গাজায় ইসরায়েলি বর্বরতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় মিশরের সুন্নি ইসলামিক শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় এবং এর গ্র্যান্ড ইমাম আহমদ আল-তাইয়েবকে লক্ষ্যবস্তু বানাতে শুরু করেছে ইসরায়েলি মিডিয়া। হিব্রু ভাষার প্রভাবশালী দৈনিক Maariv-এ প্রকাশিত এক রিপোর্টে আল-আজহারকে ‘সাপের মাথা’ হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিষ্ঠানটির ‘নির্মূল’ করার ডাক দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনটিতে দাবি করা হয়, আল-আজহার ইসরায়েলবিরোধী চেতনা ছড়িয়ে দেওয়ার কেন্দ্রস্থল হয়ে উঠেছে। এ বিষয়ে দৈনিকটি ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক কর্মকর্তা ও মিশরবিষয়ক বিশ্লেষক এলি ডেকেলের বক্তব্য তুলে ধরে, যিনি আল-আজহারকে ‘ঘৃণার মুখপাত্র’ বলে আখ্যা দেন।

30 July 2025 | Pic: Collected
ডেকেল জানান, “আমি ইসলাম বিশেষজ্ঞ নই, তবে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বলতে পারি— আজহার এখন মিশর থেকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানোর প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে।” তিনি আরও দাবি করেন, গাজা ইস্যুতে আল-আজহারের অবস্থান মিশর-ইসরায়েল সম্পর্ককে চাপের মুখে ফেলছে।
সম্প্রতি আল-আজহার এক বিবৃতিতে গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনকে “গণহত্যা”, “মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ”, এবং “না খাইয়ে মারার রাষ্ট্রীয় কৌশল” বলে উল্লেখ করে। এ বিবৃতিটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক সাড়া ফেললেও কিছু সময় পরেই প্রতিষ্ঠানটি তা তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সরিয়ে নেয়, যা রাজনৈতিক চাপে নতিস্বীকার বলেই অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন।
সুন্নি মুসলিম বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠান আল-আজহার যুগে যুগে মুসলিম বিশ্বে ন্যায়ের পক্ষে কথা বলেছে। এই প্রথম নয়, যখন ইসরায়েলি হামলা বা দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে মুখ খুলে আল-আজহার আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া পেয়েছে। তবে এবার ইসরায়েলি মিডিয়ায় যে ধরনের আক্রমণাত্মক শব্দ প্রয়োগ করা হয়েছে, তা নজিরবিহীন।
মিশর সরকার এ ব্যাপারে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে কায়রোর কূটনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে, কিভাবে দেশের সবচেয়ে পুরনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক চাপে পড়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি শুধু আল-আজহারের উপর চাপ নয়, বরং মুসলিম বিশ্বে স্বাধীনভাবে কথা বলার যে সাহস দেখায় এমন প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর এক প্রকার নিঃশব্দ যুদ্ধ।




