ইয়েমেনের দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধের মধ্যেই আবারও সৌদি আরবের বিমান বাহিনী ইয়েমেনে হামলা চালিয়েছে, যা দক্ষিণাঞ্চলীয় হাদরামাউত (Hadramawt) এলাকায় বিচ্ছিন্নতাবাদী বাহিনীর অবস্থানকে লক্ষ্য করে করা হয়। স্থানীয় পৃথক সংবাদ মাধ্যম শ Friday (২৬ ডিসেম্বর ২০২৫) খবরটি নিশ্চিত করেছে, যাতে বলা হয়েছে সৌদি বাহিনী ওই এলাকা লক্ষ্য করে দুটি বোমা হামলা চালিয়েছে।
26 Dec 2025 | Pic: Collected
সৌদি আরব এই বিমান অভিযান চালানোর এক দিন আগে ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলোকে তাদের সম্প্রতি দখলকৃত অঞ্চলগুলো থেকে সরে যাওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছিল। এই আহ্বানের প্রতিক্রিয়ায় বিমান হামলা ঘটেছে বলে ওয়াক্তের প্রতিনিধিরা দাবি করছেন।
বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (STC) ও অন্যান্য দলগুলো বলছে, সৌদি বাহিনীর বিমান হামলা তাদের অবস্থান নিয়ে হামলা পরিচালিত হয়েছে এবং এটি অবাঞ্ছিত উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। যদিও সৌদি সরকার বা তাদের নেতৃত্বাধীন জোট এই হামলা সম্পর্কে কোনো সরকারি মন্তব্য বা নিশ্চিত বিবৃতি প্রদান করেনি, স্থানীয় পক্ষের দাবিতে এতে উত্তেজনা ও নিরাপত্তা-চিন্তা সৃষ্টি হয়েছে।
হাদরামাউত প্রদেশটি ইয়েমেনের একটি তেল-সম্পদে সমৃদ্ধ অঞ্চল, এবং গত কয়েক সপ্তাহে এই অঞ্চলে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা কার্যত নিয়ন্ত্রণদানে সক্ষম হয়েছে, যেটি আঞ্চলিক রাজনৈতিক ও সামরিক ব্যালেন্সে পরিবর্তন সৃষ্টি করেছে। এর ফলে সৌদি, সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE)-সহ অন্যান্য দেশগুলো এই পরিস্থিতিতে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে চাওয়া এবং স্থানীয় শক্তিগুলির মধ্যে উত্তেজনা কমাতে চাওয়া উদ্যোগ নিয়েছে।
হামলার পটভূমি ও ঘটনাক্রম
- ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫: সৌদি আরব দাবি করে যে তারা দক্ষিণাঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দখল করা হাদরামাউত ও আল-মাহরা প্রদেশ থেকে সরে যেতে আহ্বান জানিয়েছিল।
- ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫: ওই আহ্বানের একদিন পর সৌদি বাহিনী বিমান হামলা চালায়, এবং স্থানীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীরা হামলাটি তাদের অবস্থানকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করে।
- হতাহতের তথ্য: এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি বা আন্তর্জাতিক সংস্থার তরফ থেকে হতাহতের নির্দিষ্ট সংখ্যা নিশ্চিত করা হয়নি।
তবে প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে হামলার ফলে সরাসরি কোনো ক্লিয়ার হতাহত রিপোর্ট পাওয়া যায়নি, এটি কেবল স্থানীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর ব্যাখ্যার ওপর ভিত্তি করে জানা গেছে।
ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ ও সাম্প্রতিক অবস্থান
২০১৪ সাল থেকে ইয়েমেন একটি দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধের কবলে পড়ে, যখন ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা সরকারকে উৎখাত করে দেশটির উত্তর অংশে নিয়ন্ত্রণ স্থাপন করে। এর পর থেকে সৌদি-নেতৃত্বাধীন জোট এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমন সরকারের পক্ষ থেকে সেখানে সামরিক অভিযান চলছে।
এ যুদ্ধের ফলে মানবিক সংকট, সাধারণ নাগরিকদের দুর্ভোগ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা বিশ্বব্যাপী বড় ধরনের উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে এবং শত শত হুমানিটেরিয়ান প্রতিষ্ঠান ব্যাপক সাহায্য পাঠাচ্ছে।
সম্প্রতি ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদীরা গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল দখল করে, যা সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলোর সমর্থনকৃত বাহিনীর ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। এই অবস্থার ফলে ঐ স্থিতিশীল এলাকা আবারও উত্তেজনার কবলে পড়তে পারে এবং আশঙ্কা করা হচ্ছে সাম্যাবস্থা যদি দ্রুত সমাধান না ঘটে, তাহলে ঐ অঞ্চলে সংঘর্ষ ও বর্ধিত সামরিক উত্তেজনা দেখা যেতে পারে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক মনে করেন যে ইয়েমেনে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় ঘোষিত যুদ্ধবিরতি বাস্তবে সঠিকভাবে কার্যকর হয়নি এবং পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহী দল, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং স্থানীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীদের মধ্যে অস্ত্র বিরোধ ও ক্ষমতার লড়াই দীর্ঘদিন ধরে চলেছে।
বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার সংগঠন ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোই শান্তি আলোচনা, মানবিক সহায়তা প্রবাহ এবং রাজনৈতিক সমাধানে জোর দিতে পুনরায় আহ্বান জানিয়েছে কারণ এই প্রকার হামলা ও উত্তেজনা ইয়েমেনের সাধারণ মানুষের ওপর ভারী প্রভাব ফেলে এবং দেশের মানবিক সংকট আরও কঠিন করে তোলে।
ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি ও আশঙ্কা
যদি পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকে বা সংঘর্ষ বৃদ্ধি পায়, তাহলে:
- স্থানীয় জনগণের জন্য নিরাপত্তা ও জীবনযাত্রার ঝুঁকি বাড়বে।
- আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা পৌঁছানো আরও কঠিন হয়ে পড়বে।
- ইয়েমেনের স্থিতিশীলতা ও শান্তি প্রক্রিয়া দীর্ঘ সময়ের জন্য স্থগিত থাকতে পারে।
- আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক ও সামরিক সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা আরও তীব্র হবে।
এই সাম্প্রতিক বিমান হামলা কিন্তু এখনও পর্যন্ত একটি বৈশ্বিক স্তরের সামরিক ঘোষণা বা কোনো বড় নেতৃস্থানীয় শক্তির সরাসরি হস্তক্ষেপের দিক থেকে দেখা যায় না, তবে এটি ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধের জটিল বাস্তব ও সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত।



