পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুহাম্মদ ইসহাক দার বলেছেন, আগামী ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর পাকিস্তান ঢাকায় আরও সক্রিয় ও ব্যাপক যোগাযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে, এবং দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও দৃঢ় করা হবে।

29 Dec 2025 | Pic: Collected
তিনি ২৭ ডিসেম্বর (শনিবার) ইসলামাবাদে বছরের সমাপ্তি সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন এবং বলেন যে ২০২৫ সালটি পাকিস্তান–বাংলাদেশ সম্পর্কের “আইস ব্রেকার বছর” হিসেবে ইতিহাসে নথিভুক্ত হবে, কারণ গত আগস্টে তার প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ সফর ছিল প্রায় ১৩ বছর পর পাকিস্তানের কোনো পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকা আগমন। তিনি এই সফরকে “উষ্ণ ও ইতিবাচক পর্যায়ের সূচনা” হিসেবে উল্লেখ করেন।
ইসহাক দার বলেন যে, বাংলাদেশ সফরকালে তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি (বিএনপি) এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের সঙ্গে বৈঠক। এই বৈঠকগুলোকে তিনি “উভয় পক্ষের মধ্যে আন্তরিকতা ও সমঝোতা তৈরি করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ” হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশ আমাদের ভাই দেশ, এবং নির্বাচনের পর উন্নত রাজনৈতিক বাস্তবতার ওপর ভিত্তি করে আমরা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুনভাবে এগিয়ে নেব,” — এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন রাজনীতিবিদ ও কূটনীতিক ইসহাক দার।
ইসহাক দার উল্লেখ করেছেন যে ২০১২ সালের পর প্রথমবারের মতো একজন পাকিস্তানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ সফর করেন, এবং এটা দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক একটি মুহূর্ত। ২০১২ সালে তখনকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিনা রব্বানী খার ঢাকা সফর করেছিলেন, কিন্তু পরবর্তীতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক দীর্ঘদিন স্থির থেকে গঠনমূলক পর্যায়ে না পৌঁছানোর কারণে তা অনেকটা স্তব্ধ হয়ে পড়েছিল।
দার আরো বলেন, “আগামী নির্বাচনের পর সক্রিয় যোগাযোগ ও প্রতিনিয়ত মতবিনিময় শুরু করা হবে, যাতে কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং জনগণের মধ্যে সম্পর্ক শক্ত করা যায়।” তিনি অতীত সময়ে দুই দেশের সম্পর্ক কিছুটা শীতল ছিল বলে উল্লেখ করে ভবিষ্যতে তা পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
ইসহাক দারের মতে, শুধুমাত্র কূটনৈতিক নয়, বরং বাণিজ্য, অর্থনীতি, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও পরিচালনাগত সহযোগিতা ইত্যাদি ক্ষেত্রে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে যথাযথ ও নিয়মিত আলোচনার সুযোগ রয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, নির্বাচনের পর দুই দেশ সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা ও সম্পর্ক সম্প্রসারণে আনুগত্য দেখাবে।
বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতা (যেমন সার্ক) ও আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশ–পাকিস্তান অংশীদারিত্বকে শক্তিশালী করা যায়, যা উভয় দেশের জন্য লাভজনক। ভবিষ্যতে এই সহযোগিতা কৌশলগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ–পাকিস্তান সম্পর্ক দীর্ঘসময় অনিশ্চিত ও সীমিত কূটনৈতিক যোগাযোগের পর্যায় রাখার পর এই বছর কিছু উদার ও আগ্রহপূর্ণ পদক্ষেপ দেখা গেছে। পাকিস্তানের উচ্চপর্যায়ের এই মন্তব্য সম্ভবত নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সম্পর্ক উন্নয়নের একটি সূচনা চিহ্ন হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
তবে উল্লেখযোগ্য যে, এই দিকনির্দেশের বাস্তবায়ন — বিশেষ করে নির্বাচনের পর — কেবল কূটনৈতিক আলোচনা বা রূপরেখা ঘোষণায় সীমাবদ্ধ থাকবে না; এর জন্য দ্বিপাক্ষিক কর্মপরিকল্পনা, বাস্তব সময় পর্যবেক্ষণ, ও নির্দিষ্ট যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন হবে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা মনে করেন, এর ফলে দুই দেশের মধ্যে এক নির্দিষ্ট ধারাবাহিক কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এক স্থানীয় রাজনৈতিক গবেষক বলেন, “এ ধরনের পদক্ষেপগুলি *শুধু কূটনৈতিক তাপমাত্রা উন্নত করেই থামে না, বরং উন্নত বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অদানপ্রদান, শিক্ষাগত এক্সচেঞ্জ এবং জনগণের সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রেও উদ্বুদ্ধ করে।” যদিও কাঙ্খিত ফলাফল পাওয়ার জন্য দু’পক্ষই নির্ভরযোগ্য ও ধারাবাহিক পদক্ষেপ নিতে হবে।




