চীনের রাষ্ট্রদূত Yao Wen গতকাল ঢাকায় একটি সেমিনারে বলেন, “যে কোনো ভিন্ন দেশ বা তৃতীয় পক্ষের কারণে বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক বাধাগ্রস্ত হবে না”। তিনি নিশ্চিত করেন, দুই দেশের মিত্রতা দৃঢ় এবং ভবিষ্যতে আরও গভীর হবে।
রাষ্ট্রদূত জানান, চলমান জরুরি রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক পরিবর্তনের আলোচনায় হলেও, ঢাকায় অনুষ্ঠিত ওই আয়োজনে তিনি বলেন যে চীন-বাংলাদেশ বন্ধুত্বের ভিত্তি কখনো শক্তিভ্রষ্ট হবে না। তিনি উল্লেখ করেন, “আমরা বিশ্বাস করি, এই সম্পর্কটি কোনো সরকারের বদলে যাবে না, কোনো দেশের হস্তক্ষেপে ভাঙবে না। এটি সাধারণ মানুষের দিক থেকে গড়ে উঠেছে”।

30 Oct 2025 | Pic: Collected
তিনি আরও বলেন, গত ৫০ বছরে চীন ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক অনেকটা “সময় ও পরিস্থিতি পার করে” আজ এখানে দাঁড়িয়েছে। দুই দেশের সঙ্গে চুক্তি, বিনিয়োগ ও শিক্ষা-স্বাস্থ্য খাতের অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি পেয়ে গেছে। রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ছিল দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম দেশ যারা চীনের “বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ”-তে অংশ নেয়, এবং আজ প্রায় ৬ লক্ষের বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই মন্তব্যগুলো এমন এক সময়ে এসেছে—যখন দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতি নতুন মোড়ে রয়েছে, ভারত-চীন, পাকিস্তান-চীন সম্পর্কসহ নানা দ্বিপাক্ষিক ও ত্রিপাক্ষিক মোলিক স্তরে পুনরায় গঠন হচ্ছে। চীনের এই বার্তায় বাংলাদেশের প্রতি বিশ্বাস ও মিত্রতার সংকেত পাওয়া গেছে, যা স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা “ভিতরে ভালো প্রতিক্রিয়া” হিসেবে দেখছেন।
তবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রস্তুতি ও নেতৃত্ব পরিবর্তনের মাঝেও চীনের এই অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে যে—চীন শুধু বর্তমান সরকারের সঙ্গে নয়, দেশের সঙ্গে পুরোপুরি সহযোগিতার পথে রয়েছে। রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, “চীন সর্বদা বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল”।
চীনা দূতাবাস ও বাংলাদেশের বৈদেশিক মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আগামী দিনে জনগণ-ভিত্তিক বিনিয়োগ এবং উচ্চমানের প্রযুক্তি ও অবকাঠামো উন্নয়নের দিকে দুই দেশ আরও একযোগে কাজ করবে। রাষ্ট্রদূত বলেন, “রাজনৈতিক পরিবর্তন যতই হোক না কেন, আমাদের যুক্তিসংগত মডেল হলো—মানুষ-কেন্দ্রিক উন্নয়ন, যার জন্য আমরা একসঙ্গে উদ্যোগ নিচ্ছি।”
উল্লেখযোগ্য যে, এই অবস্থানে চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ককে “পারস্পরিক সম্মান ও জয়-জয়” নীতি দ্বারা পরিচালিত হওয়া প্রতিফলিত হয়েছে, যা ভারত ও অন্যান্য অঞ্চলের জটিল ভূরাজনৈতিক পরিবেশে একটি নির্ভরযোগ্য বন্ধুত্বের দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, বাংলাদেশের সঙ্গে চীনকে “উপলব্ধি ও অংশীদার” হিসেবে দেখাচ্ছে এবং এই অংশীদারিত্বকে কোনো বাহ্যিক কারণ বা তৃতীয় দেশের হস্তক্ষেপ দ্বারা দুর্বল করা যাবে না—এই তথ্য আজ প্রকাশ্যে এসেছে চীনের রাষ্ট্রদূতের মুখে।




