অস্ট্রেলিয়ার বিখ্যাত বন্ডি বিচে হানুক্কাহ উৎসবের সময় ভয়াবহ বন্দুকবাজ হামলায় কয়েক ধরণের নিরপরাধ লোক নিহত ও আহত হওয়ার ঘটনায় আন্তর্জাতিক জনমনে এক ব্যক্তি বিশেষভাবে আলোচিত হচ্ছেন — তিনি হলেন ৪৩ বছর বয়সী আহমেদ আল আহমেদ (Ahmed al Ahmed), যিনি অজ্ঞাত বন্দুকধারীর হাতে থাকা ভয়াবহ অস্ত্রটি শরীর ঝুঁকির মধ্যেও ছিনিয়ে নিতে সক্ষম হন এবং এই এক সাহসী কাজের কারণেই তিনি অনেক লোকের জীবন রক্ষা করেছিলেন বলে পুলিশ ও নেতারা মন্তব্য করেছেন; ভিডিও ফুটেজেও দেখা যায় যে যখন হামলাকারীর গুলি চালাতে থাকে, তখন জনসমুদয়ের মধ্যে আহমেদ পিছন থেকে এগিয়ে যেয়ে ওই বন্দুককে বার করে ফেলেন এবং অস্ত্রটি একটি গাছের সাথে রেখে দেন, এতে হামলাকারী আক্রমণ চালানো থেকে বিরত হন ও লোকজনকে পালানোর সময় কম জটিলতা আসে — যদিও তিনি নিজেও দু’বার গুলিবিদ্ধ হন এবং বর্তমানে স্ট জর্জ হাসপাতাল, সিডনি-তে চিকিৎসাধীন আছেন।

16 Dec 2025 | Pic: Collected
এই ঘটনাটি ১৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ঘটে, যখন প্রায় ১,০০০ জন লোক বন্ডি বিচ পার্কে একটি জিউইশ হানুক্কাহ উৎসবে অংশ নিচ্ছিল। বন্দুকবাজরা আততায়ী হামলা চালানোর পর যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উদ্বেগ ও শোকের কমেন্ট এসেছে, এবং আহমেদ-এর সাহসিকতা নিয়ে অনেকে প্রশংসা করেছেন; নিউজ সংস্থা Reuters জানায়, আহমেদ আত্মীয়রা জানিয়েছেন তিনি সাধারণত একটি টোব্যাকো ও কনভেনিয়েন্স স্টোরের মালিক, যিনি ২০০৬ সালে সিরিয়া থেকে অস্ট্রেলিয়ায় এসে নাগরিকত্ব নিয়েছিলেন এবং পরিবার-সহ থাকেন। গতকাল রাতেই অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ তাকে “আমাদের দেশের সর্বোত্তম ব্যক্তি” বলে অভিহিত করেছেন এবং নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস মিন্স বলেছেন, “তার সাহসিকতার জন্য আমরা সকলেই কৃতজ্ঞ — তার কারণে বহু মানুষের জীবন বাঁচানো সম্ভব হয়েছে।” আহমেদকে বর্তমানে সজাগ অধ্যবসায়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং তিনি ক্রমেই ভালো হচ্ছেন বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে; বিভিন্ন আন্তর্জাতিক নেতারাও তাকে ‘নিরাপত্তা রক্ষাকারী ও সাহসিকতার প্রতীক’ হিসেবে সম্মান জানিয়েছেন এবং অস্ট্রেলিয়ান সমাজে তার কাজ একটি অনন্য মানবিক দৃষ্টান্ত হিসেবে আলোচিত হচ্ছে।
আহমেদের পরিবারও জায়গা-জমিতে তিনি একটি সাধারণ ব্যক্তি ছিলেন — খুচরা ব্যবসা করার পাশাপাশি তিনি দুই কন্যার বাবা এবং তার পরিবারের কাছে তিনি এক আত্মবিশ্বাসী ও মানবিক মানুষ হিসেবে পরিচিত, তার চাচা বলেছেন তিনি কোনও বন্দুক বা যুদ্ধ-অভিজ্ঞতা ছাড়াই সামনে এগিয়ে যান এবং অস্ত্রটি ছিনিয়ে নিতে উদ্যোগী হন কারণ তিনি “দেখতে পারেননি কেউ কেউ মারা হচ্ছে এবং কেউ কেউ বাঁচার লড়াই করছে”, এমন একটি মানবিক প্রেরণাই তাকে এগিয়ে নিয়েছিল। আহমেদ হামলার সময় গুরুতর আহত হলেও সাম্প্রতিক সময়ে তার উন্নতি পরিলক্ষিত হচ্ছে এবং তার পাশে গোটা দেশ ও বিশ্বব্যাপী অসংখ্য মানুষ তার জন্য প্রার্থনা করছে; একটি অনলাইন GoFundMe তহবিলেও তার জন্য লক্ষাধিক অস্ট্রেলিয়ান ডলার দান সংগ্রহ করা হয়েছে, যা তার চিকিৎসা ব্যয় ও দ্রুত আরোগ্যের জন্য ব্যবহৃত হবে।
এই ভয়াবহ হামলায় কমপক্ষে ১৫ জন নিহত ও ৪০ জনের বেশি আহত হয়েছিল, যেখানে বেশিরভাগ ছিলেন পরিবার-সহ উৎসব উদযাপনে আসা সাধারণ মানুষ, অন্তত একটি ১০ বছর বয়সী শিশুর মৃত্যুও ঘটেছে এবং হামলাকারীদের মধ্যে একজনকে পুলিশ ঘটনাস্থলেই গুলিতে হত্যা করেছে, অপরজনকে কর্তৃপক্ষ আটক করেছে এবং তিনি বর্তমানে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতাল-চিকিৎসাধীন রয়েছে। বন্দুকবাজদের উদ্দেশ্য একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সহিংসতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এই হামলা আন্তর্জাতিক ও স্থানীয়ভাবে তীব্র উদ্বেগ ও নিন্দা সৃষ্টি করেছে।
আহমেদ-এর এই সাহসী আচরণ শুধু অস্ট্রেলিয়াতেই নয়, বাকি বিশ্বের সংবাদমাধ্যমেও ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে এবং অনেকেই তাকে “অস্ট্রেলিয়ার নতুন নায়ক” হিসেবে অভিহিত করছেন; তার বিরুদ্ধে হামলার বিপদ থাকা সত্ত্বেও তিনি বলেছিলেন নিজের পরিবার-সম্পর্কে চিন্তা না করে তিনি অন্যদের বাঁচাতে প্রাণ বাজি রেখেছেন — এই মানবিক ও সাহসিকতা বিশ্বের কাছে এক অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে এবং বহু লোক এখন তার দ্রুত আরোগ্য ও সম্মানসূচক পুরস্কার প্রদানের দাবিও করছে।




