ভারতের রাজনীতিতে নতুন করে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর পদত্যাগের দাবি, যা সামনে এনেছে বিরোধী দল কংগ্রেস। দিল্লির একটি আদালতে ন্যাশনাল হেরাল্ড মামলার প্রেক্ষাপটে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের জমা দেওয়া চার্জশিট গ্রহণ না করায় কংগ্রেস নেতৃত্ব এই দাবি আরও জোরালোভাবে তুলেছে এবং বিষয়টিকে সরকারের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপের ব্যর্থতা হিসেবে দেখছে। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে প্রকাশ্যে অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার বিরোধী দলকে চাপে রাখতে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থাগুলোকে ব্যবহার করছে এবং আদালতের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণ সেই অভিযোগের সত্যতা আরও স্পষ্ট করেছে।

17 Dec 2025 | Pic: Collected
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যেহেতু আদালত ইডির চার্জশিটে আইনি দুর্বলতা ও প্রক্রিয়াগত ত্রুটি চিহ্নিত করেছে, তাই নৈতিক দায়িত্ব থেকে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত। কংগ্রেসের দাবি, ন্যাশনাল হেরাল্ড মামলাটি মূলত রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ, যার মাধ্যমে গান্ধী পরিবার এবং বিরোধী নেতৃত্বকে হেনস্তা করার চেষ্টা করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য যে, ১৯৩৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ন্যাশনাল হেরাল্ড পত্রিকার মালিকানা ও আর্থিক লেনদেন ঘিরে এই মামলা দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এবং ২০১৪ সালের পর এটি নতুন করে গতি পায়।
কংগ্রেসের অভিযোগ, বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তদন্ত সংস্থাগুলোকে বিরোধী দল দমনে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামো ও আইনের শাসনের জন্য উদ্বেগজনক। অন্যদিকে, বিজেপি ও সরকারপক্ষ এই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে এবং তাদের দাবি, তদন্ত সংস্থাগুলো স্বাধীনভাবে কাজ করছে এবং আইন তার নিজস্ব গতিতেই চলবে। বিজেপির নেতারা কংগ্রেসের পদত্যাগ দাবিকে রাজনৈতিক নাটক বলে আখ্যা দিয়েছেন এবং বলেছেন, আদালতের কোনো অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে এমন দাবি তোলা দায়িত্বজ্ঞানহীন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ঘটনা ভারতের রাজনীতিতে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যকার দূরত্ব আরও বাড়িয়ে দেবে এবং সংসদের বাইরে ও ভেতরে রাজনৈতিক উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। একই সঙ্গে এই বিতর্ক ভারতের বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা, তদন্ত সংস্থার নিরপেক্ষতা এবং রাজনৈতিক নৈতিকতার প্রশ্ন নতুন করে সামনে এনেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে, যেখানে একপক্ষ এটিকে বিরোধীদের উপর রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের প্রমাণ হিসেবে দেখছে, অন্যপক্ষ সরকারের আইনি অবস্থানকে সমর্থন করছে। সামগ্রিকভাবে, মোদি-অমিত শাহর পদত্যাগের দাবিকে কেন্দ্র করে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা শুধু একটি মামলার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে দেশের গণতন্ত্র, শাসনব্যবস্থা ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির ভবিষ্যৎ নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে।




