পাকিস্তানের তারবেলা বাঁধ এলাকায় মাটির নমুনা বিশ্লেষণে ৬৩৬ বিলিয়ন ডলারের সমমূল্যের স্বর্ণ থাকা মনে হচ্ছে—এমন দাবি করেছেন এয়ার করাচি কোম্পানির চেয়ারম্যান ও সাবেক FPCCI ভাইস-সভাপতি হানিফ গোহর; তিনি বলছেন, ডাইভারদের নিয়ে নেওয়া স্যাম্পল পরীক্ষা করে অনুমান করা হয়েছে এবং এই পরিমাণ পাওয়া গেলে তা দেশটির বহিরাগত ঋণ পুরোপুরি মেটাতে সক্ষম হবে, বিষয়টি ইতিমধ্যে বিশেষ বিনিয়োগ সুবিধা পরিষদ (SIFC) এবং স্টেট ব্যাংককে জানানো হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। এই দাবির খবর প্রথমে স্থানীয় গণমাধ্যম এবং অনলাইন নিউজ পোর্টালগুলোতে ছড়িয়ে পড়ার পর সরাসরি বৈঠক ও প্রাথমিক ব্রিফিং-র খবরও রিপোর্ট হয়েছে। যদিও দাবিটি দ্রুতই আলোড়ন তুলেছে, কিন্তু ভূ-তাত্ত্বিক ও খনিজ নিয়মাবলি অনুযায়ী এমন বিশাল দখলের প্রচলিত প্রক্রিয়া বহু ধাপে যাচাই, গ্রাউটিং, গভীর ড্রিলিং এবং আন্তর্জাতিক ল্যাব টেস্টের মধ্য দিয়ে যেতে হয়; কেবল মাটির কয়েকটি স্যাম্পল থেকে সম্পূর্ণ খনি-মূল্য হিসাব করে ফেলা বৈজ্ঞানিকভাবে তাত্ক্ষণিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়—বিশেষজ্ঞরাও তাই সতর্ক করে দিচ্ছেন।
6 Nov 2025 | Pic: Collected
খবরটিতে বলা হয়েছে যে ডাইভাররা বাঁধের ভেতর থেকে মাটি সংগ্রহ করেছেন এবং সেই নমুনা-র ল্যাব পরীক্ষা থেকে মোটিমান্যরূপে স্বর্ণের পরিমাণের একটি প্রাথমিক অনুমান করা হয়েছে; কিন্তু ভূতাত্ত্বিকভাবে নমুনা-ভিত্তিক extrapolation (অপ্রতক্ষ বিস্তারণ) পুরো এলাকায় সমানভাবে প্রযোজ্য হবে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার—কারণ মাইনিং-খাতে মূল মজুদ নির্ধারণের জন্য জিও-ফিজিক্যাল জরিপ, কোর-ড্রিলিং, রিসোর্স এবং রিজার্ভ শ্রেণীকরণ সহ অনেক ধাপ থাকে। পাকিস্তানি সূত্রে জানা গেছে, হানিফ গোহর জানিয়েছেন যে সরকার এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইতিমধ্যেই বিষয়টি পর্যবেক্ষণে নিয়েছে এবং ওয়াপদা (WAPDA)-কে এই প্রকল্পে অংশ নিতে বলা হয়েছে; তাছাড়া অস্ট্রেলিয়া ও কানাডার ড্রিলিং কোম্পানিগুলোকে আনতে ইচ্ছে প্রকাশের কথা বলা হয়েছে—তবে এসব কিছুই এখনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি বা সরকারি ঘোষণায় রূপ নেয়নি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেখলে, পাকিস্তানে ইতিমধ্যেই বড় মাপের খনিজ প্রকল্প (যেমন রেকো-দিক) নিয়ে আলোচনা চলছে এবং সেগুলোর অর্থনৈতিক প্রতিফলন রূপায়ণ করতে পাক সরকার বিদেশী বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করছে; তবু তারবেলার এই সদ্য প্রকাশিত দাবির সঙ্গে তুলনা করার আগে রেকো-দিকের মতো প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়িত ডাটা দেখা প্রয়োজন।
এই সংবাদ-বিবৃতির ফলে দেশের ভেতরে একপ্রকার উত্তেজনা ও সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রত্যাশা সৃষ্টি হয়েছে—জনসাধারণ ও বিনিয়োগকারীরা আশা করছেন, যদি বড় মাপে স্বর্ণ পাওয়া যায় তবে দেশীয় ঋণ সংকট ও মুদ্রাস্ফীতি সংকট সাময়িকভাবে লাঘব পেতে পারে; কিন্তু অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলছেন, খনিজের মূল্য-উদ্বায়ন অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের একমাত্র পথ নয়—খনি উত্তোলন, পরিবহণ, রপ্তানি, রাজস্ব চুক্তি, পরিবেশগত ক্ষতিপূরণ, স্থানীয় সম্প্রদায়ের ক্ষতিপূরণ ও দুর্নীতি-প্রতিরোধ—এসব কৌশলগত নীতিও সমান্তরালে কাজ করতে হবে।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—সংবাদটি সামাজিক মাধ্যমেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে, তবে অনেক ফ্রড ও ভিত্তিহীন কন্টেন্ট একই টপিককে অতি-আনন্দিত বা অতিরঞ্জিতভাবে উপস্থাপন করেছে; তাই স্বাধীনভাবে সরকারি ও বৈজ্ঞানিক সূত্রে যাচাই না হওয়া পর্যন্ত এই দাবিকে সম্পূর্ণভাবে সত্য ধরা উচিত নয়—বিশেষ করে এমন সময়ে যখন আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্য-হেরফের এবং রাজনৈতিক প্রভাব দ্রুত বাড়ে। অনলাইনে দেখা গেছে বহু ছোটখাট সাইট ও সোশ্যাল পোস্টে একই দাবি অনুশীলিতভাবে পুনঃপ্রকাশ করা হচ্ছে; পেশাদার ভূতত্ত্ববিদরা বলছেন, পূর্ণ আকারের রিসোর্স রিপোর্ট ছাড়া আর্থিক মূল্য-প্রস্তাব বাস্তবায়নযোগ্য কিনা বলা যাবে না।
পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাবও বড় প্রশ্নচিহ্ন হিসেবে রয়ে যাচ্ছে—ঘনিষ্ঠ অঞ্চলগুলোর বাস্তুতন্ত্র, জলাশয়, স্থানীয় কৃষি ও বাঁধের নিরাপত্তা খনি-উৎপাদনের ফলে প্রভাবিত হতে পারে; তাছাড়া তারবেলা একটি হাইড্রোপ্রজেক্ট অঞ্চল, সেখানে খনি কার্যক্রম করলে বাঁধে পানি-সংগ্রহ, সেডিমেন্টেশন ও ড্যাম স্ট্রাকচারের ওপর দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকি বিশ্লেষণ করা অপরিহার্য হবে। পরিবেশবিদরা ও স্থানীয় নেতৃত্বই প্রথম সারিতে এই সম্ভাব্য ক্ষতির দাবি তুলবেন—এই কারণে যেকোনো খনন কর্মসূচি অপরিহার্যভাবে পরিবেশ-প্রভাব মূল্যায়ন (EIA), স্থানীয় কমিউনিটি পরামর্শ এবং আন্তর্জাতিক নীতিমালা মেনে নিতে হবে। এধরণের বিশাল প্রকল্পে আর্থিক, প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতার অভাব থাকলে তা স্থানীয় ও জাতীয় উভয়ভাবে সংকট সৃষ্টি করতে পারে।



