ফ্রিডম ফ্লোটিলা মিশনের একটি জাহাজ কনশানস গাজা অভিমুখে যাত্রার সময় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এই নৌযান আটক করলে, এই অভিযানে থাকা বাংলাদেশের নামখ্যাত আলোকচিত্রী ও মানবাধিকার কর্মী শহিদুল আলম একটি প্রাক-রেকর্ডকৃত ভিডিও বার্তা যুক্ত হন, যে বার্তাটি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। তিনি সেই ভিডিওতে জানান, “আমি শহিদুল আলম, বাংলাদেশ থেকে একজন আলোকচিত্রী ও লেখক।
যদি আপনি এই ভিডিওটি দেখেন, তাহলে বোঝার সুযোগ থাকবে যে আমাদের সমুদ্রে আটক করা হয়েছে এবং আমাকে দখলদার বাহিনী অপহরণ করেছে।” শহিদুল আরও বলেছেন, “এই অপরাধ, এই অভিযান এবং এই আক্রমণ তারা গাজায় গণহত্যা চালাচ্ছে—যার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য পশ্চিমা শক্তিগুলোর সক্রিয় সহযোগিতা রয়েছে।” তিনি ভিডিও বার্তায় কমরেড, বন্ধু ও সমর্থকদের উদ্দেশ্যে আহ্বান জানান, ফিলিস্তিনের মুক্তির সংগ্রাম চলিয়ে যেতে।
8 Oct 2025 | Pic: Collected
এই ঘটনার পর, বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, “শহিদুল বাংলাদেশের অবিচল মানবিক চেতনার উদাহরণ। আমরা অবিলম্বে তার ও সকল বন্ধুবান্ধবের মুক্তির দাবি করছি।” এছাড়া বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরকারকে আহ্বান জানিয়েছেন—শহিদুল আলমকে নিরাপদ ও দ্রুতভাবে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য পদক্ষেপ নিতে।
কনশানস নৌযান সহ আরও কয়েকটি জাহাজকে ইসরায়েলি বাহিনী নৌ অবরোধ ভেঙে অঞ্চলে প্রবেশের চেষ্টা করার সময় আটক করেছে বলে ফ্লোটিলা সংগঠন Freedom Flotilla Coalition (FFC) জানিয়েছে। তারা বলেছে, অভিযানে থাকা সাংবাদিক, চিকিৎসক ও কর্মীদের “অজ্ঞাত অবস্থায়” রাখা হয়েছে।
এই ঘটনা একটি সংকটপূর্ণ সময়ে ঘটেছে, যখন গাজায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা চলছে। শহিদুল আলম এমন পরিস্থিতিতে ভিডিওর মাধ্যমে তাদের আটক নিশ্চিত করে দিয়েছেন এবং আন্তর্জাতিক চাপ ও সহমর্মিতা প্রার্থনা করেছেন। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশের সরকার, রাজনীতিক ও সাধারণ মানুষ দ্রুত পদক্ষেপ এবং বিশ্বমঞ্চে অধিকতার দাবি তুলেছেন।



