পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজার (Niger) যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পাল্টা কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে সব মার্কিন নাগরিকের জন্য ভিসা প্রদানে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে এবং অনির্দিষ্টকালের জন্য তাদের দেশে প্রবেশও বন্ধ করেছে, এমনটাই জানিয়েছেন নাইজার সরকারি সংবাদ সংস্থা ও কূটনৈতিক সূত্র।
26 Dec 2025 | Pic: Collected
নাইজার এই পদক্ষেপ শুরু করেছে এই সপ্তাহ থেকেই এবং এটি পুরোপুরি কার্যকর হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, সব জাতীয়তার মার্কিন নাগরিকদের (পরিবেশনা, ব্যবসা, শিক্ষা, পর্যটনসহ) জন্য ভিসা প্রদান সম্পূর্ণ ও স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হয়েছে, এবং তারা আর নাইজারে যেতে পারবেন না।
এ সিদ্ধান্তকে নাইজার কর্তৃপক্ষ পারস্পরিকতার নীতির ভিত্তিতে নেওয়া বলে ব্যাখ্যা করেছে, যেখানে একটি দেশ যদি অন্য দেশের নাগরিকদের জন্য সীমাবদ্ধতা আরোপ করে, তাহলে সেই দেশের অতিথি নাগরিকদের জন্যও একই নিয়ম প্রয়োগ করা হবে। নাইজার এই পদক্ষেপকে তারা নিজের সার্বভৌমত্ব এবং কূটনৈতিক অবস্থান রক্ষার প্রচেষ্টা হিসেবে উপস্থাপন করেছে।
এই নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের সংশোধিত ভ্রমণ-নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়ায় আসে; ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ১৬ ডিসেম্বর এক ঘোষণা দেন, যেখানে প্রায় ৪০টি দেশের নাগরিকদের অধিকারবিশেষ ভিসা ও প্রবেশ-নিষেধাজ্ঞার এক বিরাট তালিকা তৈরি করা হয়েছে এবং নাইজারকে সম্পূর্ণ ব্যান (full ban)-এর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই নতুন নিষেধাজ্ঞাগুলো ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়ার কথা।
যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত বা পররাষ্ট্র দফতর সরাসরি বলছে না, কোন শর্তে নাইজারের নাগরিকরা আবার যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা ও প্রবেশাধিকার পেতে পারবে, এবং কোনো নির্দিষ্ট মাপকাঠিও জানানো হয়নি। এই ধরণের পরিবেশে দু’দেশের সম্পর্ক অনেকটা টানাপোড়েন এবং জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, নাইজার-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের এই উত্তেজনা শুধু দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ব্যবস্থায় এক নতুন ধরণের প্রতিক্রিয়া ও প্রতিরোধ কৌশল হিসেবে যেভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে তা নজরকাড়ার মতো। বিশেষ করে আফ্রিকার দেশগুলোতে বর্তমানে অনেকগুলোই নিজেদের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় পাল্টা, সমানব্যাপী ব্যবস্থা নেওয়ার প্রবণতা দেখাচ্ছে।
নাইজারের সিদ্ধান্তকে অনেকে বিপরীতে প্রতিক্রিয়া, নিগৃহীত কূটনীতি ও আন্তর্জাতিক সমঝোতার অভাব হিসেবেও দেখছেন, কারণ এক দেশের নাগরিকদের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা সাধারণত আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বিরল ঘটনা এবং এর উপর আন্তর্জাতিক চাপ ও সমালোচনাও রয়েছে।
বিশ্ব রাজনীতিতে এই ধরণের কূটনৈতিক উত্তেজনা দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে যখন এটি ভিজিটর ভিসা, ব্যবসা, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়সহ বহু ক্ষেত্রের নাগরিক উদ্যোগের ওপর সোজা প্রভাব ফেলে।
যদিও নাইজার কর্তৃপক্ষ দাবি করেছেন যে সিদ্ধান্তটি নাগরিকদের নিরাপত্তা ও সমান আচরণের প্রাথমিক নীতির প্রতিফলন, তবু আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এটিকে কূটনৈতিক উত্তেজনার একটি নতুন অধ্যায় হিসেবে মূল্যায়ন করছেন।
এইসব নিষেধাজ্ঞাগুলোকে “পারস্পরিক বা টিট-ফর-ট্যাট (Tit-for-Tat)” কূটনৈতিক পদক্ষেপ বলা হয়, যেখানে একটি দেশ অন্য দেশের ব্যবস্থাপনায় বিবাদ বা অসঙ্গতি দেখলে প্রতিক্রিয়া হিসেবে সমান পদক্ষেপ নেয়। এই ধরণের কূটনৈতিক লড়াইতে সাধারণ নাগরিকেরা প্রায়শই ভিসা, যাত্রা ও পারিবারিক ভ্রমণের সুযোগ হারায়, যা রাজনৈতিক পর্যায়ে সিদ্ধান্তগুলির সামাজিক ও মানবিক প্রভাব তুলে ধরে।



