ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের দায়ে কূটনৈতিক ও আইন অধিষ্ঠিত পদক্ষেপ গ্রহণের লক্ষ্যে ‘হেগ গ্রুপ’ বৃহস্পতিবার ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন করবে, যেখানে দুব প্রান্তে বাস্তব পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে। এই উদ্যোগের আওতায় ২৩টি দেশ, যার মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ, স্পেন, আয়ারল্যান্ড, চীন, তুরস্ক, পর্তুগাল ও কাতার, আগামী ১৫–১৬ জুলাই, ২০২৫ তারিখে কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোটা-য় জরুরি বৈঠকে অংশগ্রহণ করবে । এই সম্মেলন মূলত ইসরায়েলের গাজা অভিযান সংক্রান্ত পুরো প্রতিবাদী নীতিকে কার্যকর, আইনগত ও কূটনৈতিকভাবে বাধ্যতামূলক করতে চায় (হেগ গ্রুপ ঘোষণা অনুযায়ী) ।

14 July 2025 | Pic: Collected
হেগ গ্রুপ গঠিত হয়েছিল ৩১ জানুয়ারি ২০২৫-এ, যেই দশটি দেশ—বলিভিয়া, কলম্বিয়া, কিউবা, হন্ডুরাস, মালয়েশিয়া, নামিবিয়া, সেনেগাল ও দক্ষিণ আফ্রিকা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল (পরবর্তীকালে আরও দেশ সদস্য হয়) । এই গ্রুপ ‘অনুচ্ছিন্ন বিচারহীনতা’ এবং ‘আন্তর্জাতিক নিয়মের অবমাননার বিরুদ্ধে’ অভিন্ন অবস্থান নিয়েছে। এর নতুন উদ্যোগে তারা এখন ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সহায়ক মিত্রদের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক চাপ, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, অস্ত্রবর্জন এবং বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার পরিকল্পনা করছে।
বাংলাদেশ এ সম্মেলনে যোগদান করবে, যা সূচকের মতো—বর্তমানে আন্তর্জাতিকভাবে ফিলিস্তিন ন্যায়বিচার আন্দোলনের সঙ্গে বলিষ্ঠ অবস্থান রাখতে চায়। বাংলাদেশ একমাত্র এমন একটি দেশ যা ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেয় না, এবং আন্তর্জাতিক সন্ত্রাস ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য আইনি পদক্ষেপের জায়গা করে নিচ্ছে।
বোগোটা সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো কেবল প্রতীকী সমর্থনই দেবে না, বরং কঠোর পরামর্শমূলক সিদ্ধান্ত ও বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে; যেমন—মানবাধিকার মামলায় সহযোগিতা, অস্ত্রবাণিজ্য নিষিদ্ধকরণ, বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা ও নিষিদ্ধ কৃত্রিম সহায়তা।
সমালোচকরা মনে করেন—যদিও এই জোট পারদর্শিতা ও সামরিক শক্তিতে অনাগ্রহী, তথাপি এটি আন্তর্জাতিক আইন ও বিচারব্যবস্থায় একটি শক্তিশালী সংবাদ এবং প্রতিরোধ তৈরির এক কার্যকর প্রক্রিয়া হতে পারে। সম্প্রতি ICC-র আশ্রয়প্রাপ্ত নেতাদের গ্রেপ্তার মামলায় বাংলাদেশও স্বীকৃতি জানায়, যা ইঙ্গিত দেয়—ন্যায়বিচার তার সীমা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচারেও পৌঁছতে পারে ।




