চীন সম্প্রতি এক ব্যতিক্রমী গবেষণা অভিযানে মহাকাশে পাঠিয়েছে ইঁদুর — স্থানীয় ভাষায় বলা হয় ‘মাস’ — যা রীতিমতো আলোচনা সৃষ্টি করেছে। Shenzhou 21 অভিযানের অংশ হিসেবে ওই দেশ প্রথমবারের মতো তার স্থায়ী মহাকাশ স্টেশন Tiangong-এ মানুষের সঙ্গে মানবসদৃশ প্রাণিদের পরীক্ষণ চালাবে। এই অভিযানে তিনজন নভোচারীর সঙ্গে রয়েছে চারটি ছোট ইঁদুর: দুই পুরুষ ও দুই মহিলা।
3 Nov 2025 | Pic: Collected
চীনের সরকারের মতে, এই ধরনের প্রাণিজ পরীক্ষা তাদের মহাকাশ জীববিজ্ঞান ও মানববিকাশ গবেষণাকে এক নতুন পর্যায়ে নিয়ে যাবে। বিশেষ করে তারা লক্ষ্য করছে—অগ্রিম মহাকাশ অভিযানে মানুষ দীর্ঘসময় অবস্থান করলে শরীর ও মন-দুইই কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায়। ইঁদুররা থাকবে একটি সুনির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে এবং গুণগতভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে কীভাবে গ্র্যাভিটিহীনতা, সীমিত স্পেস ও নির্মিত আবাসিক পরিবেশে তাদের স্বভাব ও শারীরিক কার্যকলাপ পরিবর্তিত হয়।
উদাহরণস্বরূপ, চীনের সরকারি সংবাদসংস্থা জানায়, এই ইঁদুরদের মধ্যে থেকে বাছাই করা হয়েছে ৩০০-রও বেশি প্রার্থীর মধ্যে থেকে, বেশ কঠোর ৬০ দিনের প্রশিক্ষণ পর।তাঁদের মিশন হবে সীমিত সময়ের জন্য স্টেশনে অবস্থান করা, তারপর ফিরে আসা এবং ফিরে এসে বিজ্ঞানীরা বিশ্লেষণ করবেন তাদের অভ্যন্তরীণ পরিবর্তন। এই ধরনের গবেষণা ভবিষ্যতে মানুষ-মূলক দীর্ঘসময় মহাকাশে অভিযানের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন গবেষকরা।
চীনের মহাকাশ সংস্থা বলছে, “এই অভিযান আমাদেরকে কীভাবে প্রাণিজ-প্রজনন, জৈবিক অভিযোজন ও মনোবল পরিবর্তন হয় তার প্রাথমিক ধারণা দেবে।” পাশাপাশি, এ ধরনের গবেষণা চীনের বৃহত্তর মহাকাশ অভিযান কৌশল—মঙ্গল বা চাঁদে মানুষ পাঠানো — সফল করার প্রস্তুতির অংশ। তারা ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে মানুষের পদার্পণের পরিকল্পনা করছে।
অনেকে প্রশ্নও তুলছেন—এই ধরনের প্রাণিজ পরীক্ষার নৈতিকতা কী হবে, বস্তুগত মানব-স্বাস্থ্য বিপর্যায় কী হতে পারে, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে চীন বলছে, এটি সাধারণ প্রাণিজ গবেষণার অংশ, যা ইতিমধ্যে বেশ কয়েক দেশের মহাকাশ সংস্থার দ্বারা চালু রয়েছে। দ্বারা উদাহরণ যেমন—মাউস বা ইঁদুর দিয়ে অভ্যন্তরীতে বসবাসের প্রভাব দেখা হয়েছে আগে থেকেই।
এই প্রেক্ষাপটে, বলা যায়—চীন এই অভিযান থেকে শুধু প্রযুক্তিগত অগ্রগতি নয়, দীর্ঘ মেয়াদী মানবিক অভিযানের মানসিক ও শারীরিক প্রস্তুতির একটি নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করতে চাইছে। আগামী দিনগুলোতে এই ইঁদুরদের ফলাফল প্রকাশ পেলে, সেটি গবেষণা-জগতে ও মহাকাশ নীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।



