মালয়েশিয়ায় অভিবাসন আইন ভঙ্গ করে বসবাসকারী মোট ১১১ জন অভিবাসীকে তাদের নিজ দেশে পাঠানো হয়েছে, যাদের মধ্যে রয়েছে ৪৯ জন বাংলাদেশি, এমন তথ্য দিয়েছে জোহর রাজ্যের ইমিগ্রেশন বিভাগ।
এই প্রত্যাবাসন কার্যক্রম জোহর রাজ্যের পাইনঅ্যাপল টাউন ইমিগ্রেশন ডিপো থেকে ডিসেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে করা হয়েছিল, যেখানে সাজাকৃত প্রবাসীদের রেকর্ড রাখার পর তাদের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়।

24 Nov 2025 | Pic: Collected
ফেরত পাঠানোদের মধ্যে শুধু বাংলাদেশিরাই নয় — আরও রয়েছে বেশ কয়েকটি দেশের অভিবাসী: ইন্দোনেশিয়া (২৪ জন), নেপাল (১২), পাকিস্তান (৯), কম্বোডিয়া (৪), ভারত (৪), চীন (৩) এবং লাওস, ভিয়েতনাম ও সিঙ্গাপুর থেকেও কয়েকজন।
তাঁদের প্রস্থান বেশ কয়েকটি রুট দিয়ে করা হয়েছে — কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-১ ও ২, সেনাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, সুলতান ইস্কান্দার বিল্ডিং কমপ্লেক্স, এবং স্টুলাং লাউট ফেরি টার্মিনাল ইত্যাদি পথ ব্যবহার করে।
মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে যে, তাদের ফেরত পাঠানোর টিকিটগুলোর খরচ এসেছে নিজস্ব সঞ্চয়, পরিবারের আর্থিক সহায়তা এবং সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাসের সহায়তা দিয়ে। এছাড়া, তারা বলেছে যে সাজা শেষ হওয়া প্রবাসীদের অতিরিক্ত মালয়েশিয়ায় অবস্থান রুখতে নিয়মিতভাবে এমন প্রত্যাবাসন কার্যক্রম করছে।
এই ধরণের কার্যক্রম প্রমাণ করে যে মালয়েশিয়া সম্ভবত অবৈধ বা সাজা-পূর্ণ অভিবাসীদের নিয়ন্ত্রণ ও নিয়ম মেনে পরিচালনা করার দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। যদিও ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত আইনগত দৃষ্টিকোণ থেকে যৌক্তিক হলেও, এটি প্রবাসীদের জন্য ও তাদের পরিবারের জন্য মনস্তাত্ত্বিক এবং আর্থিকভাবে একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
এছাড়া, এই ঘটনা বাংলাদেশ প্রবাসী তথা অভিবাসী সম্প্রদায়ের জন্যও একটি সতর্কবার্তা। যারা বৈধ ভিসা ছাড়া বা নিয়মবহির্ভূতভাবে মালয়েশিয়ায় রয়েছেন, তারা নিজ অবস্থান ও আইনগত প্রক্রিয়া সম্পর্কে সচেতন হওয়া উচিত। তাদের জন্য নিজেদের নিয়মিত যাচাই, পাসপোর্ট ও আবেদনপত্র আপডেট রাখাও জরুরি — যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রত্যাবাসন বা আইনি ঝামেলা এড়িয়ে গমন করা যায়।
সব মিলিয়ে, মালয়েশিয়ায় ১১১ অভিবাসীর কিছু অংশ বাংলাদেশি হওয়া — এটি শুধু একটি সংখ্যাগত ঘটনা নয়, বরং প্রবাসী আইনপ্রয়োগের এবং অভিবাসন নীতির একটি বড় ছবি — যেখানে দেশগুলোর অভিবাসন নীতিমালা, প্রবাসী চাহিদা এবং আইনগত বাস্তবতা একসাথে সংঘর্ষ করছে।




