কাশ্মির নয়, আগ্রাসন নয়, এবার কুয়েত—যে দেশ আকাশি সাম্রাজ্য ঘোষণা করে—সে দেশ নিজস্ব জনগণের পারিবারিক পরিচয় জারি থেকে এক নতুন বিতর্কে! এক শীর্ষ কর্মকর্তা (দ্বিতীয় উপ-প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ ফাহদ ইউসেফ আল সাবাহ) নিশ্চিত করেছেন, গত এক বছরে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়েছে। এই অভিযান চলেছে ‘অনন্যতম’—অর্থাৎ কাউকে ছাড় না দিয়ে সারা দেশের নাগরিকত্ব নথি যাচাই করা হচ্ছে বায়োমেট্রিক (ডিএনএ, আইরিস স্ক্যান) সুবিধা নিয়ে। প্রশাসনের সুপ্রিম কমিটি-এ সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীদের নথি পর্যন্ত সমানভাবে যাচাই করা হচ্ছে, এবং জালিয়াতির প্রমাণে যাঁরা পেয়েছেন, তাঁদের নাগরিকত্ব বাতিল করা হলো ।

12 August 2025 | Pic: Collected
প্রথম দিকে, ২০২৪ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত ৪২,০০০ জনের নাগরিকত্ব বাতিল হয়েছিল, যা চলতি বছরের আগস্টে পৌঁছেছে ৫০ হাজারের কাছাকাছি ।
আইন অনুসারে, কুয়েতে দ্বৈত নাগরিকত্ব নিষিদ্ধ, তাই যারা অন্য দেশের নাগরিকত্ব ত্যাগ না করে দেশীয়ত্ব পেয়েছিলেন—তাদের আগেই পরীক্ষা করা হচ্ছে। পাশাপাশি, Article 8 অনুযায়ী বিগত ফ্রেমে বিদেশি স্ত্রীরা স্বীকৃত নাগরিকত্ব পেয়ে আসছেন, কিন্তু সেই ধারাটি রিট্রোস্পেক্টিভ বাতিল হওয়ায় মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের মতে এটি আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে।
এই অভিযানে কিছু নাম প্রকাশিতও হয়েছে, যেমন সংগীতশিল্পী নাওয়াল আল-কুয়েতিয়া, অভিনেতা দাউদ হুসেইন এবং ইনফ্লুয়েন্সার নোহা নাবিলসহ তাঁদের সন্তানেরাও স্বাভাবিকভাবে নাগরিকত্ব হারিয়েছেন,।
এদিকে, আন্দোলনের চাপের পর, সরকারের উদ্যোগে একটি গৃহ তালিকা ও গ্যাস, পেনশন সহ কিছু সুবিধা সাময়িক ফেরত দেওয়া হয়েছে, এবং অ্যাপিলের জন্য ই-পোর্টাল চালু করা হয়েছে।
কুয়েতি নাগরিকত্ব পাওয়া অর্থনৈতিক নিরাপত্তার প্রতীক—স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সরকারি চাকরি, সাড়ে টাকা ভাতা, মাইক্রো ঋণ ও ভর্তুকি এই নাগরিকত্বের অংশ। তাই একাধারে নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত হওয়া মানুষদের জন্য এটি এক সামাজিক ও মানবিক বিপর্যয়ই বটে।



