ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু গাজা ইস্যুতে নীতিগত মতবিরোধের কারণে দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা তজাচি হানেগবিকে বরখাস্ত করেছেন। গত ২১ অক্টোবর মঙ্গলবার রাতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। হানেগবি নিজে এই পদত্যাগের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছেন, ইসরায়েলের সাম্প্রতিক ব্যর্থতাগুলো নিয়ে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

22 Oct 2025 | Pic: Collected
নেতানিয়াহু হানেগবিকে তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের নতুন প্রধান নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। হানেগবির স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের উপপ্রধান গিল রেইখ। তিনি এখন সংস্থাটির ভারপ্রাপ্ত প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
গত মাসে কাতারের রাজধানী দোহায় হামাস নেতাদের ওপর চালানো বিমান হামলা এবং গাজা সিটি দখলের সামরিক অভিযানের বিষয় নিয়ে হানেগবি ও নেতানিয়াহুর মধ্যে তীব্র বিরোধ দেখা দেয়। হানেগবি মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর গাজা দখলের প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, গাজা সিটি দখল করলে ইসরায়েলি বন্দিদের জীবনের ঝুঁকি বাড়বে। তিনি সেনাপ্রধান ইয়াল জামিরের সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত ছিলেন, তাই এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন।
৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর ইসরায়েলের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় যে ব্যর্থতা দেখা গেছে, তার বিস্তারিত তদন্ত হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন হানেগবি। তিনি বলেন, “আমি নিজেও সেই ব্যর্থতার দায় নিচ্ছি।”
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় ৬৮ হাজার ২০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত এবং ১ লাখ ৭০ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
নেতানিয়াহু নিজে পদত্যাগের কোনো ইঙ্গিত দেননি এবং হত্যাযজ্ঞের দায় নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেছেন, ইসরায়েলের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ ওই হামলা ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী, রাজনীতিক নেতৃত্ব নয়।
বর্তমানে মোসাদের প্রধান ডেভিড বারনেয়া হচ্ছেন একমাত্র শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা, যিনি হামলার দিনও দায়িত্বে ছিলেন এবং এখনো পদে বহাল আছেন।




