ইসরাইলি হামলা কাতারে এক অভূতপূর্ব উত্তেজনার স্ফুরণ সৃষ্টি করেছে। গত ৯ সেপ্টেম্বর, দোহায় হামাসের শীর্ষ নেতাদের অবস্থানকে লক্ষ্য করে অন্তত ১২টি বিমান হামলা চালায় ইসরাইল, যদিও বিক্ষিপ্ত ক্ষতির মধ্যে মৃত্যু এড়ানো যায়, হামাস নেতারা নিরাপদে থাকতে পেরেছেন, তবে তাদের আশ্রয় স্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং গাজায় যুদ্ধবিরতির আলোচনা পরিচালিত হোটেলটিও হামলার চপেটায় পড়েছে। কাতার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হামলাটি নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, “এটি ‘কাপুরুষোচিত’ একটি হামলা,” এবং স্পষ্ট করে জানায়, “এই ধরনের আক্রমণ যা কাতারের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তাকে লক্ষ্য করে করা হয়েছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়”।

10 September 2025 | Pic: Collected
আইএমপি হিসেবে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলি হামাস নেতাদের রাজনৈতিক ব্যুরোর আবাসিক এলাকা এবং এতে হামাস কর্মীদের ছয়জন নিহত, যাদের মধ্যে শীর্ষ নেতার ছেলেও রয়েছে—এমন তথ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে AP’র প্রতিবেদনে AP News। হামলার সময়ই বিশ্বশান্তির জন্য এগিয়ে আসা কয়েকটি দেশ এবং বিশ্ব সংস্থার নেতারা কড়া সমালোচনা করেছেন:
- জার্মানি হামলাটি “অসম্মানজনক” বলে ব্যাখ্যা করেছে। চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্জ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ওয়াদেফুল উল্লেখ করেছেন, “এই আক্রমণ কাতারের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করেছে এবং গাজা যুদ্ধবিরতিসংক্রান্ত আলোচনাকে ধ্বংস করতে পারে।”।
- রাশিয়া হামলাটি আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের charter-এর “মহাভ্রষ্ট লঙ্ঘন” বলে অভিহিত করেছে ।
- যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, এটি কাতারের সার্বভৌমত্বের পরোক্ষ হস্তক্ষেপ এবং মধ্যপ্রাচ্যের শান্তিতে হুমকি।
- চীনও একইসঙ্গে এই হামলাটি সমালোচনা করে, বলেছে—এটি আন্তর্জাতিক শান্তি প্রচেষ্টাকে বিপদে ফেলছে ।
- যুক্তরাষ্ট্র সন্দেহপ্রকাশ করে—প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, “আমি এই হামলার প্রতিটি দিক নিয়ে অসন্তুষ্ট,” এবং এটি মার্কিন ও ইসরায়েলের স্বার্থে সহায়ক নয়।
আক্রমণের পর জাতিসংঘ সাধারণ সম্পাদক আন্তোনিও গুতেরেসও এটি আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেন এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানে বাধা সৃষ্টি করছে বলে মন্তব্য করেন। কিছু আরব দেশ যেমন সৌদি আরব, মিশর এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতও এ হামলায় উদ্বেগ ও নিন্দা প্রকাশ করেছে।
এই হামলা কেবল নিরাপত্তা সঙ্কটে ইসরায়েল–ফিলিস্তিন দ্বন্দ্বকে আরও জটিল করেছে না, বরং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তিপূর্ণ সমঝোতার ভিত্তিকে নড়বড়ে করে দিয়েছে। কাতারের মাধ্যমে চলা গাজা যুদ্ধবিরতি আলোচনায় উল্লেখযোগ্য ভাটা পড়তে পারে, কারণ কাতার শান্তিচুক্তির নিয়মিত মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে সম্মান অর্জন করেছে। এখন প্রশ্ন—এই হামলা কি আঞ্চলিক শান্তিকে চিরতরে বিচ্ছিন্ন করে দেবে? এখনই বিশ্বজুড়ে শান্তি ক্ষণেৎ যোদ্ধা হিসেবে কর্মকাণ্ড গ্রহণ করা কঠিন করে তুলছে।



