ইরান সরকার ঘোষণা করেছে যে দেশটির অন্যতম বড় স্বর্ণখনি Shadan gold mine‑তে নতুনভাবে পাওয়া গেছে বিশাল পরিমাণ স্বর্ণ — যা শুধু অর্থনীতির জন্য নয়, দেশের রিজার্ভ এবং বিনিয়োগ‑পরিকল্পনার জন্যও বড় দিকনির্দেশনা হতে পারে; সোমবার (১ ডিসেম্বর ২০২৫) স্থানীয় অঞ্চল, শিল্প, খনি ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে যে, পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ South Khorasan Province‑র এই শাদান খনিতে নতুন ধমকানো স্বর্ণ vein (স্বর্ণনালি) খুঁজে পাওয়া গেছে যা এখন “দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্বর্ণ রিজার্ভ” হিসেবে গণ্য হচ্ছে। নতুন মজুতে খনির মোট আকরিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে প্রায় ৭.৯৫ মিলিয়ন টন অক্সাইড স্বর্ণ আকরিক এবং ৫৩.১ মিলিয়ন টন সালফাইড স্বর্ণ আকরিক, যা শাদানকে দেশের বড়‑স্বর্ণ রিজার্ভগুলোর এক হিসেবে আবির্ভূত করেছে।

2 Dec 2025 | Pic: Collected
খনির এই নতুন আবিষ্কার বড় কারণ — অক্সাইড আকরিক তুলনায় সহজ এবং তুলনামূলক কম ব্যয়ে উত্তোলনযোগ্য; ফলে শাদান খনি থেকে স্বর্ণ উত্তোলন ও প্রক্রিয়াকরণে রূপান্তর সহজ হতে পারে এবং ইরানের স্বর্ণ উৎপাদন‑শিল্পে গতি আনতে পারে বলে সরকারি ও খনির কর্তৃপক্ষ আশাবাদী।
গত কয়েক বছরে, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, মুদ্রাস্ফীতি ও রিয়ালের অবমূল্যায়নের কারণে ইরানে বিনিয়োগ ও রপ্তানি‑রাজস্ব ঘাটতি দেখা দিয়েছে; স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হয়। ইতিমধ্যেই দেশটিতে স্বর্ণ ক্রয়ের প্রবণতা ও রিজার্ভ বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কতৃপক্ষ ২০২৩–২৪ সালের সময় ইরানকে “বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ স্বর্ণ কেনা কেন্দ্রীয় ব্যাংক”-এর মধ্যে উল্লেখ করেছিলেন।
এই আবিষ্কার ইরানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, চলতি আর্থিক স্থিরতা এবং ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ পরিকল্পনায় নতুন সম্ভাবনার পথ খুলে দিতে পারে; বিশেষ করে, পরবর্তী সময়ে যদি স্বর্ণ উত্তোলন ও রপ্তানিতে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার পরিপ্রেক্ষিতে বিকল্প রপ্তানি ও রিজার্ভ সমর্থন পাওয়া যায়। বিশ্লেষকরা বলছেন, শাদানের মতো বড়‑সংখ্যক স্বর্ণ মজুদের পরিচয় শুধু ইরানেই নয় — মধ্যপ্রাচ্য, মধ্য এশিয়া এবং গ্লোবাল মার্কেটে স্বর্ণের সরবরাহ ও দামকে প্রভাবিত করতে পারে।
যদিও ইরান সরকার এখন পর্যন্ত দেশজুড়ে মোট স্বর্ণ রিজার্ভের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ প্রকাশ করেনি, তবে এই নতুন আবিষ্কার রূপায়ণের পর রূপান্তর শুরু হলে — উত্তোলন, প্রক্রিয়াকরণ, রপ্তানি ও শিল্পায়নের সঙ্গে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, রপ্তানি রাজস্ব, কাজের সুযোগ এবং রূপালি বিনিয়োগের দিক থেকে দেশটির জন্য ইতিবাচক ফলাফল আশা করা যাচ্ছে।
তবে বড় রূপায়নের আগে কিছু প্রশ্নও আছে — নতুন vein‑এর উত্তোলন কতটা সময়সাপেক্ষ হবে, পরিবেশগত প্রভাব কী হবে, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম ও চাহিদা কত টিকবে, এসব বিষয় — যা বিবেচনায় রেখে পরিকল্পনা করতে হবে বলছে খনি‑বিশেষজ্ঞরা।
সব মিলিয়ে, ইরানের এই নতুন স্বর্ণ আবিষ্কার দেশটির জন্য একটি বড় অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক খোলন; আগামী মাসগুলো সম্ভবত দেখাবে, এই গুপ্তধন কতটা রূপ নিতে পারে বাস্তবায়ন এবং গ্লোবাল স্বর্ণ বাজারে এর প্রভাব কি ধরনের হবে — যা শুধু ইরানের জন্য নয়, বিনিয়োগকারীদের, রপ্তানিকারক দেশগুলোকে এবং গ্লোবাল ইকোনমিকে প্রভাবিত করতে পারে।




