ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) এক সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা দিয়েছেন, “অনুকূল পরিবেশে ভারত–বাংলাদেশের নানা স্বার্থসংশ্লিষ্ট ইস্যুতে আলোচনা শুরু করতে আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত।” তিনি উল্লেখ করেন, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অধিকাংশ বিষয়—ব্যবসা, পানিবণ্টন, নিরাপত্তা, অর্থনীতি—নিয়ন্ত্রণ করার জন্য দুই দেশের মধ্যে একটি ‘প্রতিষ্ঠিত কাঠামো’ রয়েছে ।

Source: Jugantor | 27 June 2025 | Pic: Collected
এই মন্তব্য এমন এক সময়ে আসে যখন ভারতের সংসদের পররাষ্ট্র বিষয়ক স্থায়ী কমিটি চলছে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা। ওই বৈঠকে থাকার কথা রয়েছে ভারতের সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা শিব শঙ্কর মেনন, অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল আতা হাসনাইন, ঢাকায় ভারতের সাবেক হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলি দাস, এবং জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অমিতাভ মাত্তু ।
রঞ্জনধীর জয়সোয়াল আরও বলেন, “১৯৯৬ সালের গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তি নবায়নের মতো বিষয়ও অনুকূল প্রেক্ষাপটে আলোচ্য। আমরা চাই এমন পরিবেশে আলোচনার সূচনা, যা দুদলের একে অপরের স্বার্থ রক্ষা করে।”
উল্লেখ্য, সম্প্রতি বাংলাদেশ অংশ নিয়েছে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে, যেখানে চীন ও পাকিস্তানও ছিল। এ প্রসঙ্গে জয়সোয়াল বলেন, “প্রতিবেশী দেশগুলোর এমন কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্নভাবে নজরদারি করছি, কারণ এগুলো ভারতের স্বার্থ ও নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করতে পারে। প্রতিটি দেশ-ভারতের সঙ্গে আলাদা সম্পর্ক রাখছে, তবে সেইসবকে সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে মূল্যায়ন প্রয়োজন।”
আলোচ্য বিষয়বস্তুর সম্ভাবনা:
- রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা: বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর বিশেষ মনযোগ—বিশেষ করে ধর্মীয় মৌলবাদের উপরে উঠা ও তার ভারতীয় নিরাপত্তা প্রভাব নিয়ে আলোচনা হবে ।
- চীন–বাংলাদেশ সংযোগ: শেখ হাসিনা সরকারের পরে চীন-বাংলাদেশ মধ্যকার কৌশলগত স্বীকৃতি এই আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ সূক্ষেপ হয়ে ওঠেছে ।
- বাংলাদেশে ভারতের ভাবমুদ্রা: ভারতের একক সমর্থন নিয়ে ঢাকার জনগণের মধ্যে নানা নেতিবাচক ধারণা রয়েছে—এই ইস্যুও আলোচনায় আসছে ।
- আন্তর্জাতিক সমন্বয়: সংসদের সদস্যদের সমালোচনায় অংশগ্রহণে বলা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র, ইইউ ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গে মিলেমিশে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কাঠামো গড়ে তোলা জরুরি হতে পারে ।
ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে উন্মুক্ত, কৌশলগত ও যুগোপযোগী আলোচনার ইঙ্গিত—যদি পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি উপযোগী হয়। দ্য হিন্দুর সংবাদ অনুসারে, এই কথাগুলো উচ্চ পর্যায়ের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত বৈঠকের প্রেক্ষাপটে এসেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে নতুন যুক্তির ভিত্তিতে একটি সংলাপ কাঠামো প্রয়োজন—যেখানে রাজনৈতিক স্বার্থ, নিরাপত্তা, অর্থনীতি, কূটনৈতিক ভাবমুদ্রা—সবকিছু সমন্বিত আলোচনায় আসবে। ভারতের দায়িত্বপূর্ণ অবস্থান বাংলাদেশের প্রতিফলনমূলক ভূমিকাকে সহায়তা করবে।
ভারত নিঃসন্দেহে প্রস্তুত বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন অধ্যায় লেখার—যদি সুযোগ এবং ‘অনুকূল পরিবেশ’ তৈরি হয়। সেই সুযোগে রাজনৈতিক সংকট, নিরাপত্তা হুমকি, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও কূটনৈতিক ভাবমুদ্রা—সবগুলো আলোচ্য হবে উন্মুক্ত মঞ্চে।
আগামী দিনে সংসদীয় কমিটিতে উঠে আসা সিদ্ধান্তগুলি এই সংলাপের সূচনা হতে পারে, যা ঢাকা ও নয়াদিল্লির সম্পর্কের ভবিষ্যত রূপ দেখাবে।



