গতকাল, ১ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে, মধ্যরাতের প্রায় ৭০ নটিক্যাল মাইল (প্রায় ১৩০ কিলোমিটার) দূরে গাজার সমুদ্রসীমানার বাইরে গ্লোবাল সুমুদ নামক একটি আন্তর্জাতিক সহায়তা ফ্লোটিলা ইস্রায়েলি নৌবাহিনীর দ্বারা আটক করা হয়েছে — এই অভিযানটিতে অন্তত ৩১৭ জন স্বেচ্ছাসেবী গ্রেফতার করা হয়েছে বলে ফ্লোটিলার ট্র্যাকার ও সংবাদসংস্থাগুলি জানিয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা বিভিন্ন দেশের নাগরিক—আইনজীবী, পরিবেশ কর্মী, সাংসদ ও মানবাধিকার কর্মীসহ ছিলেন, এবং এই ফ্লোটিলাটি গাজায় ন্যায্য মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে যাত্রা করেছিল।
2 Oct 2025 | Pic: Collected
আটককৃত জাহাজগুলিকে ইস্রায়েলের আশদোদ বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেই প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, সেখান থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তি ও জাহাজগুলির বৈধতা পরীক্ষা ও নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু হবে। ঘোষণা করা হয়েছে যে, আটককৃতরা প্রায়ই ডিপোর্টেশন (নির্বাসন) প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হবেন। ফ্লোটিলার আয়োজকরা দাবি করেছেন যে এই অভিযান অফিসিয়াল ও শান্তিপূর্ণ প্রচেষ্টা ছিল এবং তারা ইস্রায়েলের ব্লকেড উর্ধ্বে মানবিক সঙ্কট তুলে আনতে চেয়েছিলেন।
উদ্যোগকর্তারা জানিয়েছেন যে, একটি জাহাজ—Mikeno—সম্ভবত ইস্রায়েলের নজর এড়িয়ে গাজার দিকে এগিয়ে যেতে পেরেছে, যদিও ইস্রায়েল বলেছে যে কোনও জাহাজকে গাজায় পৌঁছাতে দেওয়া হয়নি। তথাকথিত ব্লকেড এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা, যোগাযোগ ছিন্নকরণ এবং জাহাজের বর্ডিং—এসব বিষয় নিয়ে ফ্লোটিলারা অভিযোগ তুলেছে যে তাদের উঠানামা, হাতবদল এবং বৈদ্যুতিক বাধা দেওয়া হয়েছে।
এটি গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার জন্য একটি বড় প্রতিকূল ঘটনা। এই ফ্লোটিলা মূলত ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে গঠিত হয় এবং তার উদ্দেশ্য গাজার ওপর ইস্রায়েলের সমুদ্র অবরোধ ভাঙা ও মানবিক সহায়তা পৌঁছানো ছিল। উদ্যোগের অন্তর্ভুক্ত ছিল বিভিন্ন দেশ এবং সংগঠন, যে সবাই একসাথে কাজ করার পরিকল্পনা করেছিলেন। আন্তর্জাতিক অনেক দেশ এই ঘটনার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
এই ঘটনায় আইনগত, কূটনৈতিক ও মানবাধিকার প্রশ্নগুলো সামনে এসেছে — যেমন আন্তর্জাতিক জলসীমায় বর্ডারিং বৈধ কি না, আটক ব্যক্তিদের অবস্থা ও অধিকার কী হবে, এবং গাজার মানবিক অবস্থা কতটা প্রভাবিত হবে।



