ইরান সরকারের একজন সংসদ সদস্য আহমদ বাকশায়েশ সম্প্রতি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে বললেন, ইরান যদি চায়, তবে অনেক আগেই পারমাণবিক বোমা বানাতে পারত — এবং এই সিদ্ধান্ত নিলে তা করার সক্ষমতাও ছিল। বাকশায়েশ দাবি করেছেন, “আমি সব সময় বলেছি, আমাদের উচিত ছিল অনেক আগেই নির্মাণ করা,” এবং বলেন, ইরান পারমাণবিক শক্তি চুক্তি (NPT) ছাড়াই এটি করতে পারত। তবে ইরান সরকার শুধুমাত্র শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কার্যক্রম চালিয়ে আসছে বলে বহুবার দাবি করেছে।

3 Oct 2025 | Pic: Collected
এই দাবি এসেছে এমন এক সময়ে, যখন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ইরানের ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞাসহ অন্যান্য নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করেছে (snapback) — কারণ ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রমকে চুক্তি লঙ্ঘন হিসেবে দেখেছে পশ্চিমা দেশগুলি। রুশিয়া ও চীন এই নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করলেও, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র এগুলো বাস্তবায়নের পক্ষে।
এই প্রসঙ্গে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেইর নীতি উল্লেখযোগ্য: তিনি ইতিমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন যে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। এই ধরণের ঘোষণা “ফাতওয়া” নামে পরিচিত — অর্থাৎ ধর্মীয় নিষেধাজ্ঞা। কিন্তু অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করছেন, সেই ফাতওয়া কতটা স্থায়ী ও অচলনীয় হবে, এমন সংকটপূর্ণ সময়ের মধ্যে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বাকশায়েশের এমন মন্তব্য ইরানের প্রচলিত “শান্তিপ্রিয় পারমাণবিক” নীতি ও আন্তর্জাতিক স্তরে তার প্রতিশ্রুতির মধ্যে দ্বন্ধ সৃষ্টি করতে পারে। এমন সাক্ষাৎকার ও বিতর্ক পরিলক্ষিত হয় এমন এক উত্তেজনাপূর্ণ সময়ে — যখন ইরান ও পশ্চিমাদের মধ্যে পারমাণবিক আলোচনায় অমীমাংসিত অবস্থা বিরাজ করছে।
অর্থনৈতিক পর্যায়ে, নতুন নিষেধাজ্ঞার ফলে ইরানের অবস্থা আরও জটিল হবে: রিয়াল মুদ্রার অবমূল্যায়ন, বিদেশি বিনিয়োগ হ্রাস এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সীমাবদ্ধতা তার প্রাকৃতিক ফল। ইরান ইতিমধ্যে নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষিতে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় কিছু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে, যারা পারমাণবিক ও সামরিক অংশ সরবরাহে যুক্ত ছিল।
সাংবাদিক ও বিশ্লেষকরা উদ্বিগ্ন যে, এই ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্য পারমাণবিক অগ্রগতি প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করতে পারে — বিশেষ করে যদি আন্তর্জাতিক নজরদারি ও নিরীক্ষণ কমিয়ে দেওয়া হয়। কিছু গবেষণায় বলা হয়েছে যে, ৬০% সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মাত্র কয়েক কেজি ব্যবহার করে একটি সরল ধরণের পারমাণবিক অস্ত্র বানানো সম্ভব। এমন পরিস্থিতিতে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও পারমাণবিক নজরদারি সংস্থা (IAEA)–এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আরও জোরালো হতে পারে।
তবে কিছু লোক মনে করছেন, বাকশায়েশের মন্তব্য কেবল রাজনীতিক আলোচনা ছাড়া কিছু নয় — কারণ বাস্তবে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে হলে বড় পরিমাণ প্রযুক্তি, যুক্ত উপাদান ও গোপন ব্যবস্থা প্রয়োজন, যা সংস্থা, রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণের মধ্যে সমন্বয় ছাড়া সম্ভব নয়।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে, আন্তর্জাতিক দেশ ও সংস্থা এখন আরও সতর্ক দৃষ্টিতে ইরানের প্রতিক্রিয়া ও কায়িক অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করছে। যদি ইরান সত্যিই এমন পথে যায়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ও একটি নতুন পারমাণবিক প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ার আশঙ্কা থাকবে।




