ব্রিটেনজুড়ে বিমান চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন দেখা দিয়েছে বুধবার (৩০ জুলাই), যখন দেশটির জাতীয় বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা NATS (National Air Traffic Services)-এর কারিগরি ত্রুটির কারণে ১২০টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল এবং বহু ফ্লাইট বিলম্বিত হয়।
বিশ্বের ব্যস্ততম বিমানবন্দরগুলোর অন্যতম লন্ডনের হিথ্রো, গ্যাটউইক, এবং এডিনবরা—সবই এই প্রযুক্তি সমস্যার কবলে পড়ে। এএফপি জানায়, সমস্যাটি ধরা পড়ার পরপরই নিরাপত্তার স্বার্থে লন্ডনের আকাশসীমায় উড়োজাহাজের সংখ্যা সীমিত করে দেওয়া হয়। যদিও এক ঘণ্টার মধ্যে সমস্যাটি সমাধান করা হয়, তবে ইতিমধ্যে শতাধিক ফ্লাইট বাতিল হয়ে যায় এবং অনেক যাত্রীকে মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

31 July 2025 | Pic: Collected
সিরিয়াম, একটি বিমান চলাচল বিশ্লেষক সংস্থা, জানায় যে শুধুমাত্র সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিট পর্যন্তই ৬৭টি ছাড়ার ফ্লাইট এবং ৫৫টি আগমনী ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। কয়েকটি ফ্লাইটকে অন্য গন্তব্যেও পাঠাতে হয়।
এই পরিস্থিতিতে রায়ানএয়ার-এর সিওও নিল ম্যাকমাহন এনএটিএসের প্রধান নির্বাহী মার্টিন রোল্ফ-এর পদত্যাগ দাবি করেন। তিনি বলেন, “২০২৩ সালের আগস্টেও এনএটিএস বড় ধরনের সিস্টেম বিভ্রাটের শিকার হয়েছিল, তখন থেকেই কোনো শিক্ষণ নেওয়া হয়নি—এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।”
তবে এনএটিএস জানায়, সমস্যা মূলত তাদের সোয়ানউইক কন্ট্রোল সেন্টার-এ ঘটে। এক ঘণ্টার ভেতরেই তারা এটি মেরামত করে ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক করে।
ইজিজেট-এর সিওও ডেভিড মরগান বলেন, “এই সময়ে, যখন বিমান ভ্রমণ সবচেয়ে ব্যস্ত, তখন এমন সমস্যায় আমাদের যাত্রীরা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক।”
গত বছরের ঘটনাটিও অনেকের স্মরণে আসে। তখন দেশের এক দশকের সবচেয়ে বড় বিমান চলাচল সংকট হয়েছিল এনএটিএসের সিস্টেম ব্যর্থতায়। এবারও পরিস্থিতি ভয়াবহ হলেও দ্রুত পদক্ষেপের মাধ্যমে সিস্টেম সচল রাখা সম্ভব হয়।
যদিও এনএটিএস আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে, তবে বিমান সংস্থাগুলো মনে করছে—এ ধরনের ব্যর্থতা পুনরায় হওয়াটা গ্রহণযোগ্য নয়, বিশেষ করে এমন সময় যখন বিশ্বের চোখ লন্ডনের আকাশে।




