গাজায় ইসরাইল-সমর্থিত ত্রাণ বিতরণকেন্দ্রগুলোর আশেপাশে ক্রমাগত ফিলিস্তিনি নাগরিকদের মৃত্যুর ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে ক্ষোভ বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল ব্যারো ঘোষণা দিয়েছেন, গাজায় নিরাপদ খাদ্য বিতরণে ফ্রান্স এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন সক্রিয় সহায়তা দিতে প্রস্তুত।

Source: Jugantor | 29 June 2025 | Pic: Collected
শনিবার (২৮ জুন) ফ্রান্স টুয়েন্টিফোর-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ব্যারো বলেন, “এই উদ্যোগ শুধু মানবিক সহায়তাই নয়, বরং ইসরাইলের সেই নিরাপত্তাজনিত শঙ্কাও দূর করবে যে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো—বিশেষ করে হামাস—ত্রাণ দখল করে নিতে পারে।” ফ্রান্সের এই অবস্থান এসেছে এমন এক সময়ে, যখন হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, মে মাসের শেষ দিক থেকে এ পর্যন্ত ৫০০ জনেরও বেশি মানুষ খাদ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।
জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস এক বিবৃতিতে বলেন, “খাদ্যের খোঁজে আসা মানুষদের মৃত্যুদণ্ড হওয়া উচিত নয়। এটি মানবিক মূল্যবোধের চরম লঙ্ঘন।” অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘ডাক্তারস উইদাউট বর্ডারস (MSF)’ গাজার পরিস্থিতিকে “মানবিক সহায়তার ছদ্মবেশে গণহত্যা” বলে উল্লেখ করেছে। বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয় যখন ইসরাইলি দৈনিক হারেৎস এক প্রতিবেদনে জানায়, গাজায় ইসরাইলি সামরিক কমান্ডারদের পক্ষ থেকে ত্রাণ নিতে আসা ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। যদিও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই প্রতিবেদনকে “মিথ্যা রক্ত অপবাদ” আখ্যা দিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
সংঘাতময় এই প্রেক্ষাপটে ফ্রান্সের পক্ষ থেকে সরাসরি মানবিক সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্পৃক্ততা যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজাবাসীদের জন্য নতুন আশার আলো হিসেবে দেখা হচ্ছে। ত্রাণ বিতরণকে রাজনৈতিক ও সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার না করে প্রকৃত অর্থে নিরাপদভাবে খাদ্য ও ওষুধ পৌঁছে দেওয়া এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।




