চীনের চিশুই নদী (Chishui He), যেটি ইয়াংজি নদীর প্রধান উপনদী এবং ৪০০ কিমি দ্যায় দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের ইউনান, গুইঝো ও সিচুয়ান প্রদেশে প্রবাহিত হয়, তার পরিবেশ পুনরুদ্ধারে একটি বিরল ও সুদূরপ্রসারী উদ্যোগ নিয়েছে চীন: ৩০০টি বাঁধ অবশেষে ধ্বংস করা হয়েছে ও ৩৪২টি ছোট জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ করা হয়েছে । এই উদ্যোগ ২০২০ সালে শুরু হয়, এবং ২০২৪ সালের শেষ পর্যন্ত সেই ৩৫৭টির মধ্যে ৩০০ বাঁধ অপসারণ করা হয়েছে, ৩৭৩ কেন্দ্রের মধ্যে ৩৪২টি স্থগিত করা হয়েছে ।

28 July 2025 | Pic: Collected
কেন করল চীন?
প্রাকৃতিক বাস্তুসংস্থান ও জীববৈচিত্র্য রক্ষাই মূল কারণ। বাঁধ ও জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলির কারণে নদীর প্রবাহ বাধাগ্রস্থ হয়ে উঠে, মাছের প্রজনন ও অভিবাসন পথ রুদ্ধ হয়, অক্সিজেন কমে যায় এবং বাস্তুসংলগ্ন পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিশেষ করে যাংজি স্টার্জন মাছ—যা ২০২২ সালে IUCN দ্বারা ‘বন্যে বিলুপ্ত’ ঘোষণা করা হয়েছিল—তার প্রজনন পুনর্ব্যবস্থা সম্ভব হয় পুনরায় নদীর সরল প্রবাহ ও বাস্তুসংযোগ ফিরে পেলে ।
চায়না একাডেমি অব সায়েন্সেসের হাইড্রোবায়োলজি ইনস্টিটিউটের গবেষক লিউ ফেই জানাচ্ছেন, ২০২৩ ও ২০২৪ সালে স্টার্জন মাছের প্রাপ্তবয়স্ক ও অণ্ডীবিহীন সন্তান নদীতে অবমুক্ত করা হয়, এবং ২০২৫ এপ্রিল মাসে গুইঝো প্রদেশে প্রজনন লক্ষণ হিসেবে চেঁচামেচি শুনা গিয়েছিল।
এক নজরে সুফল
- প্রবাহ পুনরুদ্ধার ও মাছের অভিবাসন পথ পুনরায় সংযোগ: বাঁধ অপসারণে নদী তার প্রাকৃতিক গতিতে ফিরে এসেছে।
- বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ: কয়েকগুণ বাঁধ মাটি টেনে গিয়েও পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করার মাধ্যমে ইকো-সামঞ্জস্য বজায় রাখা হয়েছে।
- আন্তর্জাতিক নজির ও পরিবেশ মডেল: এটি চীনের পরিবেশ রক্ষণে এক ‘দর্শন’ প্রকল্প হিসাবে বিশ্বে গ্রহণযোগ্য, যেখানে উন্নয়ন ত্যাগ না করেই প্রাকৃতিক বাস্তুসংরক্ষণ করা সম্ভব তথাকথিত।
নীতি ও আগাম পরিকল্পনা
চীনে এই উদ্যোগে ২০২০–২১ সালে থেকেই নির্বাহী বিধিনিষেধ ও ‘ফিশিং ব্যান’ প্রযোজনা শুরু হয়। পাশাপাশি স্যান্ড মাইনিং নিয়ন্ত্রণ ও নতুন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কঠোর পরিবেশযোগাযোগ প্রটোকল গৃহীত হয়। সিচুয়ান প্রদেশে ৫১৩১টি ছোট জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র সংশোধন করা হয়, যেখানে ১২০০টি বন্ধ করা হয়েছিল ।
কেন এটা এত গুরুত্বপূর্ণ?
- প্রকৃত জলবায়ু স্থায়িত্ব ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা: চীনের সাফল্য প্রমাণ করে—যখন বাঁধ অপসারিত হয়, তখন নদীর বাস্তুসংরক্ষণ ও মাছের প্রজনন পথ পুনরুদ্ধার হয় এবং দীর্ঘমেয়াদি জীববৈচিত্র্য রক্ষা সম্ভব হয়।
- বিশ্বে পরিবেশ নীতি নিয়ন্ত্রিত উৎসাহ: গ্রীন ডেভেলপমেন্ট ও রিবিল্ড রিভার ইনিশিয়েটিভে এটি একটি মারকাটারি মডেল।
- গোয়েন্দা ও গবেষণা ফল: লিউ ফেই-এর ٹیم এখন টেস্টিং করে দেখছে মাছ প্রজননের ফলাফল সফল কিনা—নাসা ইত্যাদির মতো বৃহৎ পর্যায়ে ডাটা বিশ্লেষণাধীন। ফল ইতিবাচক, যা ভবিষ্যতে আরও নদীতে প্রয়োগযোগ্য হতে পারে।
ইকোলজিক্যাল পরিকল্পনায় চীন একটি জোরালো বার্তা দিয়েছে: উন্নয়ন ও জলের প্রবাহের মধ্যে ভারসাম্য গড়া সম্ভব, এমনকি বিশাল প্রকৌশল কাঠামো অপসারণ করেও বাস্তুসংরক্ষণ সফল করা যায়। ৩০০টি বাঁধ ধ্বংস, ৩৪২টি ছোট জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থগিত রাখা—এই অভিযান মানুষের নয় বরং নদীর স্বার্থে। Yangtze sturgeon সহ বিলুপ্তির পথে থাকা প্রজাতিরা ফিরে আসছে, যা ভবিষ্যতের জন্য আশার প্রতীক। তবে এই প্রক্রিয়ায় পরিবেশ ও বাস্তুসংরক্ষণ একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতি রূপ নিয়েছে—যা আন্তর্জাতিকভাবে এক গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ ও দৃষ্টান্ত হয়ে আবির্ভূত হচ্ছে।




