স্পেনের রাষ্ট্র মালিকানাধীন সম্প্রচার মাধ্যম RTVE ঘোষণা করেছে যে তারা ২০২৬ সালের ইউরোভিশন Song Contest এ অংশ নেবে না যদি ইসরাইল प्रतियोगিতায় অংশ নিতে থাকে, কারণ গাজায় বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং ইসরাইলের সামরিক কর্মকাণ্ডের কারণে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। RTVE বোর্ডের সিদ্ধান্তে স্পষ্ট বলা হয়েছে, ইসরাইলকে বাদ না দেওয়া হলে স্পেনের অংশগ্রহণ ন্যায়সঙ্গত হবে না। সংস্কৃতি মন্ত্রী এরনেস্ট উর্তাসুন বলেছেন “ইসরাইলের অংশগ্রহণকে স্বাভাবিক গ্রহণ করা যায় না এমন একটি সাংস্কৃতিক ইভেন্টে, যখন নির্দিষ্ট অভিযোগ ও হাহাকার চলছে”।

17 September 2025 | Pic: Collected
স্পেন এই সিদ্ধান্ত নেয়ার ফলে “Big Five” দেশের মধ্যে প্রথম যারা আনুষ্ঠানিকভাবে এমন বয়কট হুমকি দিচ্ছে। “Big Five” হলো তারা দেশগুলো যারা ইউরোভিশন উৎসবের সবচেয়ে বেশি অর্থসাপেক্ষ অংশীদার।এর পাশাপাশি ইতোমধ্যে আয়ার்ல্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, স্লোভেনিয়া ও আইসল্যান্ড দেশগুলোও জানিয়েছেন তারা ইসরাইলের অংশগ্রহণ হলে বয়কটের সম্ভাবনা বিবেচনা করছে।
ইউরোভিশন সংগঠক সংস্থা European Broadcasting Union (EBU) জানায় তারা এখন বিষয়টি আলোচনা করছে এবং বিভিন্ন সম্প্রচার মাধ্যম ও দেশগুলোকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে যে তারা সিদ্ধান্ত December মাসের মধ্যে নিশ্চিত করবে। সংস্থা বলেছে তাদের জন্য ইসরাইলের অংশগ্রহণবিষয়ক দ্বিধা ও রাজনৈতিক ক্লান্তি বোঝা যায়, তবে তারা নিয়ম ও সংস্কৃতির মূল্য রক্ষা করতে চায়।
এই সিদ্ধান্তটি স্পেনের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অঙ্গনে ও জনগণের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। অনেক মানুষ সমর্থন দিয়েছেন স্পেনের এই বয়কট হুমকির, বলছেন কঠিন নীতি এবং মানবাধিকার রক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে কিছু দলের মধ্যে রয়েছে বিরোধিতা — তারা বলছেন সাংস্কৃতিক উৎসবকে রাজনীতি থেকে আলাদা রাখার প্রচেষ্টা হওয়া উচিত এবং অংশগ্রহণ বাদ দেওয়া হলে তা সাংস্কৃতিক যোগাযোগ ও শিল্পীদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
গত বছর ইউরোভিশন অনুষ্ঠানে গাজার পরিস্থিতি নিয়ে বিবৃতি এবং উদ্বেগের ব্যাপক ঘটনা ঘটেছিল। স্পেনের RTVE ইতিমধ্যে একটি মানবাধিকার বিবৃতি প্রদর্শন করেছিল অনুষ্ঠান সম্প্রচারের আগে এবং তখনই বিতর্ক সৃষ্টি হয়। EBU সংগঠন জানিয়েছে যে তারা নীতি অনুসারে কাজ করবে এবং সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় বিভিন্ন দেশের সম্প্রচার মাধ্যমের নীতি ও আন্তর্জাতিক আইন বিবেচনায় নেবে।
সামগ্রিকভাবে, স্পেনের এই হুমকি ইউরোভিশন উৎসবকে একটি বড় রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গার অংশে পরিণত করেছে, যেখানে সাংস্কৃতিক মিলনমেলায়ও আন্তর্জাতিক নৈতিক ও মানবিক ইস্যুগুলো জুড়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে। সিদ্ধান্ত December-এর মধ্যে চূড়ান্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে, এবং তা কতটা বদলাবে ইউরোভিশন ২০২৬-এর চিত্র, সেটি সময়ই দেখাবে।




