বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম মহাতারকা লিওনেল মেসি-এর “GOAT Tour India ২০২৫”-এর প্রথম অনুষ্ঠান বুধবার (১৩ ডিসেম্বর ২০২৫) কলকাতার সল্ট লেক স্টেডিয়ামে এক বড় নিরাপত্তা ও জনসমস্যায় পরিণত হয়েছে, যেখানে আয়োজক কর্তৃপক্ষ ভিড় নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হওয়ায় প্রায় ১ লাখ দর্শক ভিড় জমায় এবং ভাওয়াল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়; মেসি একটি সংক্ষিপ্ত গ্যালারি ল্যাপ প্রদান করেন, কিন্তু তার উপস্থিতি মাত্র কয়েক মিনিট স্থায়ী হওয়ায় হতাশ দর্শকরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং পানির বোতল, চেয়ার ছোড়া, ব্যানার ভাঙচুর এবং মাঠে অনুপ্রবেশ করে বিশৃঙ্খলা পরিিণত হয়, এতে এক পর্যায়ে কয়েকজন দুঃসাহসিক ব্যক্তি মাঠের ধারে রাখা তাঁবুতে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং গোল পোস্ট জাল ছিঁড়ে ফেলেন।
13 Dec 2025 | Pic: Collected
স্থানীয় পুলিশ, নিরাপত্তা বাহিনী এবং রেপিড অ্যাকশন ফোর্স (র্যাফ) সম্পৃক্ত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং দফায় দফায় জনতা ও পুলিশ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, এই বিশৃঙ্খলার কারণে মেসিকে নিরাপত্তা বলয়ের মাধ্যমে দ্রুত স্টেডিয়াম থেকে বের করে নিতে হয় এবং ঘটনাস্থলে আয়োজকের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েই শতদ্রু দত্ত নামে প্রধান উদ্যোক্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, কারণ নিরাপত্তা ও জনসমাগমের ব্যাবস্থাপনা ও সমন্বয়ে তারা ব্যর্থ হয়েছেন।
মেসির এই অনুষ্ঠানের টিকিটের দাম উচ্চ হওয়ায় (কিছু ক্ষেত্রে $৩০-১০০ এর বেশি) দর্শকরা আশা করেছিলেন দীর্ঘ সময় মেসিকে কাছ থেকে দেখবেন, কিন্তু তার সংক্ষিপ্ত উপস্থিতি ও গ্যালারি ব্যাবস্থাপনার ভুলের কারণে তারা ক্ষুব্ধ হন এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণের অভাবে ফেন্সিং ভেঙে প্রায় ২,৫০০ জন স্টেডিয়ামে ঢুকে পড়ে, যা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তোলে। এই বিশৃঙ্খলার পর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আবারও ক্ষমা চেয়েছেন এবং সরকারের পক্ষ থেকে একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়ানো যায়, তিনি স্টেডিয়াম পরিস্থিতি সম্পর্কে গভীর আবেদন ও হতাশা ব্যক্ত করেন এবং বলেন যে এই ধরনের বিশৃঙ্খলা মোটেই কাম্য নয়।
আন্তর্জাতিক সংবাদে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী মেসির ভারত সফরটি মূলত কনসার্ট, যুব ক্লিনিক, দাতব্য কার্যক্রমসহ বিভিন্ন ইভেন্টের সিরিজ হিসেবে নির্ধারিত ছিল, কিন্তু কলকাতার প্রথম ইভেন্টটি সঠিক পরিকল্পনা ও নিরাপত্তার অভাবে অবিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে পরিণত হয়েছে এবং মেসিকে নিরাপদভাবে বের করে নেওয়া হয়েছে। বিশৃঙ্খলার ঘটনায় পুলিশের প্রাথমিক বিশ্লেষণে জানা যায় যে অধিকাংশ দর্শক মেসিকে দীর্ঘ সময় দেখতে না পেয়ে, ব্যানার ও চেয়ার ভাঙচুর করে এবং উত্তেজনা ছড়িয়ে দিয়ে পরিস্থিতি আরো জটিল করে তুলেছে।
কিছু ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে ভক্তরা স্টেডিয়ামের আসন ও ব্যানার ছিঁড়ে ফেলছে, পুলিশ তখন চেয়ারের ভাঙা অংশ দিয়ে নিজেদের রক্ষা করছেন এবং নিরাপত্তা কর্মীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন। মেসির ভারত সফরের পরবর্তী ইভেন্টগুলো যেমন হায়দরাবাদ, মুম্বাই ও দিল্লির প্রোগ্রামগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা জোরালোভাবে অনুভূত হচ্ছে, এবং আয়োজকদের উপর চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে যাতে ভবিষ্যতে এমন বিশৃঙ্খলা আর না ঘটে এবং দর্শকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা যায়। কলকাতার সল্ট লেকে এই ঘটনা ফুটবল ভক্তদের মধ্যে হতাশা ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে, কারণ অনেক দর্শক দীর্ঘসময় অপেক্ষা করেও মেসিকে ঠিকভাবে দেখতে পারেননি এবং ঘটনাটি ভক্তদের অভিজ্ঞতার বিপরীতে পরিণত হয়েছে।
এই ব্যাপক জনসমাগম ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি মিডিয়ায় বিশ্বব্যাপী প্রচারিত হয়েছে এবং এটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট, নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা ও দর্শক সন্তুষ্টি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তৈরি করেছে যে কিভাবে ভবিষ্যতে এমন মহাপ্রতিভা ভক্তভরপুর ইভেন্টগুলোতে নিরাপত্তা ও ব্যাবস্থা উন্নত করা যাবে। মেসির ভারত সফরকে ঘিরে এই বিশৃঙ্খলা গোল করে তুলে দিয়েছে যে জনপ্রিয়তার সঙ্গে নিরাপত্তা ও পরিকল্পনার মতো মৌলিক দিকগুলো নিয়েও যথাযথ ব্যবস্থা জরুরি, এবং আয়োজকদের পক্ষে ইভেন্টগুলোকে সফল ও নিরাপদভাবে সম্পন্ন করতে পরিপূর্ণ প্রস্তুতি নেওয়া অত্যাবশ্যক।



