তাইওয়ান ইস্যুতে আবার একবার চীন ও জাপানের মধ্যকার কূটনৈতিক উত্তেজনা নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। জাপানের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সানাে তাকাইচি পার্লামেন্টে ঘোষণা করেছেন, যদি চীন তাইওয়ানে সশস্ত্র আক্রমণ চালায় এবং জাপানের নিরাপত্তার জন্য তা “অস্তিত্ব-হুমকির” পর্যায়ে পৌঁছায়, তাহলে জাপান তার সামরিক বাহিনী মোতায়েন করতে পারে।

16 Nov 2025 | Pic: Collected
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই মন্তব্যে “গভীর উদ্বেগ” প্রকাশ করেছে এবং জাপানের রাষ্ট্রদূতকে বেইজিংয়ে তলব করা হয়েছে। বেইজিংয়ের দাবি, এসব মন্তব্য তাইওয়ানকে স্বাধীনতাবাদী সংকেত পাঠাচ্ছে এবং চীনের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে সরাসরি হুমকি।
চীনের রাজনীতি বিশ্লেষকরা বলছে, জাপানের এই হুমকি শুধুমাত্র একটি প্রমাণ যে জাপান তাইওয়ান প্রদার্থকে নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণে দেখছে। অন্যদিকে, জাপানে এটি প্রতিরক্ষা ও আত্মরক্ষার একটি মাইলফলক বলে কিছু রাষ্ট্রনায়ক ব্যাখ্যা করছেন।
উভয় দেশের এই কূটনৈতিক দ্বন্দ্বে চীন নিজ দেশের নাগরিকদের জাপান ভ্রমণ এড়িয়ে চলার আহ্বানও দিয়েছে, নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে।
এই উত্তেজনার পেছনে রয়েছে একটি বড় প্রেক্ষাপট — তাইওয়ান চীনের দাবি অনুযায়ী তাদের একটি প্রদেশ হলেও, অনেক দেশ তার স্বাধীন পরিচালিত সত্তাকে স্বীকৃতি দেয়। এই অবস্থায় জাপানের মতো শক্তিশালী দেশকে জড়িয়ে এই ইস্যু আরও জটিল ও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।
সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জাপানের এই রণনয়ায় চীনের ওপর চাপে বৃদ্ধি পাবে এবং ভবিষ্যতে এটি সামরিক সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে। তবে একাধিক কূটনীতিক সতর্ক করছেন যে, এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে শুধু চীনা–জাপানি দ্বন্দ্বই নয়, পুরো অস্ট্রো-প্রশান্তিক মহাদেশেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়তে পারে।




