ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিওলাস মাদুরো এক সম্প্রচারিত সামরিক অনুষ্ঠানে দাবি করেছেন যে তাঁর দেশ রাশিয়ায় উৎপাদিত প্রায় ৫ ০০০টি “ইগলা-এস” (Igla-S) ধরনের আটমিক-বোমা নয়, বরং কম উচ্চতায় উড়োজাহাজ, হেলিকপ্টার ও ড্রোন দমন করতে সক্ষম একরকম মানপোর্টেবল এয়ার-ডিফেন্স সিস্টেম মোতায়েন করেছে, যাতে যুক্তরাষ্ট্রীয় সামরিক উপসাগরীয় কার্যক্রমে প্রতিরূপ হিসেবে তাকিয়ে থাকতে পারে। মাদুরোর মতে, “কোনো সামরিক শক্তিই সহজে আমাদের আকাশে প্রবেশ করতে পারবে না” এবং তিনি বলেন, “৫ ০০০-এর কম নয় এই রুশ সিস্টেম আমাদের প্রতিরক্ষা-রেখায় স্থাপন করা হয়েছে”।

23 Oct 2025 | Pic: Collected
এই দাবি এমন সময় এসেছে যখন ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ক্যারিবীয় সমুদ্রে ভেনেজুয়েলার কাছে সামরিক ঘাঁটি ও নৌবহর মোতায়েন করেছে, যা মাদুরো ও তাঁর প্রশাসন “রুশা-আমেরিকা নতুন শীতল যুদ্ধের অংশ” বলছেন। রুশ Igla-S সিস্টেমটি কম উচ্চতায় বাড়িভিত্তিক উড়োজাহাজ ও ক্রুজ মিসাইল টার্গেট করতে সক্ষম – যা যুক্তরাষ্ট্রীয় আধুনিক যুদ্ধজাহাজ এবং স্টেলথ ফাইটারগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর বলে বিশ্লেষকরা বলছেন।
তবে এই সমস্ত দাবির স্বাধীনভাবে যাচাই সম্ভব হয়নি: রুশ বা ভেনেজুয়েলার কোনো নিরপেক্ষ উৎস এখনও ওই সংখ্যার পুরো তথ্য নিশ্চিত করেনি। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র এই দাবিকে “প্রচারণার অংশ” বলছে। বিশ্লেষকরা বলছেন – এটি শুধু প্রতিরক্ষা-নীতি নয়, রাশিয়া-ভেনেজুয়েলা জোটের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী অঞ্চলে একটি কূটনৈতিক সংকেতও হয়ে উঠেছে।
ভেনেজুয়েলা বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের কারিবীয় উপকূলে নৌবহর ও বিমান মোতায়েন “নশা কার্টেল বিরোধী” বলে হলেও প্রকৃত উদ্দেশ্য তাঁদের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অবস্থা পাল্টানো। মাদুরো এক বক্তব্যে বলেন, “আমাদের ভূখণ্ডের শেষ পাহাড়, শেষ শহরেও এই সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে”।
এই ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র-ভেনেজুয়েলা সম্পর্কের মধ্যে নতুন উত্তেজনা দেখা দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলে মাদক পাচার ও কার্টেল দমন কার্যক্রম চালিয়ে আসছে, কিন্তু ভেনেজুয়েলা বলেন, “এটি সামরিক হুমকি ও সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন”। রাশিয়া ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে আগে থেকেই অস্ত্র ও সামরিক সহযোগিতা রয়েছে — এবং এই নতুন দাবি সেই সহযোগিতার এক নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে।
বাংলা ভাষায় বললে – ভেনেজুয়েলা বলছে, “আমাদের হাতে রাশিয়ায় তৈরি বহুসংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র আছে, যা আমরা প্রয়োজনে ব্যবহার করতে পারি”। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, “এটি শুধু ঘোষণামূলক বক্তব্য, বাস্তবে তথ্য যাচাই প্রয়োজন”। এই ধরনের অবস্থায় দক্ষিণ আমেরিকার রাজনীতিতে, কারিবীয় অঞ্চলে এবং আন্তর্জাতিকভাবে সামরিক-কূটনৈতিক একটি নতুন অধ্যায় শুরু হতে পারে।




