ঢাকা-দিল্লি কূটনৈতিক সম্পর্ক বর্তমানে উত্তেজনা ও সতর্কতার মেজাজে রয়েছে, যেখানে দিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশনে হামলা-চেষ্টার ঘটনা এবং পরবর্তী সরকারি পদক্ষেপগুলো সমস্যা তৈরি করেছে। গত ২৩ ডিসেম্বর বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আবারও দিল্লির হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা-কে তলব করেছে এবং তাকে ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের আহ্বান জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে বলা হয়েছে, দিল্লি, শিলিগুড়িসহ অন্যান্য স্থানে পুনরায় এমন ঘটনা না ঘটে তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এতে বিষয়টি কেবল কূটনৈতিক নয়, নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের একটি গুরত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
25 Dec 2025 | Pic: Collected
দিল্লির হাইকমিশনারের এই দ্বিতীয়বারের তলব করা হচ্ছে মাত্র ১০ দিনের মধ্যে, যা দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের যে কৌশলগত সূক্ষ্মতা তা আরও জটিল করে তুলেছে। এই তলবের পেছনে মূল কারণ হলো বাংলাদেশ হাইকমিশনের বিপরীতে হামলা-চেষ্টা, যা কূটনীতিকদের মতে সহমর্মিতা ও সম্মান বজায় রেখে সমাধান করতে হবে এমন একটি সংবেদনশীল ইস্যু। পাশাপাশি ২০ ডিসেম্বর ঢাকা-হাইকমিশনের ভিসা প্রদান অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে, যা সাধারণ পর্যটক, ব্যবসায়ী ও শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাভাবিক পরিবহণ ও ভ্রমণের ক্ষেত্রে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
দিল্লি-হাইকমিশনে হামলা-চেষ্টার ঘটনা ঘটে কিছুদিন আগে, যা বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনের উপর আক্রমণাত্মক আচরণ হিসেবেই ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। এই ঘটনায় বাংলাদেশের সরকার দৃঢ় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনৈতিক দায়িত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে।
এই উত্তেজনার মধ্যে, দিল্লি শহরকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যেই বড় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ইস্যুগুলো সামনে এসেছে; যেমন ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে দিল্লির Red Fort এলাকায় একটি গাড়িবিস্ফোরণ (Car explosion) সংঘটিত হয়, যেখানে কমপক্ষে ১৫ জন নিহত ও অন্তত আরও ২০ জন আহত হয়। ভারত সরকার এই বিস্ফোরণকে একটি সন্ত্রাসবাদী আকর্ষণ হিসেবে অভিহিত করেছে এবং ব্যাপক তদন্ত পরিচালনা করছে।
এই বিস্ফোরণ ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত গড়বড়ে পরিস্থিতি এমন এক সময় ঘটেছে যখন দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন অংশেই রাজনৈতিক এবং সীমান্ত-সম্পর্কিত উত্তেজনা তীব্র হয়ে উঠছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, কলকারনির এই ঘটনাগুলি কেবল একটি পৃথক হোমগ্রোন সমস্যা নয়, বরং এটি নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনরায় মূল্যায়ন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে।
দিল্লি প্রশাসন নিরাপত্তা-চেতনা বৃদ্ধির জন্য ইতোমধ্যেই বিভিন্ন প্রস্তুতি ও নীতি বাস্তবায়ন করছে। এতে অন্তর্ভুক্ত আছে:
- নগর নিরাপত্তা সন্নিকট পর্যালোচনা ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার উন্নতি – যেখানে সিবিটিভি, সেন্সর, ও অ্যালার্ম সিস্টেম বাড়ানো হচ্ছে।
- সিভিল ডিফেন্স ও জরুরি প্রস্তুতির নিরীক্ষণ অনুশীলন ও কৌশলগত পরিকল্পনা – যাতে করে সম্ভাব্য বিপর্যয় পরিস্থিতিতে দ্রুত উত্তর দেয়া যায়।
- হেলথসেক্টর জরুরি প্রস্তুতি ‘ওয়ারজোন’ অনুশীলন – যাতে বিস্ফোরণ বা হামলার মতো মাস ক্যাসুয়ালিটি পরিস্থিতিতে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলি প্রস্তুত থাকে।
এসব উদ্যোগ নগর কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করলেও, কূটনৈতিক ইস্যু ও বাহ্যিক সংঘটিত ঘটনাগুলি, বিশেষ করে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের প্রেক্ষাপট, উত্তেজনা কমাতে এবং স্বাভাবিক কূটনৈতিক লয়ে ফেরা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।
কেন্দ্রীয় ও রাজ্য পর্যায়ের বহু বিশ্লেষক মনে করেন, এই পরিস্থিতিতে কেবল নিরাপত্তা-প্রতিবদ্ধতা বাড়ানো যথেষ্ট নয়, বরং উভয় দেশকে সমন্বিত কূটনৈতিক উদ্যোগ ও আলোচনা মাধ্যমে ইস্যু সমাধানের চেষ্টা করতে হবে। দুঃখজনক পরিস্থিতিতে, ঢাকা-হাইকমিশনে হামলা-চেষ্টার মতো ইস্যুগুলো কূটনীতিকদের প্রাপ্য সম্মান ও আন্তর্জাতিক শ্রমবিভাগের কাঠামোকে কঠিনভাবে প্রশ্ন করছে।
বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, এই ধরনের ঘটনা পুনরায় ঘটলে তা দুটি দেশের সম্পর্কের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে, এবং এই পরিস্থিতি regional security ও South Asia-এর শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্যও ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই ইস্যুর দ্রুত সমাধানটি কেবল কূটনীতিকদের মধ্যেই নয়, বরং নাগরিক স্তরেও সম্পর্ক পুনর্বহাল করার উদ্যোগের প্রয়োজন।



