যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক এবং কৌশলগত তৎপরতা হঠাৎ নতুন মাত্রা পেয়েছে — কারিবীয় সাগরে বিশাল নৌবহর ও বিমান বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে, এবং প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দেখা যাচ্ছে যে Donald Trump প্রশাসন Venezuelaর সামরিক ঘাঁটিগুলোকে সম্ভাব্য আঘাতের লক্ষ্যে রাখছে। এই প্রস্তুতির পেছনে মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ভেনেজুয়েলা সরকারের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ—পৃথিবীর এক অন্যতম বৃহৎ কোকেইন রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে কার্টেল এবং ন্য«রো-ট্রাফিকিং কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট রয়েছে ভেনেজুয়েলা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই সাগরপথে ১৪টিরও বেশি সন্দেহভাজন মাদকের জাহাজ ধ্বংস করেছে এবং কারিবীয় এলাকায় প্রায় ১০ হাজার সৈন্য, একাধিক যুদ্ধজাহাজ, একটি কর্মকর্তা ক্যারিয়র (যেমন USS Gerald R. Ford) এনে মোতায়েন করেছে।
এই সব প্রস্তুতি শুধুই নৌ কার্যক্রম নয়, বরং বিশ্লেষকরা মনে করছেন ভয় রয়েছে যে এটি এখন সামরিক স্থল হামলার দিকে ধাবিত হচ্ছে। উপরে উল্লিখিত প্রায় ৩০০–৪০০ কিমি উপকূলে মার্কিন যুুদ্ধবহর দেখা গেছে ও স্যাটেলাইট ছবিতে দেখানো হয়েছে যেসব জাহাজ এবং বিমান ক্যারিয়ার খুব কাছাকাছি রয়েছে ভেনেজুয়েলা উপকূলের।

1 Nov 2025 | Pic: Collected
ভেনেজুয়েলার নেতৃবৃন্দ ইতিমধ্যেই সতর্কবার্তা দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি Nicolás Maduro ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে এইসব অভিযান শুধু “মাদকের বিরুদ্ধে” নয়, বরং আসলে একটি রিজিম চেঞ্জ অপারেশনের প্রস্তুতি। মাদুরোর সমর্থকরা মনে করছেন যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার প্রাকৃতিক সম্পদ — তেল, গ্যাস, খনিজ — নিয়ে নিয়ন্ত্রণ নেয়ার উদ্দেশ্যে এই প্রস্তুতি নিচ্ছে।
যুদ্ধ-বিশ্লেষকরা বলছেন ভেনেজুয়েলার সামরিক অবস্থা দুর্বল: দীর্ঘ বছর অর্থনীতি সংকট, অব্যবস্থাপনা ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণে তার সামরিক সক্ষমতা মাত্র ৩০–৪০ শতাংশ ধাঁচে রয়েছে। অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্র যদি সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে সংক্ষিপ্ত সময়ে বড় ধরনের আঘাত দেওয়া সম্ভব বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে পুরোপুরি স্থল অভিযান চালানোর সম্ভাবনা এখনও কম বলেই বিশেষজ্ঞরা অনুমান করছেন।
এর মাঝে যুক্তরাষ্ট্রের অফিসিয়াল মত হলো—এই সব মোতায়েন মূলত কার্তেল এবং ন্যারো ট্রাফিকিং প্রতিরোধে। তবে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বলছে, “কার্তেল বিরোধী অভিযান” থেকে একধাপ এগিয়ে, এটি এখন রাজনৈতিক এবং সামরিক হুমকিতে পরিণত হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতের সম্ভাব্যতা ও প্রভাব ব্যাপক। প্রথমত, যদি যুক্তরাষ্ট্র স্থল বা হাওয়ার হামলা চালায়, তাহলে তা হবে লাতিন আমেরিকার জন্য এক বড় নিরাপত্তাজনিত সংকট। ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ অস্থিতিশীলতা আরও বাড়তে পারে, শরণার্থী স্রোত বিপুল রূপ নিতে পারে এবং বৃহত্তর বড়-রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে। দ্বিতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যমণি ও দক্ষিণ কারিবীয় অঞ্চলে তার সামরিক উপস্থিতি বাড়লে, তা রাশিয়া ও চীনের মতো শক্তিগুলোর জন্য একটি উত্তেজনার কারণ হতে পারে—যেমন এই অঞ্চলে রুশ উপগ্রহ সিস্টেম বা চীনের কার্যক্রম। তৃতীয়ত, আন্তরাষ্টীয় আইন, সশস্ত্র হস্তক্ষেপ ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নও নতুনভাবে সামনে আসবে—বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র কোন আইন বা অনুমোদনের মাধ্যমে এই অভিযান চালাবে, তা স্পষ্ট নয়।
ভেনেজুয়েলার সাধারণ মানুষ ইতিমধ্যেই উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছে। তিনি বলছেন, তারা শুধু রাজনৈতিক লড়াইয়ের মধ্যে পড়ছেন না, তাদের তো নিরাপত্তা, জীবিকা, খাদ্য ও রপ্তানির ওপরও প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকা, উপকূলীয় শহরগুলোতে সেনাবাহিনী ও মিলিশিয়া সক্রিয় হয়ে উঠছে। তাছাড়া যুক্তরাষ্ট্র-মিলিটারির এই ধাপ নিলে গঠনমূলক শান্তি বা আলোচনা-প্রচেষ্টাও ঝুঁকিতে পড়বে বলে অনেক বিশ্লেষক বলছেন।
উপসংহারে বলা যায় যে, এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্র-ভেনেজুয়েলা পরিস্থিতি শুধু এক দেশীয় সংকট নয়, এটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা, যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া-চীন গেম এবং নিয়ন্ত্রিত মাদকের ব্যবসার বিরুদ্ধে আক্ষরিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। এই সময়ের সিদ্ধান্তগুলো গৃহীত হলে আগামী দশকে লাতিন আমেরিকার রাজনৈতিক ভূ-দৃশ্য পাল্টে যেতে পারে। শুধু যুদ্ধ নয়, অর্থনীতি, মানবাধিকার এবং আন্তর্জাতিক আইন—সবগুলোর ওপর গভীর প্রভাব পড়বে। এমন এক সময়, যেখানে প্রতিটি হামলা বা প্রতিক্রিয়া শুধু সামরিক নয়, তা হবে একবারের জন্য ইতিহাসের মাইলফলক। নিম্নলিখিত ঘটনাগুলো চোখে রাখতে হবে: যুক্তরাষ্ট্র কি একপক্ষীয় হামলা করবে,Congress বা জাতিসংঘ এই বিষয়ে কী ভূমিকা নেবে, ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ প্রতিরোধ-যাত্রা কতটা সক্ষম হবে, এবং সর্বোপরি লাতিন আমেরিকার সাধারণ মানুষকে কীভাবে রক্ষা করা যাবে।




