মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বাস করেন, ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। তিনি বলেছেন, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব এখন চীনের, আর সেই প্রভাব ব্যবহার করে শি চাইলে সহজেই যুদ্ধ থামাতে পারেন। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “শি জিনপিং একজন খুবই বুদ্ধিমান ও কৌশলী নেতা। তার সঙ্গে পুতিনের সম্পর্ক গভীর, যা বর্তমান বিশ্ব রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আমি মনে করি, শি চাইলে পুতিনকে বোঝাতে পারবেন—এখন যুদ্ধ থামানোর সময়।” ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের নিষেধাজ্ঞা কিংবা সামরিক সহায়তার চেয়ে চীনের কূটনৈতিক বার্তা রাশিয়ার জন্য অনেক বেশি কার্যকর হতে পারে, কারণ পুতিন এখন অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক সমর্থনের দিক থেকে বেইজিংয়ের ওপর অনেকটা নির্ভরশীল।

23 Oct 2025 | Pic: Collected
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাশিয়া-চীন সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে—তারা একে অপরের সঙ্গে বাণিজ্য, জ্বালানি ও নিরাপত্তা খাতে বিশাল চুক্তি করেছে। সেই সম্পর্কই এখন ইউক্রেন সংকটে নতুন মাত্রা দিয়েছে। ট্রাম্প বলেন, “আমি শির সঙ্গে আমার প্রেসিডেন্ট থাকা অবস্থায় অনেকবার কথা বলেছি। তিনি শক্তিশালী সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। আমি বিশ্বাস করি, যদি তিনি চান, পুতিনের সঙ্গে বসে একদিনেই যুদ্ধ থামাতে পারেন।” ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণের পর থেকেই চীন প্রকাশ্যে নিরপেক্ষ অবস্থান দেখালেও পশ্চিমা দেশগুলো সবসময় অভিযোগ করেছে যে, বেইজিং রাশিয়াকে কূটনৈতিকভাবে সহায়তা দিচ্ছে। অন্যদিকে, চীন বলছে, তারা শান্তির পক্ষে এবং যেকোনো সংঘাত আলোচনার মাধ্যমে শেষ হোক, সেটাই চায়। ট্রাম্পের মন্তব্য এমন এক সময় এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন নির্বাচনের আগে পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে বিতর্ক তীব্র হচ্ছে।
রিপাবলিকান প্রার্থী হিসেবে ট্রাম্প প্রায়ই বাইডেন প্রশাসনের ইউক্রেন নীতি নিয়ে সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “আমরা লক্ষ কোটি ডলার ব্যয় করছি, অথচ ফল পাচ্ছি না। যুদ্ধ এখন আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। বরং চীনের মতো শক্তিধর দেশগুলোকে বলুন, তারা যেন নিজেদের বন্ধুকে বোঝায়।” বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই বক্তব্য কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং কূটনৈতিক বার্তাও বটে—তিনি দেখাতে চাচ্ছেন, তার প্রেসিডেন্সিতে বিশ্ব রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব অনেক বেশি ছিল এবং তিনি চাইলে বড় বড় সংকটও মিটিয়ে ফেলতে পারতেন। অপরদিকে, বর্তমান মার্কিন প্রশাসন এখনো রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে আছে এবং ইউক্রেনকে সাহায্য জারি রেখেছে।
চীন এখনো সরাসরি রাশিয়ার নিন্দা করেনি, তবে শান্তির প্রস্তাব দিয়েছে এবং সম্প্রতি পুতিনের সঙ্গে বৈঠকেও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গভীর করার ঘোষণা দিয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের মন্তব্য মূলত দুই লক্ষ্যেই দেওয়া—একদিকে চীনের ভূমিকাকে গুরুত্ব দেওয়া, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রশাসনের ব্যর্থতা তুলে ধরা। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় অর্ধেক নাগরিক এখন ইউক্রেন যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে সন্দিহান এবং তারা চায় সংঘাত দ্রুত শেষ হোক। এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের বক্তব্য অনেক আমেরিকানের কাছে ইতিবাচক প্রতিধ্বনি তুলেছে। তবে হোয়াইট হাউস এখনো তার মন্তব্যে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।




