বর্তমানে ভারতের জ্বালানিতে একটি বড় কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক রূপান্তর ঘটতে পারে — কারণ ভারত যুক্তরাষ্ট্র থেকে গ্যাস (তেলের পাশাপাশি এলএনজি বা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) আমদানি করার পরিকল্পনা করছে, এবং এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে চাপের মুখে।

17 Nov 2025 | Pic: Collected
এই পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে একাধিক কারণ: প্রথমত, ট্রাম্প প্রশাসন ভারতের ওপর শক্তি বাণিজ্য চাপ সৃষ্টি করছে। যুক্তরাষ্ট্র চায় ভারত রাশিয়ার ভাজা তেল-গ্যাস আমদানিকে ধীরে ধীরে কমিয়ে দিক এবং মার্কিন উৎসে নির্ভরতা বাড়াক।) এমন অবস্থায়, ভারত “উৎস বৈচিত্র্য” করার পথে এগিয়ে যাচ্ছে — অর্থাৎ, একদিকে মধ্যপ্রাচ্য বা রাশিয়া থেকে তেল-গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নতুন সরবরাহকারী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে নিচ্ছে।
এছাড়া, ভারতের এক প্রতিনিধি দল ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র সফরে পৌঁছেছে এবং বাণিজ্য ও এনার্জি বিষয় নিয়ে আলোচনায় রয়েছে, বিশেষত “জ্বালানি কর আরোপ, দীর্ঘমেয়াদী গ্যাস চুক্তি এবং আমদানির শুল্ক হ্রাস” মতো বিষয়গুলোর ওপর।
ভারতের সরকারি গ্যাস সংস্থা GAIL ইতিমধ্যেই আমেরিকার এলএনজি প্রকল্পে অংশ নিতে চাচ্ছে: একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে তারা প্রস্তাব দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে একটি এলএনজি প্রকল্পে ২৬ শতাংশ অংশীদারিত্ব করার।এই অংশীদারিত্বের পাশাপাশি, GAIL আগামী ১৫ বছরের জন্য বার্ষিক প্রায় এক মিলিয়ন মেট্রিক টন এলএনজি আমদানি করতে চায়।
ফরাসি এনার্জি কোম্পানি TotalEnergiesও ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র থেকে গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধির পরিকল্পনা করছে — তারা আরও বেশি এলএনজি বিক্রি করতে চায় ভারতের বাজারে।
তবে এই পরিকল্পনায় চ্যালেঞ্জও কম নেই। যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানির ক্ষেত্রে পরিবহন ব্যয়, সাপ্লাই চেইন ঝুঁকি এবং মূল্য ওঠানামা বড় বিষয় হিসেবে দাঁড়াতে পারে। পাশাপাশি, এই নতুন চুক্তি ভারতের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি শিল্পে টেকসইতা ও প্রতিযোগিতার দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছে।
রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও এই সিদ্ধান্ত স্পন্দন সৃষ্টি করছে। ভারতের সরকার যদি যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকে গুরুত্ব দেবে, তাহলে তা কেবল একটি বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত নয় — এটি কূটনৈতিক বার্তা দিচ্ছে যে তারা শক্তি নিরাপত্তা এবং ভরসাযোগ্য উৎসে নতুন পথ খুঁজছে।
পরিশেষে, ভারতের এই যুক্তরাষ্ট্র-গ্যাস অগ্রসর পরিকল্পনা ভবিষ্যতে দেশটির জ্বালানি নিরাপত্তাকে শক্তিশালী করতে পারে। তবে এর কার্যকারিতা নির্ভর করবে গ্যাস চুক্তি, মূল্য স্থিতিশীলতা এবং পরিবহন সহ অন্যান্য খরচে উদ্যোগের সাফল্যের ওপর।




