নির্বাচন প্রক্রিয়া ও ভোটার তালিকার স্বচ্ছতার প্রশ্ন নিয়ে ভারতের রাজনীতিতে এক অভিনব—and প্রামাণ্যবাহী—প্রতিবাদে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন কংগ্রেস নেতা ও লোকোষভা বিরোধীদলনেতা রাহুল গান্ধী। গত বুধবার তিনি নিজের দিল্লি বাসভবনে ‘মৃত’ বলে তালিকাভুক্ত সাতজন ভোটারের সঙ্গে চা খেতে বসেন, যারা দাবি করেন যে—নির্বাচন কমিশন (EC)—তাদের “মৃত” হিসেবে দাখিল করে ভোটার তালিকা থেকে নাম মুছে ফেলে, অথচ তারা সম্পূর্ণ বেঁচে আছেন। এই “অনন্য অভিজ্ঞতা”-র জন্যই তিনি EC-কে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন, যা তিনি সামাজিক মাধ্যমে—এক্স-এ—শেয়ার করেছেন:

15 August 2025 | Pic: Collected
“জীবনে যথেষ্ট অভিজ্ঞতা পেয়েছি… কিন্তু কখনো ‘মৃত লোকদের’ সঙ্গে চা খাওয়ার সুযোগ হয়নি। এই অনন্য অভিজ্ঞতার জন্য, ধন্যবাদ নির্বাচন কমিশন!” The Business StandardThe Economic TimesThe Times of Indiadhakapost.comIndia Today
ভিডিওতেই দেখা যায়, রাহুল গান্ধী একাধারে হালকাভাবে প্রশ্ন করেন, “আমি শুনেছি আপনারা বেঁচে নেই—আপনাদের নির্বাচন কমিশন ‘মেরেছে’?” উত্তরে একজন বলেন, “আমরা দেখলাম তালিকা দেখে—নির্বাচন কমিশন আমাদের ‘মৃত’ বলে ডিক্লেয়ার করেছিল।” আরেকজনও জানান, একটি পঞ্চায়েতে অন্তত ৫০ জন একই অবস্থা ও শিকার ।
তাঁরা সবাই RJD নেতা তেজস্বী যাদবের কেন্দ্র, রাঘোপুরের ভোটার—নামের তালিকা অনুযায়ী তাদের মধ্যে রয়েছে রামইকবাল রায়, হরেন্দ্র রায়, লালমুনি দেবী, বা চিয়া দেবী, ললওতি দেবী, পুণম কুমারী এবং মন্না কুমার । ভিডিও অনুযায়ী, এই সাতজন সুপ্রিম কোর্টেও ছয় ঘণ্টা অপেক্ষা করেন নিজের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিতে। তারা সব ধরণের প্রয়োজনীয় নথিও জমা দিয়েছিলেন—তবুও নাম বাদ পড়ার ঘটনা ঘটে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চলতি Special Intensive Revision (SIR) নিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা তীব্র হয়ে উঠে। রাহুল গান্ধী নির্বাচন কমিশনের ওপর অভিযোগ তুলেন, তারা ঢিলেঢালা ব্যবস্থায় ‘ভোট চুরি’ বা ভোটাধিকার লঙ্ঘন ঘটাচ্ছে, “নির্বাচন কমিশনকে কথার নয়, প্রমাণ চাই” বলে টার্গেট করেন।
সংক্ষেপে, এই ‘চা-চক্র’ শুধু এক রাজনৈতিক প্রতীক নয়—এটি ভোটার তালিকা ও ইলেক্টোরাল অথরিটি-র স্বচ্ছতা এবং গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিপালনের প্রশ্নে এক দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রমাণ করেছে, যেখানে “মৃত বলে তালিকা থেকে বাদ পড়া জীবিত” লোকেদের কণ্ঠে সত্য জেগে উঠেছে, এবং এই সত্য তুলে আনতে ‘চা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে এক অভিনব প্রতিবাদ ও প্রতীক।



