মস্কোতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বার্ষিক লাইভ টেলিভিশন ভাষণ বা টিভি-ম্যারাথন অনুষ্ঠানে ঘটে গেল এক অকস্মাৎ রোমান্টিক ঘটনা, যা বিশ্বব্যাপী মানুষের মন কাড়ছে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সেই অনুষ্ঠানের মাঝেই এক তরুণ রুশ সাংবাদিক হাত তোলা পোস্টার নিয়ে প্রেমিকাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে বসেন, যা দর্শকদের কাছে এক মনোমুগ্ধকর মুহূর্ত সৃষ্টি করেছে।

এই ঘটনা ঘটেছে রাশিয়ার বার্ষিক সংবাদ সম্মেলন বা ‘পুতিনস টিভি ম্যারাথন’» নামক অনুষ্ঠানে, যেখানে সাধারণত রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যু নিয়ে দীর্ঘ আলোচনার আয়োজন করা হয় এবং পুতিন প্রশ্ন-উত্তর পর্বের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
প্রধান আলোচনার সময় **১৮–২৩ বছর বয়সী স্থানীয় সাংবাদিক কিরিল বাজানভ লাল রঙের বোল টাই পরিহিত অবস্থায় সামনে দাঁড়িয়ে একটি পোস্টার ধরে রাখেন, যাতে লেখা ছিল: “I want to get married” বা “আমি বিয়ে করতে চাই”। বাজানভ তখন বলেন “আমি জানি আমার বান্ধবী এখন এই অনুষ্ঠানটি টেলিভিশনে দেখছে”, এবং মাইক্ৰোফোন নিয়ে সরাসরি বলেন — “ওলেচকা, তুমি কি আমাকে বিয়ে করবে?” এই প্রস্তাব সবার মনোযোগ আকর্ষণ করে এবং উপস্থিত সাংবাদিকরা করতালি দিয়ে তার প্রস্তাবকে উৎসাহ দেয়।
প্রস্তাবটি দেওয়ার পর বাজানভ আবার পেশাদার সাংবাদিকত্বে ফিরে যান এবং রাশিয়ায় জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়ে সাধারণ প্রশ্ন করেন, যা পুতিনকে উত্তেজনাপূর্ণ ও মানবিক দুই দিকেই একসঙ্গে দেখা দেয় এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করে।
চরম উত্তেজনার মাঝে প্রায় এক ঘণ্টা পর অনুষ্ঠান শুরুর সময়ে হোস্টরা ঘোষণা করেন যে বাজানভের প্রেমিকা ওলেগা তার প্রস্তাবকে “হ্যাঁ” বলেছেন, এবং তা শুনে সম্মেলন কক্ষ আবারও করতালিতে মুখরিত হয়। পুতিন প্রথমবারের মত উপস্থিত পরিস্থিতি দেখে হাসেন এবং হালকা ঠাট্টা করে বলেন যে বাজানভ যেন যেন তহবিল থেকে কিছু অর্থ সংগ্রহ করে বিয়ের খরচের ব্যবস্থা করে নেয় — যদিও তিনি সরাসরি বিয়েতে অংশগ্রহণ করবেন কিনা তা উল্লেখ করেননি।
এই ঘটনা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের দৃষ্টিকোণে এসেছে হালকা-সোহাগপূর্ণ ও মানবিক একটি প্রেক্ষাপটে, যেখানে সাধারণত রাজনৈতিক ও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলিই আলোচিত হয়। পুতিনের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকের রোমান্টিক প্রস্তাব সেই রাজনৈতিক জটিলতার মাঝেই একটি হাস্যোজ্জ্বল মুহূর্ত তৈরি করেছে এবং সমগ্র রাশিয়া ও বিদেশেও খবরটিকে হালকা-মনোরম ব্রেকিং নিউজ হিসেবে দেখেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঘটনা মানুষে মানবিক অনুভূতি ও পারস্পরিক সম্পর্কের মূল্যকে তুলে ধরেছে এমন এক মুহূর্ত, যেখানে রাজনৈতিক উদ্বেগ ও যুদ্ধ-সংশ্লিষ্ট বিষয়ের মাঝেই মানবিক সম্পর্ক ও ভালোবাসা-র অনুভূতি প্রকাশ পেয়েছে। একই সাথে এটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও অনলাইন সম্প্রচারের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণে শেয়ার করা হচ্ছে এবং বিশ্বের বিভিন্ন সংবাদ সংস্থা তা হালকা-ভাগে তুলে ধরেছে।
সূত্র জানাচ্ছে, কিরিল বাজানভ একটি ২৩ বছর বয়সী রুশ সাংবাদিক, যিনি এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাধারণ শিরষ্ঠ সাংবাদিক প্রশ্নের অংশ হিসাবে, এবং রাশিয়ার *স্থানীয় টিভি ও সংবাদমাধ্যমে কাজ করেন। তাঁর এই রোমান্টিক উদ্যোগটি পুরো অনুষ্ঠানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু নিয়ে এসেছে এবং সামাজিক মাধ্যমে মানুষের মন ভরিয়ে দিচ্ছে।




