মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) হোয়াইট হাউসে ‘One Big Beautiful Bill’ অনুষ্ঠানে ঘোষণা করেন—যুক্তরাষ্ট্র গতকালই চীনের সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যা বিরোধপূর্ণ শুল্ক ইস্যুতে আপসের পরিচয় দিয়েছে।
ট্রাম্প বলেছিলেন, “চীনের সঙ্গে চুক্তি সই করেছি… চীনকে আমরা উন্মুক্ত করতে শুরু করেছি—এমন কিছু যা কখনো ঘটতে পারে না।”

Source: Ittefaq | 27 June 2025 | Pic: Collected
সেই ঘোষণা না ক্ষয়াত, ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের ভারতের সঙ্গে একটি “ভালোই বড়ো” (very big) বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমাদের একটি আসছে—সম্ভবত ভারতের সাথে, খুব বড়ো একটি—যেখানে আমরা ভারতকে উন্মুক্ত করতে যাচ্ছি… চীন ডিলেই আমরা চীনকে খুঁজে বের করেছি,” ।
চুক্তির জটিলতা ও প্রেক্ষাপট
এই চুক্তিতে মূল ফোকাস হতে পারে রেয়ার আর্থ (rare earth) উপাদান—যেমন চীনের রপ্তানি সহজতর করা হয়েছে, এবং মার্কিন শুল্ক কিছুটা প্রত্যাহার করা হচ্ছে । মার্কিন বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিক মনে করছেন, “১০টি বড়ো চুক্তির” একটি হিসেবে চীনের পর ভারতের চুক্তি হতে পারে ।
আলোকপাত করলে বোঝা যায়, মার্কিন প্রশাসন ৯ জুলাইয়ের শুল্ক মওকুফের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে গতি বাড়াচ্ছে—এই সময়সীমার আগে ভারতের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হলে তা বড় কৌশলগত সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হবে ।
ভারতীয় দৃষ্টিভঙ্গি
এই বিষয়ে Economic Times উল্লেখ করেছে—ট্রাম্প চুক্তিতে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ভারত তার বাজার খুলে দেবে । এছাড়া আরও জানানো হয়েছে, ভারতে এখনো ট্যারিফ, অটো পার্টস, অ্যালকম টি ইত্যাদি নিয়ে কিছু জটিলতা রয়েছে । তবে আলোচনা গড়াতে চাইছে দুই দেশ।
ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রী পিয়ুশ গয়েল এবং মার্কিন বাণিজ্য সচিব লুটনিক এক মঞ্চে এসে জানিয়েছেন—উভয় পক্ষ চাইছে একটি “ন্যায্য ও ভারসাম্যপূর্ণ” ডিল ।
রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব
- এই চুক্তি বাস্তবে গড়ে উঠলে মূল্য সংবেদনশীল rare earth–এর আমদানিতে সুবিধা সৃষ্টি হবে ।
- ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য দ্বিপাক্ষিক বাজার ও রপ্তানিতে বড় ভূমিকা রাখবে—ভারত ইতোমধ্যেই মার্কিন বাজারে গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকারী ।
- ট্রাম্প প্রশাসনের ‘Big Beautiful Bill’ লোকাল ইকোনমিক এজেন্ডার অংশ হিসেবে এই চুক্তি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বশালী হবে।
ট্রাম্প চীনের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি সই করে একটি যুগান্তকারী মাইলফলক স্থাপন করেছেন—এখন অপেক্ষা করছে ভারতের দিক থেকে একটি “ভালোই বড়ো” চুক্তির প্রতিফলনের। Rare earth–এ ক্লিয়ার অগ্রাধিকার থাকা সত্ত্বেও অটো পার্টস ও কৃষি শুল্ক নিয়ে আলোচনায় কিছু বাধা রয়ে গেছে, তা অতিক্রম না করলে ডীল পদ্ধতিগত উন্নতির পথে বাধার সম্মুখীন হতে পারে।
মার্কিন ও ভারতীয় উচ্চ পর্যায়ে আলোচনার পর এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে তা শুধু দুই দেশের মধ্যে নয়, বিশ্ব বাণিজ্য ব্যবস্থায়ও একটি বড় পরিবর্তনের সূচনা হবে।



