মালয়েশিয়ায় চরমপন্থা ও সন্ত্রাসবাদ-সম্পর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ৩৬ জন বাংলাদেশিকে আটক করেছে দেশটির পুলিশ। গত ২৪ এপ্রিল থেকে সেলাঙ্গর ও জোহর রাজ্যে তিন ধাপে পরিচালিত এক নিরাপত্তা অভিযানে এদের আটক করা হয়। মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক সেরি সাইফুদ্দিন নাসুশন ইসমাইল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মালয়েশিয়ার স্বনামধন্য সংবাদমাধ্যম Harian Metro এই রিপোর্ট প্রকাশ করেছে শুক্রবার (২৭ জুন)।

Source: Jugantor | 27 June 2025 | Pic: Collected
আটকদের মধ্যে পাঁচজনের বিরুদ্ধে ‘শাহ আলম’ এবং ‘জোহর বাহরু’ সেশন কোর্টে সন্ত্রাসবাদ-সম্পর্কিত অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। এছাড়া ১৫ জনকে নির্বাসনের (ডিপোর্টেশন) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাকি ১৬ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং আইএসের (Islamic State) সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “মালয়েশিয়া কখনোই কোনো উগ্রবাদী সংগঠন বা বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীর ট্রানজিট কেন্দ্র হতে পারে না। আমরা এর বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে বিশ্বাসী।” তিনি পুলিশ বিশেষ শাখার দক্ষতা ও দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করেন।
এদিকে, অভিবাসী কর্মীদের সুরক্ষা জোরদারে মালয়েশিয়া সরকার এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী অক্টোবর থেকে সব বৈধ বিদেশি কর্মীদের জন্য Employees Provident Fund (EPF) বা কর্মী প্রভিডেন্ট ফান্ড বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। তবে গৃহকর্মীদের এই নিয়মের বাইরে রাখা হয়েছে। বর্তমানে এটি স্বেচ্ছাসেবী ভিত্তিতে ছিল।
ইপিএফ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিদেশি শ্রমিকদের পাসপোর্ট এবং বৈধ ওয়ার্ক পারমিট থাকলে তাদের মাসিক বেতনের ২ শতাংশ করে কেটে প্রভিডেন্ট ফান্ডে জমা দেওয়া হবে—একই হারে নিয়োগকর্তারাও অবদান রাখবেন। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য সরকার ইতোমধ্যে ৩০টিরও বেশি স্টেকহোল্ডার মিটিং সম্পন্ন করেছে। অংশ নিয়েছে মালয়েশিয়ান ম্যানুফ্যাকচারার্স ফেডারেশন (FMM), স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ইমিগ্রেশন বিভাগ (JIM), এনজিও ও বিদেশি শ্রমিক সংগঠন।
সরকারি সংবাদ সংস্থা Bernama এর তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম গত বছর বাজেট ঘোষণায় বলেছিলেন, “জাতীয়তার ভিত্তিতে বৈষম্য নয়, আন্তর্জাতিক মানে সবার জন্য সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।” সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই নতুন এই আইনটি কার্যকর হতে যাচ্ছে।
ইপিএফ সব নিয়োগকর্তাদের www.kwsp.gov.my ওয়েবসাইটে রেজিস্ট্রেশন করার আহ্বান জানিয়েছে। এছাড়া প্রয়োজনে ০৩-৮৯২২-৬০০০ নম্বরে যোগাযোগ করেও তথ্য নেওয়া যাবে।
এই দুই ঘটনার প্রেক্ষিতে মালয়েশিয়ায় কর্মরত অভিবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। একদিকে চরমপন্থার অভিযোগে অভিযান, অন্যদিকে আইন অনুযায়ী আর্থিক সঞ্চয়ের নতুন চাপ। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত ও বিদেশি কর্মীদের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এ সিদ্ধান্ত এক ইতিবাচক পদক্ষেপ।”




