে, যা কোম্পানিটির আর্থিক প্রবৃদ্ধিকে আরও শক্তিশালী করছে।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, এই দুই কোম্পানি শুধু শেয়ারবাজারে নয়, বরং মার্কিন অর্থনীতির ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ২০২৫ সালকে তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার স্বর্ণযুগ হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন। তবে বিনিয়োগকারীদের জন্য এখানেই প্রশ্ন — এই সুযোগ কি দীর্ঘস্থায়ী হবে, নাকি দ্রুতগতির বাজার পরিবর্তন ঝুঁকি তৈরি করবে? বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, AI সেক্টরে প্রতিযোগিতা ক্রমেই বাড়বে। Google, Microsoft এবং Amazon-এর মতো জায়ান্টরা ইতোমধ্যে এই প্রতিযোগিতায় নেমেছে। তবে সরকার যেসব প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা দেখাচ্ছে, তারা আপাতত নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।
NVIDIA-র শেয়ারের দাম গত এক বছরে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে, আর Palantir উল্লেখযোগ্যভাবে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি করেছে। বিশেষ করে সরকারি প্রকল্প থেকে আয় বাড়ার ফলে Palantir নতুন বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। অনেকেই মনে করছেন, প্রতিরক্ষা এবং নিরাপত্তা খাতে সরকারি নির্ভরতার কারণে Palantir দীর্ঘমেয়াদে আরও শক্তিশালী হবে। অন্যদিকে, NVIDIA ইতোমধ্যেই টেক খাতে একপ্রকার ‘রাজত্ব’ কায়েম করেছে। তাদের চিপস ছাড়া বড় AI প্রকল্প কল্পনা করাই কঠিন।
তবে ঝুঁকিও রয়েছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, যদি বাজারে অতিরিক্ত প্রত্যাশা তৈরি হয় এবং কোম্পানিগুলো সেই প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়, তাহলে বিনিয়োগকারীদের ক্ষতির ঝুঁকি বাড়তে পারে। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা, সাপ্লাই চেইন সমস্যা এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে প্রযুক্তি নিয়ে দ্বন্দ্ব NVIDIA-র জন্য বড় হুমকি হতে পারে।
তবুও সামগ্রিক চিত্রে দেখা যাচ্ছে, মার্কিন সরকার যখন AI প্রযুক্তিকে ভবিষ্যতের অর্থনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার প্রধান ভিত্তি হিসেবে চিহ্নিত করছে, তখন এই খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিনিয়োগকারীদের জন্য তাই NVIDIA এবং Palantir আপাতত সবচেয়ে আকর্ষণীয় নাম, যাদের সাফল্যের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে মার্কিন অর্থনীতির ভবিষ্যৎ।




