ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন সম্প্রতি নিজেই প্রকাশ করেছেন যে তিনি প্রোস্টেট ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছেন।৫৯ বছর বয়সী ক্যামেরন বলেন, এটি এমন একটি তথ্য যা তিনি গোপন রাখার পরিপ্রেক্ষিতেও ভাগ করতে চান — কারণ তার বিশ্বাস, “স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য পুরুষদের মাঝে স্ক্রিনিং অনেক বেশি জরুরি।”

24 Nov 2025 | Pic: Collected
ক্যামেরন জানিয়েছেন, তাঁর স্ত্রী শুনেছিলেন এক রেডিও সাক্ষাৎকার যেখানে এক উদ্যোক্তা নিক জোন্স তার নিজের প্রোস্টেট ক্যান্সার সনাক্তকরণের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছিলেন এ কথা শুনেই তার স্ত্রী ক্যামেরনকে উৎসাহ দিয়েছিলেন একটি স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য — এবং সেই পরীক্ষাগুলোর মৌলিক ধাপ ছিল PSA (প্রোস্টেট-স্পেসিফিক অ্যান্টিজেন) টেস্ট, এরপর MRI স্ক্যান, এবং সর্বশেষে বায়োপসি, যা ক্যান্সার নিশ্চিত করেছিল।
চিকিৎসার জন্য তিনি নেওয়া হয়েছে ফোকাল থেরাপি, একটি পদ্ধতি যার মাধ্যমে ক্যান্সারের অংশবিশেষকে লক্ষ্য করে সীমিত আকারে চিকিৎসা করা হয় — যাতে সুস্থ টিস্যু möglichst সংরক্ষিত থাকে।ক্যামেরন বলেন, “যদি আমি প্রকাশ্যে এটি বলতাম না, আমি নিজেই হতাশ হইতাম; কারণ স্ক্যান করায় সমস্যার সময়ই ধরা পড়লো, এবং এর ফলে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করার সুযোগ পেয়েছি।”
ক্যামেরনের এই ঘোষণা শুধুমাত্র তার ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য বিষয়েই সীমাবদ্ধ নয় — এটি একটি সামাজিক ও জনস্বাস্থ্য বার্তা। তিনি পুরুষদের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন, তারা দেরি না করে নিয়মিত স্ক্রিনিং করাকেস, কারণ প্রোস্টেট ক্যান্সার অনেক সময় সহজ পরীক্ষার মাধ্যমে ধরা যেতে পারে এবং সময়মতো চিকিৎসা শুরু করা গেলে ভালো ফল পাওয়া যায়।
উল্লেখ্য, ক্যামেরন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন ২০১০ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত। তাঁর এই অভিনব স্বীকারোক্তি রাজনীতির পরিসর থেকে অনেক বড় — কারণ এটি একাধিক পুরুষদের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে এবং ক্যান্সার-পরীক্ষার গোপন স্বীকারোক্তি ভাঙতে সহায়তা করতে পারে।
ক্যামেরন এখন নিজের অভিজ্ঞতা ব্যবহার করছেন একটি বৃহত্তর উদ্দেশ্যে: প্রোস্টেট ক্যান্সারের প্রতি মনোযোগ বাড়ানো। প্রোস্টেট ক্যান্সার সাধারণত ধীরগতিতে বৃদ্ধি পায়, কিন্তু প্রাথমিক ধাপে শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসার সুযোগ অনেক বেশি থাকে।
সর্বোপরি, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরনের সংবেদনশীল ও সাহসী প্রকাশ শুধু তার ব্যক্তিগত লড়াই দেখায় না — এটি এমন একটি আশার বার্তা হিসেবে কাজ করে যা পুরুষ স্বাস্থ্যের গুরুত্ব, নিয়মিত পরীক্ষা এবং স্বীকারোক্তির মাধ্যমে সচেতনতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করে।




