গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও ফের এক বারে নতুন করে হামলা চালানো হয়েছে; সামরিক হেলিকপ্টার, ড্রোন ও ট্যাঙ্ক দিয়ে যে হামলা চালানো হয়েছিল, তাতে অন্তত পাঁচ ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন — যাদের মধ্যে একজন সাংবাদিক এবং কয়েকজন নারী‑শিশু রয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও প্রায় পনের জন। এ রিপোর্ট জানায় গাজা সিটির আল‑তুফাহ ও জায়তুন এবং খান ইউনিস অঞ্চলে হামলায় নিহত ও আহত হয়েছেন।
3 Dec 2025 | Pic: Collected
গাজার “আল‑আহলি বোপ্টিস্ট হাসপাতাল” এবং অন্যান্য চিকিৎসাকেন্দ্রে আহতদের ভর্তি করা হয়েছে।একই সময় উদ্ধার‑কর্মীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে লাশ ও গুলিবিদ্ধদের খুঁজে বের করছেন। স্থানীয় সিভিলাইজেশন অফিস বলেছে, হামলায় বাড়িভর্তি ধ্বংস, পালিয়ে যাওয়া লোকজন, এবং শঙ্কিত পরিবেশ — এতে সাধারণ মানুষও ভীত ও নিরাপত্তাহীনতায় পড়েছেন।
নিহত সাংবাদিকটির নাম ও পরিচয় এখনো নিশ্চিতভাবে জানানো হয়নি, তবে গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, হামলায় সাংবাদিকসহ মারা যাওয়ার ঘটনা — যা আন্তর্জাতিক আইন ও সাংবাদিক নিরাপত্তা আন্দোলনকে আরও গুরুত্ব দিচ্ছে। গাজার স্বাস্থ্য বরাতে বলা হয়েছে, এই নতুন আঘাতে নিহত ফিলিস্তিনিদের সংখ্যা ৫‑এ পৌঁছেছে; এর ফলে সাম্প্রতিক হামলায় প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়ল।
এই হামলার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও সাংবাদিক সংগঠনগুলো ইতিমধ্যেই নিন্দা জানিয়েছে। তারা বলেছে, ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের ওপর টার্গেট হামলা — আন্তর্জাতিক মানবাধিকার এবং যুদ্ধ আইন ভঙ্গ; যারা সত্যি ঘটনা জানিয়ে বিশ্বের সামনে তুলে ধরছিল, তাদের ওপর এমন অপপ্রচার ও সহিংসতা চালানো উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
গাজায় চলমান বিদ্যুৎ, পানীয় জল, চিকিৎসা ও ত্রাণ সামগ্রীর সংকট — আর এই নতুন হামলা, সব মিলিয়ে গাজার মানুষের জন্য পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে উঠছে। বিশেষ করে, যেসব পরিবার ইতিমধ্যেই নিজের বাড়ি হারিয়েছে, আশ্রয় খুঁজছে, তারা এখন নতুন মারাত্মক বিপদে।
একই সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রতি আস্থা যেভাবে কমছে; শান্তি প্রক্রিয়া ও রাজনৈতিক সমাধানের দিকে যা আলো দেখিয়েছিল — ওই আশা ফের ধোঁয়াশার মধ্যে পড়ে গেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন — গাজার ঘটনা শুধু ফিলিস্তিন বা মধ্যপ্রাচ্যের নয়; এটা গ্লোবাল ন্যায্যতা, সংবাদ‑স্বাধীনতা, মানবাধিকার এবং আন্তর্জাতিক আইন সম্পর্কে — বিশ্বকে যে বার্তা পাঠানো হচ্ছে, তার বিরুদ্ধে শুধু প্রতিবাদই নয়; সুসংগঠিত নেতৃত্ব, ন্যায্য বিচারের দাবিও এখন সবচেয়ে জরুরি।
এই নতুন হামলার পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ব নেতারা, কূটনৈতিক সম্প্রদায়, জাতিসংঘ প্রভৃতি — কি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, সেটা এখন দেখার বিষয়। গাজার সাধারণ মানুষ, শিশু, বয়স্ক, অসহায় — তাদের জন্য সময় আরও বিপজ্জনক।



