ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে আরও এক দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি-এর গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের ঠিক আগেই রাশিয়ার ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বাধা দিয়েছে শান্তি উদ্যোগের পথে, যার ফলে অন্তত দুই জন নিহত, অগণিত আহত এবং বিশাল স্থানে বিদ্যুৎ ও তাপ সরবরাহ ভেঙে পড়েছে।
28 Dec 2025 | Pic: Collected
এই হামলার ঘটনা ঘটে ২৬ ডিসেম্বর শনিবার ভোর থেকে শুরু করে প্রায় ১০ ঘণ্টা ধরে যখন ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও আশপাশের অঞ্চলগুলোকে লক্ষ্য করে রাশিয়া প্রায় ৫০০টি ড্রোন এবং ৪০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে থাকে। এই হামলায় কিয়েভের ডনিপ্রোভস্কি জেলায় ৭১ বছর বয়সি এক ব্যক্তি এবং পাশের বিল্লা সেরকভা শহরে আরও একজন মারা যান এবং কমপক্ষে ৩২ জন আহত হন, যার মধ্যে দুই শিশুও রয়েছে।
হামলা কেবল মানুষের প্রাণে ছোবল দেয়নি, বরং শহরটির বিদ্যুৎ ও তাপ সরবরাহ ব্যবস্থাকেও বড় ধরনের ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। স্থানীয় জ্বালানি কোম্পানি ডিটিই জানিয়েছে, এই হামলায় কিয়েভ ও আশপাশের ১০ লাখেরও বেশি ঘর বিদ্যুৎহীন হয়েছে, এবং প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এলাকা তাপ সরবরাহও বন্ধ হয়ে গেছে, এমন এক সময়ে যখন আবহাওয়া শীতকালে শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তারও নিচে নেমে যাচ্ছে।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা বলেন, হামলার লক্ষ্য ছিল জ্বালানি অবকাঠামো ও বেসামরিক স্থাপনা, এবং এটি অমন এক সময়ে এসেছে যখন আন্তর্জাতিক মঞ্চে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ সম্পর্কে শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা চলছে।
এই হামলাটি এমন এক পরিস্থিতিতে ঘটেছে যখন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি ফ্লোরিডায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন, যেখানে তারা ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের সমাধান ও শান্তি প্রক্রিয়া সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন। এই বৈঠককে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এ মুক্ত আলোচনা ও অস্ত্র বিরতির এক নতুন সম্ভাবনা হিসেবে দেখছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে প্রস্তাবিত ২০-দফা শান্তি পরিকল্পনা ও নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
তবে রাশিয়ার এই বড় আক্রমণটি আন্তর্জাতিক ঐক্য ও শান্তি প্রক্রিয়াকে বিপন্ন করতে পারে — বিশেষত যেহেতু এটি ঠিক বৈঠকের ঠিক আগেই সংঘটিত হয়েছে, এবং এতে মানুষের জীবন ও নাগরিক অবকাঠামো ভেঙে যাচ্ছে।
ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ প্রায় চার বছর ধরে চলছে, এবং এর ফলে হাজার হাজার নাগরিক প্রাণ হারিয়েছে ও লক্ষ লক্ষ লোক বাস্তুচ্যুত হয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, এই ধরনের হামলা শান্তির আলোচনাকে আরও জটিল করে দিচ্ছে এবং যুদ্ধবিরতি বা স্থায়ী সমঝোতা আনতে আরও বাঁধা সৃষ্টি করছে।
মার্কিন সাংবাদিকমাধ্যমও সংবাদ দিয়েছে, হামলা কিয়েভসহ বিভিন্ন শহরে ব্যাপক বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে এবং এতে নাগরিকদের জীবন বিপন্ন হয়েছে, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য সার্ভিসগুলো বিঘ্নিত হয়েছে।
জেলেনস্কি ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক নেতারা এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে রাশিয়া-র বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশ্লেষকরা মনে করেন, শান্তি আলোচনার মতো সংবেদনশীল মুহূর্তে এমন হামলা আন্তর্জাতিকভাবে আইন ও মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
কিন্তু অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক মহল ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের সমাধানে আরও জোরদার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, যেখানে আমেরিকা ও তার মিত্র দেশগুলো শান্তি পরিকল্পনার ওপর জোর দিয়ে আলোচনায় অংশ নিচ্ছে।



