যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার ঘোষণা করেন, ভারত ও ব্রাজিলের ওপর অত্যন্ত উচ্চ আমদানি শুল্ক আরোপ করা হবে এবং দেশের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কারণে এই দুই দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক কঠিন পর্যায়ে পৌঁছেছে।
ট্রাম্প ভারতের পণ্যের ওপর ২৫% শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন, যা আগস্ট ১, ২০২৫ থেকে কার্যকর হবে । তিনি বলেন—”ভারত আমাদের বন্ধু হতে পারে, কিন্তু তাদের আমদানি শুল্ক অতিরিক্ত উচ্চ এবং আমদের পণ্যের জন্য বাধাগ্রস্ত।” সাথে তিনি যুক্ত করেন, “ভারত রাশিয়ার থেকে সামরিক সরঞ্জাম ও জ্বালানি কিনছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কাজ করছে।”

31 July 2025 | Pic: Collected
ট্রাম্প আরও জানান—ভারতের প্রতি বাণিজ্যিক পক্ষপাতিত্ব থেকে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার জন্য এটি একটি ‘additional penalty’ হিসাবেও ধার্য করা হয়েছে । প্ল্যাটফর্ম Truth Social-এ পোস্টে তিনি বলেছেন, ভারত দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ শুল্ক আরোপ করে এবং তা বিশ্বের মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ — আমেরিকার সঙ্গে চুক্তি শিথিল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ।
তাঁর একই দিনে এক নির্বাহী আদেশে ব্রাজিলি পণ্যের ওপর ৫০% শুল্ক আরোপ করা হয়—এর মধ্যে একটি ৪০% অতিরিক্ত শুল্ক হিসেবে গণ্য করা হয়েছে । তবে এই শুল্কে বিমান, জ্বালানি, কমলা রসসহ কিছু কিছু পণ্যকে ছাড় দেওয়া হয়েছে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জায়ার বলসোনারোর বিরুদ্ধে বিচার ব্যবস্থা একটি “witch hunt” এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতায় হুমকি স্বরূপ—এই দাবি করে শুল্ক আরোপ ভিত্তি করা হয়েছে ।
এরই মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছেছিল ট্রাম্প প্রশাসন: এতে কোরিয়া আমেরিকায় বিনিয়োগ করবে ৩৫০ বিলিয়ন ডলার এবং ১০০ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি কিনবে, শুল্ক হবে ১৫% ।
🇮🇳 ভারতের প্রতিক্রিয়া:
ভারত সরকার এই শুল্কনির্ধারণকে গুরুত্বসহকারে পর্যবেক্ষণ করছে এবং বিবৃতি দিয়েছে—দুই দেশের মধ্যে “ন্যায্য, ভারসাম্যপূর্ণ এবং পারস্পরিক লাভজনক” বাণিজ্য চুক্তির জন্য আলোচনা চলছেই । তবে এখনও কাঠামোগত কোনো সমাধানে পৌঁছানো হয়নি।
বিরোধী দল ও বিশ্লেষকের মন্তব্য:
ভারতের কংগ্রেস দল থেকে মুখপাত্র জয়রাম রমেশ শুল্ক আরোপকে দেশের অর্থনীতির জন্য করুণ এবং প্রধানমন্ত্রী মোদীর জন্য রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে বর্ণনা করেছেন ।
বিশ্লেষকদের মতে—এই ধরনের একতরফা শুল্ক বিশ্ববাণিজ্যে অস্থিরতা সৃষ্টি করবে এবং বিনিয়োগে অনিশ্চয়তা বাড়াবে।
গ্লোবাল প্রেক্ষাপট:
এপ্রিল ২০২৫-এ ট্রাম্পের “Liberation Day tariffs” নীতির একটি অংশ হিসেবে এই ধরনের reciprocal শুল্ক প্রচলনের ভিত্তি তৈরি হয়। যদিও ব্যবসায়িক সংস্থাগুলো ও যুক্তরাষ্ট্রের Court of International Trade তখন কিছু শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করে।
এরমধ্যে জাপান, ইউরোপ, যুক্তরাজ্য, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া ও পাকিস্তানের মতো দেশগুলো আলোচনায় চুক্তি করে ন্যূনতম শুল্কে পৌঁছেছে। অন্যদিকে ভারত, ব্রাজিল, মেক্সিকো, কানাডা ও চীন এখনও চুক্তিবহির্ভূত স্থিতিতে রয়েছে, তাই ১ আগস্ট নতুন শুল্ক কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল ।




