যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাড়তে থাকা বাণিজ্য উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন, যা স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড গড়েছে। সোমবার স্পট স্বর্ণ এক ওন্সে প্রায় ৪,০৭৮.০৫ ডলারে পৌঁছায় এবং পরে ৪,০৬৭.৭৯ ডলারে স্থায়ী হয়। ডিসেম্বরের ফিউচারের দামও প্রায় ৪,০৯৩.৫০ ডলার এ উঠে আসে। দ্বিতীয় ধাতু রূপ সিলভারও এক নজিরবিহীন উচ্চ গতিতে ওঠে, এক ওন্সে ৫১.৭০ ডলার ছুঁয়ে। এই উত্থানে যোগ দেয় FED (যুক্তরাষ্ট্র ফেডারেল রিজার্ভ) এর সুদের হার কাটার প্রত্যাশা এবং ডলারের দুর্বলতা।

13 Oct 2025 | Pic: Collected
গত শুক্রবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা দেন যে, চীনের পণ্যে ১০০ % শুল্ক আরোপ করা হবে এবং রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ কঠোর করা হবে — যা বিশ্ব অর্থনৈতিক বাজারে ঝড় তুলেছে। এই ঘোষণার উত্তরে, বিনিয়োগকারীরা একরোখাভাবে নিরাপদ সম্পদ যেমন স্বর্ণে ধন এনে, ঝুঁকিমূলক স্টক ও বন্ড বিক্রি করেছেন।
ভারতীয় বাজারেও এই প্রভাব দেখা গেছে — MCX এ স্বর্ণ ফিউচারের দাম ১০ গ্রামে রুপি ১,২৩,৯৭৭-এ পৌঁছেছে, যা একটি সর্বোচ্চ রেকর্ড। একইভাবে, সিলভারও ভারতের ফিউচার মার্কেটে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই রিকোধ বৃদ্ধি বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ আশ্রয় দাবি, সুদের হার হ্রাসের প্রত্যাশা, এবং বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে দিকহীনতা—এই তিনটি কারণ একসাথে এই সোনার রেকর্ড গড়তে বড় ভূমিকা রেখেছে। তারা আরও বলছেন, যদি সুদের হার কমিয়ে আনা হয়, তাহলে স্বর্ণের প্রতি চাহিদা আরও বাড়তে পারে।
তবে সবাই জানে, এই উত্থান স্থায়ী হবে কি হবে না — কারণ সুদের হার কাটা ও বাণিজ্য চুক্তি সম্পর্কে যে অনিশ্চয়তা রয়েছে, সেটিই মূল পরীক্ষা। পুঁজিবাজার, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ক্রয়, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ প্রবণতা ইত্যাদি সবই আগামী দিনগুলোতে স্বর্ণের দামের গতিপথ নির্ধারণ করবে।




