মার্কিন ইকনোমিক ও সিকিউরিটি রিভিউ কমিশন (U.S.-China Economic & Security Review Commission) একটি প্রতিবেদনে দাবি করেছে, ভারত-পাকিস্তান মধ্যে মে ২০২৫-এর সীমান্ত সংঘাতে চীন তার আধুনিক সামরিক প্রযুক্তি সক্রিয়ভাবে পরীক্ষা করেছে — যা তাদের অস্ত্র শিল্পের জন্য ‘নির্মল পরীক্ষার মাঠ’ হয়ে ওঠে।

22 Nov 2025 | Pic: Collected
রিপোর্ট অনুযায়ী, এই সংঘর্ষে প্রথমবার ব্যবহার করা হয় HQ-9 বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, PL-15 এয়ার-টু-এয়ার ক্ষেপণাস্ত্র, এবং J-10 যুদ্ধবিমান, যা চীনের প্রতিরক্ষা খাতে একটি বড় সাফল্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
কমিশন দায়রা করে যে, পাকিস্তান যুদ্ধ চলাকালে চীনের কাছ থেকে ‘লাইভ ইনপুট’ পেয়েছিল — অর্থাৎ চীন তৎক্ষণাৎ তথ্য ও গৃহীত পদক্ষেপের ওপর নজরদারি ও সমর্থন দেয়। একই সাথে চীনের দূতাবাসগুলো “উদ্বোধন করেছে” তাদের অস্ত্রের “সফলতা” এবং যুদ্ধের পরে অস্ত্র বেচাবাজারে সেই সাফল্যকে প্রমোট করেছে।
মার্কিন রিপোর্ট বলেছে, যুদ্ধের পরেই চীন পাকিস্তানে একটি “নতুন প্রতিরক্ষা প্যাকেজ” অফার করে — যার মধ্যে রয়েছে J-35 ফাইভথ-জেনারেশন বিমান, KJ-500 ওয়ার্নিং ওয়ার্নিং বিমান এবং ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
অনেক বিশ্লেষক এই ঘটনাকে একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখেছেন: চীন শুধু অস্ত্র বিক্রি নয়, বরং তাদের শক্তি ও প্রযুক্তি ক্ষমতা গ্লোবাল পরিমণ্ডলে প্রদর্শন করার সুযোগ পেয়েছে। বিশেষ করে, চীনের অস্ত্র রপ্তানিকারক হিসেবে মর্যাদা বৃদ্ধি পেতে পারে কারণ তারা বাস্তব যুদ্ধে পরীক্ষিত প্রযুক্তি দেখাতে পেরেছে।
তবে কিছু সমালোচক সতর্ক করেছেন, এটি এক গভীর কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ। কারণ চীনের এই পদক্ষেপ দক্ষিণ এশীয় নিরাপত্তা ভাস্কর্যে পরিবর্তন আনতে পারে, এবং এটি ভারতের সঙ্গে সীমান্ত ও প্রতিরক্ষা দৃষ্টিকোণ থেকে নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করছে।
সার্বিকভাবে, এই রিপোর্টটি চীনের গ্লোবাল প্রতিরক্ষা কৌশলে এক নতুন অধ্যায় নির্দেশ করে — যেখানে তারা শুধুমাত্র অস্ত্র বিক্রি করছে না, বরং এক বাস্তব এবং উত্তেজনাপূর্ণ ভৌগলিক কৌশলগত প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে, যেখানে ভারত-পাকিস্তান সংঘাত একটি কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করছে।




