আমেরিকার প্রেসিডেন্ট Donald Trump গত সপ্তাহে ঘোষণা দিয়েছেন যে Nigeria সরকার যদি দেশটিতে সেক্টরভিত্তিক হিংসা বন্ধ করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে আমেরিকা তার সেনাবাহিনী মোতায়েন করার সম্ভাব্যতা বিবেচনায় নিচ্ছে। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, “যদি নাইজেরিয় সরকার আমাদের প্রিয় খ্রিস্টান নাগরিকদের হত্যায় অবহেলা করে চলতে থাকে, তাহলে আমরা অবিলম্বে সমস্ত সহায়তা বন্ধ করব এবং হয়তো সেই দেশে ‘guns-a-blazing’ অভিযান চালাবো।”এই হুঁশিয়ারি ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক তোলপাড় তৈরি করেছে কারণ এটি প্রথমবারের মতো একজন মার্কিন নেতার দ্বারা নাইজেরিয়ায় সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাব্য শর্ত উন্মুক্ত করা হলো।
3 Nov 2025 | Pic: Collected
নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট Bola Ahmed Tinubu-র পরামর্শদাতা Daniel Bwala সাংবাদিকদের জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা স্বাগত জানাবেন, তবে দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিয়ন্ত্রণ অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে। প্রধানমন্ত্রী টিনুবু নিজেও স্টেটমেন্টে জানান যে নাইজেরিয়া কোনোভাবেই “ধর্ম-ভিত্তিক সহিংসতা অধিকভাবে গ্রাস করছে এমন দেশ নয়” এবং বলেছেন, “আমরা সব ধর্মের মানুষের জন্য ধর্ম-স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারি মূলত আফ্রিকার সবচেয়ে জনবহুল দেশটিতে মোকাবিলা করা অব্যাহত সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ ও বিশেষ করে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রতি নির্যাতনের অভিযোগ থেকে উদ্ভূত।
তিনি বলেছেন, “খ্রিস্টানদের হত্যা চলছে বড় পরিসরে, আমরা সেটি বরদাস্ত করতে পারব না।” তবে নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলে এবং মধ্য অংশে জঙ্গি সংগঠনদের হামলায় সবচেয়ে বেশি মুসলিম জনগোষ্ঠীই হতাহত হয়েছে বলে স্বাধীন বিশ্লেষকরা বলছেন; রাষ্ট্রপুঞ্জ ও অন্যান্য মূল্যায়নেও দেখা গেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ শুধু নিরাপত্তা ইস্যু নয়, আন্তর্জাতিক নীতিমালার দৃষ্টিকোণ থেকেও বিতর্কিত হয়ে উঠেছে—কারণ বিদেশী মাটিতে সামরিক হস্তক্ষেপের ক্ষেত্রে সাধারণত সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে সমঝোতা ও অনুমোদন থাকতে হয়। নাইজেরিয়া বলেছে, “আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চাই, কিন্তু সেটা হবে আমাদের নিজস্ব নিয়ন্ত্রণ ও অখণ্ডত্ব রক্ষা করে।”
এই পরিস্থিতিতে, যুক্তরাষ্ট্র-নাইজেরিয়া সম্পর্ক একটি নতুন মোড় নিতে পারে। ট্রাম্পের সহায়ক ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী Pete Hegseth-ও মন্তব্য করেছেন “হ্যাঁ স্যার” হিসেবে, সেনাবাহিনীকে প্রস্তুত রাখার নির্দেশের কথা দিয়েছেন।সামগ্রিকভাবে বলা যায়—নাইজেরিয়ার সন্ত্রাসবাদ, ধর্মীয় সহিংসতা, রাজনৈতিক সংকট ও সামরিক হস্তক্ষেপের পরিকল্পনা একসাথে মিলছে একটি নতুন রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সংকটে। যদি সেনা মোতায়েন করা হয়, তাহলে তা হবে অভ্যন্তরীণ সশস্ত্র সংঘাত থেকে আন্তর্জাতিক যুদ্ধ পর্যায়ে রূপ নিতে পারে। নাইজেরিয়ার জন্য বিষয়টা শুধু প্রতিরক্ষা বা ধর্ম নয়—এটি সার্বভৌমত্ব, জাতীয় নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক মর্যাদার বিবেচনায় একটি বড় পরীক্ষা। চিন্তিত প্রশাসনের ভূমিকা কী হবে, সেনা চলবে কি না, আন্তর্জাতিক আইন কীভাবে প্রভাব ফেলবে—এই সবই এখন নজরে আছে।



