২০২৫ সালের অক্টোবরের মাঝামাঝি সময় মার্কিন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হঠাৎ ঘোষণা করলেন যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁকে “আজ বলেছে ভারত রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করবে”। ট্রাম্প বললেন, “তিনি নিশ্চয় বলেছেন, তারা রুশ তেল আর কিনবে না, একটু সময় লাগবে, কিন্তু খুব শিগগির হবে।”
কিন্তু ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাত্ক্ষণিক ঘোষণা করে বলেছে, এমন কোন ফোনালাপ বা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি। এই দুইপক্ষের বিবাদে উঠে এসেছে পুরো বিশ্বের চোখ, কারণ বিষয়টি শুধু তেলবাণিজ্য নয় — এর সঙ্গে জমে আছে গ্লোবাল কূটনীতি, শক্তি নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রভিত্তিক স্বায়ত্তশাসনের প্রশ্ন।

22 Oct 2025 | Pic: Collected
ভারত বর্তমানে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল আমদানিতে অন্যতম বড় দেশ। ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসন বলছে, ভারতের এ ধরণের আমদানি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ অর্থনৈতিক খরচ চালাতে সহায়ক হচ্ছে।
কিন্তু ভারত বলছে, “আমাদের প্রথম দায়িত্ব হলো দেশবাসীর জন্য সুরক্ষিত ও যুক্তিসঙ্গত মূল্যযুক্ত শক্তি নিশ্চিত করা”, এবং বিদেশি চাপকে তারা সহজে মেনে নেবে না।
এই অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে — ভারতের এই মন্তব্যের পেছনে কি তথ্য-ভিত্তিক ধাপ আছে? অথবা কি হচ্ছে কূটনৈতিকভাবে ‘দুষ্টচক্র’ চলেছে? ভারতের মহাপরিচালক বলা হয়েছে, “আমাদের আমদানির নীতি নির্ধারণ হয় একমাত্র দেশের স্বার্থে, কারও নির্দেশে নয়।”
এদিকে ট্রাম্পের বক্তব্যের সময়সূচি ও তথ্য-বিজ্ঞান কিছু স্থানে অপ্রমাণিত বা একপক্ষীয় বলে দেখা দিয়েছে।
এই ঘটনার পরিণামে ভারত-আমেরিকার সম্পর্কেও কিছু অচল চিত্র দেখা দিয়েছে — যেমন আমদানিতে যুক্ত শুল্ক বাড়ানো, শক্তি বাণিজ্য জাতীয় আলোচনায় উঠেছে, এবং মনোভাবগতভাবে এক দেশকে অন্য দেশের কাছে ‘নতি স্বীকার করে দেওয়া’ না বলার জীবন্ত সঙ্কেত হিসেবে ধরা হচ্ছে।
যদিও এখনও রাশিয়ার তেল আমদানি দ্রুত বা ধীরে কমছে-না, তা নিয়ে উঠেছে বিভ্রান্তি। তবে ভারতের এক বিশ্লেষক মন্তব্য করেছেন, “এটা কেবল বন্ধের কথা নয়, এটা এক ধরণের ধাপে ধাপে ‘সংশোধন’ বা ‘সীমিত ব্যবহার’ কৌশল হতে পারে।”
এই পরিস্থিতিতে বলাই যায়, ভারত এখন একাধিক পথে এগোচ্ছে — এক দিকে শক্তি নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে, অন্য দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার সাথে তার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখতে চাইছে। ফলশ্রুতিতে, এই তেল-বিষয়টি কেবল জ্বালানির বিষয়ের বাইরে গিয়েছে, হয়ে উঠেছে কূটনৈতিক শক্তি খেলা।
বাংলা ভাষায় সহজ আলাপের মতো বললে — ট্রাম্প বললেন, ‘ভারত রাশিয়ার তেল ছাড়বে’- এবং ভারত বলল, ‘না, আমরা এমন কথা দেয়নি’। এখন দেখার বিষয়, বাস্তবে তেল আমদানিতে কতটা পরিবর্তন হবে, আর এই ধরনের ঘোষণা ভবিষ্যতে ভারতের বিদেশনীতি ও শক্তি নীতিকে কতখানি প্রভাবিত করবে।




