এক অভিশপ্ত বিকেলে, ১১ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে, Turkish Air Force-এর একটি কার্গো বিমান — যা Ganja (আজারবাইজান) থেকে রওয়ানা হয়ে ছিল Merzifon (তুরস্ক) গামী — হঠাৎই প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে Sighnaghi Municipality, জর্জিয়ার ভূখণ্ডে বিধ্বস্ত হয়। উত্তর ধারার প্রথম তদন্ত অনুযায়ী, বিমানটি একটি পুরনো Lockheed C‑130 Hercules মডেল যা ১৯৬৮ সালে নির্মিত, ২০১০ সাল থেকে তুরস্কে ব্যবহৃত হচ্ছিল।

12 Nov 2025 | Pic: Collected
দুর্ঘটনার সময় অন্তত বিশ (২০) জন তুর্কি সেনা ক্রু ছিলেন বিমানটিতে এবং সরকারের মন্তব্য অনুযায়ী সবাই নিহত হয়েছেন। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বিমানযান নজরদারি সার্ভিস জানিয়েছে, বিমানটি জর্জিয়ার আকাশসীমায় প্রবেশ করার পর রাডার থেকে অদৃশ্য হয়ে যায়, কোনো জরুরি সংকেত পাঠায়নি। ধ্বংসস্তুপগুলো একটি নরম ভূমিতে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে ফসলি মাঠ ও পাহাড়ী ভূখণ্ড মিশ্র। ভিডিও ও স্যাটেলাইট ফুটেজে দেখা গেছে, বিমানটি এয়ারে ভেঙ্গে পড়ার আগে ঘুরেফিরে নিচে নামার দৃশ্য পাওয়া গেছে।
ওই বিমান আজারবাইজান থেকে রওয়ানা হওয়ার পরই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে, যা দুই দেশের (তুরস্ক ও আজারবাইজান) মধ্যে ঘন সেনা ও কূটনীতি-সম্পর্কের এক নাজুক সময়ে বিদ্যমান। নিহতদের স্মরণে তুরস্কে জাতীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে এবং আজারবাইজান ও জর্জিয়া থেকেও শোকের বার্তা এসেছে। বর্তমানে তুরস্ক ও জর্জিয়ার অনুসন্ধানকারী দল ও সেনাবাহিনী একসঙ্গে কাজ করছে; তারা প্লেনের ব্ল্যাক বাক্স উদ্ধারের খবর দিয়েছে এবং দুর্ঘটনার কারণ নিরূপণের জন্য ধাপে ধাপে কার্যক্রম শুরু করেছে। যদিও এখনো চূড়ান্ত কারণ প্রকাশ করা হয়নি — তবে দু’টি সম্ভাব্য কারণ দেখা দিয়েছে: এক, দীর্ঘ সময় চালিত পুরনো বিমান যন্ত্রাংশ ও মরচে ঝামেলার কারণে কাঠামোগত দুর্বলতা; দুই, হয়তো বিমানে থাকা কার্গো সঠিকভাবে সংরক্ষিত ছিল না, যার কারণে अचानक ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি হয়ে প্লেন নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারে।
এই ঘটনায় সেনাবাহিনীর নিরাপত্তা-মান ও বিমানের বয়স-হালনাগাদ বিষয় নিয়ে আলোচনায় উঠেছে। তুরস্ক ইতিমধ্যে এই ধরনের বিমান রিফার্ম করার চুক্তি করেছে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে। শেষ পর্যন্ত, এই দুর্ঘটনা শুধু এক বিমানহানিই নয় — এটি তুরস্ক-আজারবাইজান-জর্জিয়া তিন দেশের মধ্যকার কৌশলগত সম্পর্ক ও সীমান্তভিত্তিক সামরিক যোগাযোগের ওপরও প্রশ্ন তুলেছে। প্রশ্ন তোলা হয়েছে, বিমানটি কেন ওই রুটে যাচ্ছিল, সময়সূচি কী ছিল, বিমানের মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ ঠিক ছিল কি না — এসব তদন্ত এখন ত্বরান্বিত হয়েছে।




