ভারতের বিহার রাজ্যের পূর্ণিয়া জেলার তেতগামা গ্রামে রবিবার রাতে ‘কালোজাদু’ করার সন্দেহে একই পরিবারের পাঁচ সদস্যকে পিটিয়ে ও জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা করেছে স্থানীয় গ্রামবাসী। টাইমস অব ইন্ডিয়া, এনডিটিভি ও দ্য হিন্দুস্তান টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, নিহতরা হলেন বাবু লাল ওরাঁও (৫০), তার স্ত্রী সীতা দেবী (৪৫), কন্তো দেবী (৪২), মনজীত ওরাঁও (২২) এবং এক কিশোর।

8 July 2025 | Pic: Collected
পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য ১৬ বছর বয়সী সোনু কুমার, যিনি আত্মীয়ের বাড়িতে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান এবং তিনিই পুলিশকে খবর দিয়ে চারজন প্রধান অভিযুক্তের নাম জানান। পুলিশ জানায়, ওরাঁও আদিবাসী সম্প্রদায়ের বসবাসকারী এই পরিবারকে গুজব রটিয়ে আক্রমণ চালানো হয়। ঘটনার সূত্রপাত তিনদিন আগে প্রতিবেশী রামদেব ওরাঁও-এর সন্তানের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে।
প্রতিবেশীরা ওই মৃত্যুর জন্য এই পরিবারকে দায়ী করে এবং রাতের আঁধারে প্রায় ৫০ জনের একটি দল তাদের বাড়ি ঘিরে পিটিয়ে মারধর করে, পরে তাদের দেহে ডিজেল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয় ও মরদেহগুলো খালে ফেলে দেয়। পুলিশ এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং জানিয়েছে, এটি সম্পূর্ণরূপে অন্ধবিশ্বাস ও গুজব থেকে উৎসারিত পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। এনসিএসটি (National Commission for Scheduled Tribes) এই ঘটনাকে জাতিগত সহিংসতা হিসেবে চিহ্নিত করে তিন দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ইতিমধ্যেই অঞ্চলটিতে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করেছে এবং ক্ষুব্ধ জনতার হাত থেকে তদন্ত কার্যক্রম সুরক্ষিত রাখতে পদক্ষেপ নিয়েছে। এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে, কুসংস্কার ও অশিক্ষার মরণফাঁদে পড়ে আদিবাসী ও গ্রামীণ অঞ্চলের মানুষ কী ভয়াবহ পরিণতির মুখোমুখি হচ্ছে। আইন, শিক্ষা এবং সচেতনতাভিত্তিক হস্তক্ষেপ ছাড়া এ ধরনের নির্মমতার পুনরাবৃত্তি থামানো অসম্ভব।



