চীনের হাজার দ্বীপ ও সৈকতরক্ষিত হাই‐নৌ ক্ষমতার রূপায়ণে আজ একটি যুগান্তর মুহূর্ত এসেছে—চীন তার নতুন ও সর্বাধুনিক বিমানবাহী রণতরী Fujian-কে আনুষ্ঠানিকভাবে নৌবাহিনীতে যুক্ত করেছে। এ-৫ নভেম্বর হাইনানের সানয়া সমুদ্রবন্দর এলাকায় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, যিনি নিজে রণতরীতে উঠে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও ক্রুদের সমাগমকে উদযাপন করেছেন। Fujian হলো চীনের তৃতীয় বিমানবাহী রণতরী এবং প্রথম পূর্ণরূপে দেশীয় ডিজাইনে নির্মিত ক্যারিয়ার, যা বৈদ্যুতিক ক্যাটাপল্ট সিস্টেম (EMALS) যুক্ত প্রথম চী-র শিপ। এই নতুন রণতরীর মাধ্যমে চীন আন্তর্জাতিক নৌশক্তি হিসেবে নিজেদের উপস্থিতি আরও বিস্তৃত করার ইঙ্গিত দিচ্ছে—বিশেষ করে দক্ষিণ ও পূর্ব চীন সাগর এবং তাইওয়ান প্রণালীর আশপাশে।
7 Nov 2025 | Pic: Collected
উদ্বোধনে শি জিনপিং বলেন, “Fujian হলো আমাদের নৌবাহিনীর নতুন প্রতীক; এটি চীনের জাতীয় পুনর্জাগরণের পথে আরেক ধাপ। আমরা শান্তি চাই, কিন্তু প্রস্তুতও আছি।” স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে তিনি রণতরীর মার্কিন সংযুক্ত প্রযুক্তির তুলনায় নিজ প্রযুক্তির উন্নতি প্রসঙ্গে বলেছিলেন। রণতরীর বিশেষ বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে রয়েছে: নতুন EMALS ক্যাটাপল্ট সিস্টেম যা বড় ত্রি-উৎপর বিমান চালনায় সক্ষম, stealth জেট এবং এয়ারিয়ালের্বি প্লেন (AEW&C) সংহত করার ক্ষমতা রয়েছে, যা আগে চীনের পুরনো ক্যারিয়ারগুলো lacked করছিল।
রণতরীর উৎক্ষেপণ এই অর্থে গুরুত্বপূর্ণ যে এতে যুদ্ধ‐নৌসীমা ও নৌদৌত্য প্রসারের দিক থেকে চীন যুক্তরাষ্ট্রের পর দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্যারিয়ার বহর গঠন করছে।তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে—যদিও Fujian প্রযুক্তিগত দিক থেকে উন্নত, তবুও এটি এখনও পুরোপুরি অপারেশনাল সক্ষমতায় পৌঁছায়নি। প্রয়োজনে এটি এখনো ‘ফুল অপারেশনাল ক্যাপাবিলিটি’ অর্জন করতে কমপক্ষে এক বছরের মতো সময় নিতে পারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, Fujian-র উদ্বোধন চীনের সামুদ্রিক নীতিতে একটি বড় সংকেত। দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের প্রশাসনিক দাবিদারিত্ব, তাইওয়ান প্রণালীয়ের ঘনিষ্ঠ পর্যবেক্ষণ এবং ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় উত্তেজনায় এই রণতরীর রোল সক্রিয় হবে বলেই মনে করছেন তারা। তবে আবার বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের সমৃদ্ধ নৌবাহিনী, বহুবিধ সামরিক ঘাঁটি, পারমাণবিক চালিত ক্যারিয়ার ও বিশ্বজুড়ে পরিকল্পিত সহায়ক ভিত্তি এখনও চীনের থেকে অনেক এগিয়ে আছে।
চীনা রাষ্ট্রমাধ্যম বলছে, Fujian-র মাধ্যমে চীন এখন স্বাশ্রয়ীভাবে অত্যাধুনিক বিমান ও যুদ্ধপ্রযুক্তি একসঙ্গে পরিচালনা করার সক্ষমতা অর্জন করেছে—যেমন J-35 স্টেলথ জেট, KJ-600 এয়ারিয়ার্লি ওয়ার্নিং প্লেন ইত্যাদি। রণতরীর উদ্বোধনের সঙ্গে একসাথে হয় সামুদ্রিক বহরে অংশ নেওয়া হয় নতুন সাপোর্ট শিপ, সাবমেরিন ও যুদ্ধবিমান স্কোয়াড্রনের-উৎক্ষেপণ প্রস্তুতির কার্যক্রম। তবে চ্যালেঞ্জও কম নয়—অপারেশনাল কাঠামো, অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ, পুনরায় চালনা সাপ্লাই চেইন, সার্বক্ষণিক জ্বালানিসাপ্লাই ইত্যাদি দিক থেকে কাজ এখনো অনেক আছে। বিশেষ করে Fujian একটি কনভেভেনশনালি চালিত ক্যারিয়ার, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক ক্যারিয়ার পারমাণবিক চালিত—এখানে কার্যকর দূরচারি ও অপারেশনাল স্থিতিশীলতায় পার্থক্য রয়েছে।
চীনে এই অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন নৌবাহিনী প্রধান, সিভিল ও সামরিক ঊর্ধ্বতনরা; রণতরীর ঘাটে হাজির ছিলেন প্রায় ২ হাজারেরও বেশি কর্মকর্তা ও ক্রু-সদস্য। উদ্বোধনের পর শি জিনপিং নিজেই রণতরীর প্লাটফর্মে উঠে বিমানের টেকঅফ সিমুলেশনে অংশ নেন এবং ক্রুদের সম্বোধন করেন—“পার্টির আদেশ পালন করো, যুদ্ধ সক্ষম হো, বিজয় নিশ্চিত করো” এই ধরনের আদেশ দেওয়া হয় বলে চীনা সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে।s
এই রণতরীর উদ্বোধন নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একদিকে অনেক দেশ চীনের সামুদ্রিক প্রভাব বৃদ্ধিকে উদ্বেগের চোখে দেখছে—বিশেষ করে তাইওয়ান, জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র। তারা বলছে, চীন এখন শুধুই পার্শ্ববর্তী জলসীমায় নয়—দূরবর্তী দ্বীপ ও গ্লোবাল স্থানেও শক্তি প্রক্ষেপণ করছে। অন্যদিকে চীন বলছে, এটি কোনো আগ্রাসী পদক্ষেপ নয়, বরং একটি প্রতিরক্ষা ক্ষমতার অংশ এবং “শান্তিরক্ষা” ও “হিমপ্রস্থ নৌসীমা প্রতিরক্ষা”র উদ্দেশ্যে।



