ইয়েমেনের পূর্বাঞ্চলীয় মুকাল্লা বন্দরে মঙ্গলবার সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE) থেকে পাঠানো জাহাজ-বোঝাই অস্ত্র ও যুদ্ধ সরঞ্জামকে লক্ষ্য করে সৌদি আরব নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট “সীমিত বিমান হামলা” চালিয়েছে, যা আঞ্চলিক রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা আরও জোরদার করেছে।

30 Dec 2025 | Pic: Collected
সৌদি প্রেস এজেন্সির বরাতে জোটের মুখপাত্র জানিয়েছে, ইউএই-এর ফুজাইরা বন্দর থেকে দুটি জাহাজ বন্দরে প্রবেশ করে অস্ত্র ও যানবাহন নামাচ্ছিল, যা ইয়েমেনে সক্রিয় বিচ্ছিন্নতাবাদী বাহিনী “দক্ষিণী ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (STC)”-এর জন্য পৌঁছানো হচ্ছিল, এবং সেই কারণে “সীমিত” আক্রমণ চালানো হয়েছে।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হামলার উদ্দেশ্য হিসাবে ব্যাখ্যা দিয়েছে যে বন্দরে *অস্ত্র ও লড়াকু যানবাহন নামানো হচ্ছিল, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতায় ‘জোরালো ঝুঁকি’ তৈরি করছিল। জোট বলেছে, বন্দরে যে অস্ত্র ও গাড়ি নামানো হচ্ছিল তা বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সংঘাত বাড়াবে এবং শান্তি বিনষ্ট করবে, তাই তা লক্ষ্য করা হয়।
জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি এক গোয়েন্দা বিবৃতিতে বলেন, “উক্ত অস্ত্রগুলো ও যুদ্ধ সরঞ্জাম নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য একটি তাৎক্ষণিক হুমকি সৃষ্টি করছিল, যার কারণে জোট বিমান বাহিনী এই অভিযান পরিচালনা করেছে।”
এই বিমান হামলা “সীমিত” এবং সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে করা হয়েছে; সরাসরি বন্দরে অবস্থানরত জাহাজ ও লোডেড বিপুল অস্ত্র ও যানবাহনকে বাৎসরিক লক্ষ্য করে আক্রমণ চালানো হয়, কোনো বেসামরিক নাগরিকদের উদ্দেশ্য নয় বলে জোট দাবি করেছে।
এটি যুদ্ধাহত অঞ্চলের বন্দর স্থাপনা ও সামরিক সরঞ্জামকে লক্ষ্য করে সংঘটিত সামরিক অভিযান, যেখানে বন্দরের কার্যক্রম সাধারণভাবে বাণিজ্যিক ব্যবহার হয়। হামলার ফলে কোনো বড় জনহানির খবর পাওয়া যায়নি সংবাদ সম্মেলনে বলা হলেও, পরিস্থিতি খুবই উত্তেজনাপূর্ণ ও সংবেদনশীল আছে।
এই হামলা শুধু ইয়েমেনের পরিস্থিতিতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সম্পর্কেও নতুন চাপ এনে দিয়েছে। ঐ দুই দেশ দীর্ঘদিন ধরে ইয়েমেনের সিভিল ওয়ারকে কেন্দ্র করে মিলিতভাবে হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধেই যুদ্ধ করে এসেছে, কিন্তু সম্প্রতি ইউএই-সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদী বাহিনী STC এর সক্রিয়তা ও শঙ্কা উভয়ই বৃদ্ধি পেয়েছে।
ইয়েমেনের বিরোধী ফ্রন্ট হিসেবে পরিচিত দক্ষিণী ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (STC) বর্তমানে দক্ষিন ও পূর্বাঞ্চলের কিছু কৌশলগত এলাকায় দখল বৃদ্ধি করেছে, যেখানে এই অস্ত্র চালান পর্যাপ্ত সহায়তা প্রদান করার উদ্দেশ্যে লোড করা হচ্ছিল বলে সৌদি কর্মকর্তারা দাবি করেছে।
সৌদি বিমান হামলার পরবর্তীতে ইয়েমেনের কিছু অংশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে, যার মধ্যে সরকারি ও সামরিক জোট সদস্যরা জনসাধারণকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে এবং হামলার কারণে সম্পর্কিত এলাকাগুলোর পতাকা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়েছে।
ইয়েমেনের প্রেসিডেনশিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিল এছাড়া ইউএই-এর সঙ্গে সামরিক ও নিরাপত্তা চুক্তি বাতিল করে দেশটিতে এর বাহিনীকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বেরিয়ে যেতে নির্দেশ দিয়েছে, যা আরও কূটনৈতিক সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এই বিমান হামলা আঞ্চলিক নিরাপত্তা, রাজনৈতিক অবস্থান ও ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্যের ওপর গুরুত্ব ধারালো প্রভাব ফেলছে. বিশেষত মধ্যপ্রাচ্যে সৌদি আরব ও ইউএই-র সম্পর্কের ভিতটা আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষায় পড়েছে, এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন এটি গত দশক ধরে চলমান ইয়েমেন যুদ্ধে একটি নতুন ধাপ হতে পারে।
এই বিমান হামলার ফলে আঞ্চলিক রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সংলাপ ও শান্তি উন্নয়ের পথ আরও কঠিন হতে পারে, বিশেষ করে যখন ইয়েমেনের উত্তরের হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধেও লড়াই চলমান।




