2025 সালের 12 জুন ভারতের আহমেদাবাদ বিমানবন্দর থেকে লন্ডনের গেটব্রিট গন্তব্যে ওড়া এয়ার ইন্ডিয়া ফ্লাইট AI‑171, একটি বোয়িং ৭৮৭‑৮ ড্রিমলাইনার, অবিলম্বে জ্বালানি সংকটের কারণে বিধ্বস্ত হয়। বিমান ওড়ার মাত্র ৩ সেকেন্ড পর, উভয় ইঞ্জিনে জ্বালানি সরবরাহ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়—প্রাথমিক তদন্তে এই তথ্য উঠে এসেছে ।
উড্ডয়ন মাত্র ৩ সেকেন্ডে ইঞ্জিনের জ্বালানি সুইচ (fuel control switches) “RUN” অবস্থা থেকে একসাথে ‘CUTOFF’ অবস্থায় চলে আসে, যার ফলে উভয় ইঞ্জিন ত্বরাত্ চালু শক্তি হারায়, গতি দ্রুত কমতে শুরু করে এবং বিমান ৬৫০ ফুট উচ্চতায় পৌঁছানোর পর নিম্নগামী পথে ঢলে পড়ে ।

12 July 2025 | Pic: Collected
ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া সিসিটিভি ফুটেজ নির্দেশ করে যে র্যাম এয়ার টারবাইন (RAT) সক্রিয় হয়েছিল, যা ইঞ্জিনে বিদ্যুৎ ও হাইড্রোলিক শক্তি চলে না গেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করে ।
ককপিট ভয়েস রেকর্ডারে পাওয়া একটি সংলাপে একজন পাইলট প্রশ্ন করেন:
“তুমি কেন জ্বালানি বন্ধ করলে?”
দ্বিতীয় পাইলট উত্তর দেন: “আমি জ্বালানি বন্ধ করিনি” । তবে, কে প্রশ্ন করেছে এবং কে উত্তর দিয়েছে তা রিপোর্টে স্পষ্ট করা হয়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ফুয়েল সুইচগুলো spring‑loaded বা লকড থাকে, “bump” করেই চালু হতে পারে না। একজন প্রশিক্ষিত পাইলট ইচ্ছাকৃতভাবেই না করলে এগুলো সরাতে পারবেন না ভিডিওসহ রেকর্ড অনুযায়ী ।
প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে যে ফ্লাইট ডেটা অনুযায়ী, প্রথম ইঞ্জিনের সুইচ বন্ধ হওয়ার এক সেকেন্ড পর দ্বিতীয়টি বন্ধ হয়—এই ব্যবধান হলো শ্রুতিমধ্যে দু’টি পৃথক চাপ প্রয়োগ হয়েছে, সম্ভাব্য মানবসৃষ্ট আচরণ ছাড়া ব্যাখ্যায় ফেলা সম্ভব নয় ।
ইঞ্জিন পুনরায় চালু হওয়ার চেষ্টা করা হয়: প্রায় ১৪ সেকেন্ড পর দু’টি সুইচ পুনরায় “RUN” অবস্থায় আসে এবং FADEC সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইঞ্জিন পুনরায় চালু করার প্রচেষ্টা করে । কিন্তু তখন পর্যন্ত বিমান উচ্চতা ও সময় কমে গিয়েছিল যা নিয়ন্ত্রণে ফেরার সুযোগ দেয়নি।
ডেথ টোল: ফ্লাইটে ছিল ২৪২ জন, যার মধ্যে ২৪১ জন নিহত হন। ভূমিজায় প্রাণ হারান ১৯ জন—মোট নিহত সংখ্যা দাঁড়ায় ২৬০ । বিমান বিধ্বস্তে শুধুমাত্র একমাত্র British‑Indian যাত্রী প্রকৌশল ভিকটিম, বিশবাস রমেশ (Vishwash Kumar Ramesh) জীবিত ছিলেন ।
দুটি ব্ল্যাক বক্স (cockpit voice recorder ও flight data recorder) উদ্ধার করা হয়: প্রথমটি দুর্ঘটনার পরপরই এবং দ্বিতীয়টি ১৬ জুন পাওয়া যায়। ২৫ জুন তথ্য ডাউনলোড সম্পন্ন হয। এই ডেটা AAIB‑র ডেলি‑ল্যাব বিশ্লেষণ করেছে।
তদন্তকার্য বর্তমানে চলছে, তবে বিষয়টি নিয়ে কিছু সুপারিশ এখনও পাওয়া যায়নি—যেমন কোন ত্রুটি বা ত্রুটিপূর্ণ উপাদান Boeing বা GE‑এর পক্ষ থেকে সন্দেহজনক নয় । ভারতীয় দুর্ঘটনা তদন্ত বিভাগ AAIB এই তদন্ত পরিচালনা করছে, এবং Boeing, GE Aerospace, FAA ও NTSB সহ আন্তর্জাতিক সংস্থা সহযোগিতা করছে ।
ওড়ার মাত্র তিন সেকেন্ডে এমন ভয়াবহ সিস্টেম ত্রুটি একেবারেই বিরল—এ জন্য তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রায় এক বছর সময় লাগতে পারে ।




