নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে জেন জি বিক্ষোভ যখন ক্রমেই স্থিতিশীলতা হারাচ্ছিল, তখন সেই অশান্তির মধ্যেই ঘটে গেল এক হৃদয়বিদারক মানবিক ট্র্যাজেডি—সাবেক প্রধানমন্ত্রী ঝলানাথ খনালের স্ত্রী রাজ্যলক্ষ্মী চিত্রকারকে ঘরের ভিতরে আটকে রেখে বিক্ষোভকারীরা আগুন ধরিয়ে দেয়, এবং তিনি গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় কির্তিপুর বার্ন হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান; এই ঘটনা নেপালের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অমানুষিকতা এবং সহিংসতার প্রেক্ষাপটে অতি দুঃখজনক ও ঘৃণ্য অধ্যায় যুক্ত করলো।

10 September 2025 | Pic: Collected
পুরো মানচিত্রে জেন জি তরুণেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেরাই “NepoKiddies” নামে পরিচিত হয়ে ওঠে; এই আন্দোলনের মূল চিঞল “corrupt politicians” ও “nepo kids”–এর বিলাসিতায় রাজনৈতিক অভিজাত শ্রেণির সমালোচনায় তারা সরব হয়, এবং বাধ্য হয়েছিলেন ক্ষোভ প্রকাশে — ২৬টি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম বন্ধ করার ঘটনায় যথেষ্ট উস্কানি তৈরি হয়, কীভাবে তা জনজাগরণে পরিণত হলো সেটাই এক কালো পরিণতি নিয়ে গড়ায় । বিক্ষোভ শুরু হয় ফেসবুক, এক্স, ইউটিউব বন্ধের প্রতিবাদে; কিন্তু পুলিশ যখন ত্রাস সৃষ্টি করতে টিয়ার গ্যাস, রাবার বুলেট এবং গুলি চালায়, সেখানে ১৯ জন নিহত এবং শতাধিক আহত হয় ; তখনই পরিস্থিতি প্রচণ্ডভাবে তিক্ত হতে থাকে, যার পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দুর্নীতি, বেকারত্ব (বিশেষ করে তরুণদের জন্য ২০% এর কাছাকাছি), এবং ক্ষমতাসীনদের বিলাসীবাসন (Gen-Z–এর নিপো কিডস নীতি সমালোচনায় উঠেপড়ে লাগে)।
প্রধানমন্ত্রী কে.পি. শর্মা ওলি অবশেষে এই অস্থিরতার মেঘমুক্তির জন্য পদত্যাগ করেন, যদিও ক্ষোভ কমেনি — অগ্নিগর্ভ রাজনৈতি ও সংঘর্ষের মধ্যেই সেনা রাজধানীতে সশস্ত্র সহায়তায় মোতায়েন হয়; রাষ্ট্রপতি রামচন্দ্র ওপরেও শান্তির আহ্বান জানান, তবে উত্তেজনা পিছনে ফিরে যাওয়ার নয়—কারণ গোটা কাঠমান্ডুতে সংসদ ভবন, একাডেমিক ও প্রেসিডেন্ট ভবন থেকে শুরু করে নেতা নেত্রীর বাসভবন—সিংহদ্বার তরুণ আগুনে পুড়ে যায়; প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবাকে ছোটা হয়, প্রেসিডেন্ট ও অন্যান্য নেতাদের বাসস্থানেও হামলা হয় ।
এমন একটি অগ্নিপরীক্ষা যেখানে রাজনৈতিক প্রতিধ্বনি থেকে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সবকিছুই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। আন্তর্জাতিক পরিপ্রেক্ষিতেও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়; ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, চীনসহ পশ্চিমা নেদারল্যান্ডস থেকে সমালোচনা ও নিরাপত্তা সতর্কবার্তা আসে । বিক্ষোভের লাগাম টানতে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ ও কারফিউ শুরু হয়, কিন্তু শান্তি ফিরিয়ে আনা একসঙ্গে রাজনৈতিক ও সামাজিক ঐক্য প্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে—যেখানে একটি পরিবারের মহৎ হস্থক্ষেপ মানবতার কল্যাণে ফিরে আসতে পারে; কিন্তু তার আগে রাজ্যলক্ষ্মী চিত্রকারের ভয়ানক মৃত্যু স্বাধীনতা ও মানবদরদকে ভেঙে দিয়েছে, এবং নেপাল তথা দক্ষিণ এশিয়ার গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎকে প্রশ্নবিদ্ধ ও চেতনার জায়গায় নিয়ে গেছে।




