রাজপদচ্যুত প্রিন্স অ্যান্ড্রু একবার থাইল্যান্ডে রাষ্ট্রীয় সফরের সময় একটি বিলাসবহুল হোটেলে ৪০ জন যৌনকর্মী নিয়ে গিয়েছিলেন। এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছেন ব্রিটিশ ইতিহাসবিদ অ্যান্ড্রু লাউনি। তিনি আরও জানান, ২০০০ সালের শুরুর দিকে অ্যান্ড্রু করদাতার অর্থায়নে ট্রেড এনভয় হিসেবে বিদেশ সফরের সুযোগ নিয়েছিলেন এবং এসব সফরকে নিজের বিলাসবহুল ছুটির মতো ব্যবহার করতেন।
7 Nov 2025 | Pic: Collected
ডেইলি মেইলের ‘ডিপ ডাইভ: দ্য ফল অব দ্য হাউস অব ইয়র্ক’ পডকাস্টে লাউনি বলেন, ২০০১ সালে অ্যান্ড্রুর বয়স ৪১ বছর ছিল। মধ্যবয়সী সংকটে তিনি তখন প্রচুর নারীর পেছনে ছুটতে শুরু করেন। প্রতিটি সফরে তিনি দুই সপ্তাহের ‘ব্যক্তিগত সময়’ রাখতেন, যার খরচ বহন করতেন করদাতারা।
লাউনি আরও বলেন, থাইল্যান্ড সফরে অ্যান্ড্রু রাজা’র জন্মদিন উদ্যাপনের জন্য যুক্তরাজ্যের প্রতিনিধি হিসেবে গিয়েছিলেন। তবে দূতাবাসে না থেকে তিনি নিজের পছন্দের পাঁচ তারকা হোটেলে উঠেন। সেখানে চার দিনে ৪০ জন যৌনকর্মী আনা হয়, যা কূটনীতিক ও অন্যান্য সহায়তায় সম্ভব হয়। এই তথ্য একাধিক সূত্র এবং থাইল্যান্ডের রাজপরিবারের সদস্যের মাধ্যমে যাচাই করা হয়েছে।
সাবেক ব্রিটিশ কূটনীতিক ইয়ান প্রাউড জানান, অ্যান্ড্রুর নারীসঙ্গের বিষয়টি দূতাবাসের মধ্যে বেশ পরিচিত ছিল। তিনি ব্যক্তিগত সফরেও প্রায় সবসময় দূতাবাস না গিয়ে নিজের পছন্দের হোটেলে থাকতেন। ব্যাংককের একটি নির্দিষ্ট বিলাসবহুল হোটেলে তিনি থাকতেন, কারণ সেখানে নিচতলায় তার প্রিয় নাইটক্লাব ছিল।
এই ঘটনার ধারাবাহিকতায় শুক্রবার প্রিন্স অ্যান্ড্রুকে যুক্তরাজ্যের ‘অফিশিয়াল রোল অব দ্য পিয়ারেজ’ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটি তার রাজকীয় উপাধি ও মর্যাদা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহারের একটি বড় পদক্ষেপ। এই সিদ্ধান্তের ফলে তার রাজকীয় মর্যাদা ও অধিকার প্রায় সব দিক থেকে সীমিত হয়েছে।
এই ঘটনা প্রিন্স অ্যান্ড্রুর ব্যক্তিগত জীবন ও মধ্যবয়সী সংকটের প্রভাবকে সামনে এনেছে, যেখানে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সফরকে তিনি নিজের বিলাসবহুল সময় হিসেবে ব্যবহার করেছেন। এটি ব্রিটিশ রাজপরিবারের অভ্যন্তরীণ নৈতিকতা ও নিয়মের প্রশ্নও উত্থাপন করেছে।



